বিদেশি কর্মীদের ভিসা নিয়ম আরও কঠোর করছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত নিয়ম আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। নতুন প্রস্তাবিত নিয়ম চূড়ান্তভাবে কার্যকর হলে চাকরি হারানোর পর নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার জন্য বিদেশি কর্মীদের যে ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বর্তমানে রয়েছে, তা বাতিল হতে পারে। এতে চাকরি শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের বৈধতা ধরে রাখার সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বা ডিএইচএস বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে একটি প্রস্তাবিত সরকারি নোটিশ ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করেছে। প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট পক্ষ ও সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়ার পর নিয়মটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে আপাতত বিদেশি কর্মীদের জন্য প্রচলিত ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বহাল রয়েছে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত কোনো বিদেশি নাগরিক চাকরি হারালে নির্দিষ্ট শর্তের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত দেশটিতে অবস্থান করতে পারেন। এই সময়ের মধ্যে তারা নতুন চাকরি বা স্পন্সর খুঁজে নেওয়া, ভিসার বৈধতা বজায় রাখার ব্যবস্থা করা কিংবা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পান। দীর্ঘদিন ধরে এই সময়সীমা দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা হিসেবে কাজ করে আসছে।

তবে নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে চাকরি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের বৈধতা শেষ হয়ে যেতে পারে। তখন তাকে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে। পরে কোনো নতুন নিয়োগকর্তা ওই কর্মীকে নিয়োগ করতে চাইলে নিজ দেশ থেকে নতুন করে ভিসা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

নতুন প্রস্তাবের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে এইচ-১বি ভিসাধারীদের ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও প্রকৌশল খাতে দীর্ঘদিন ধরে এই ভিসার ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ভারত ও চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক দক্ষ প্রকৌশলী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য পেশাজীবী এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করছেন।

চাকরি হারানোর পর নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ খোঁজার জন্য সময় কমে গেলে এসব কর্মীর ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। নতুন চাকরি খুঁজে নেওয়ার পাশাপাশি নিয়োগকর্তা পরিবর্তনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হয়। ফলে ৬০ দিনের সুযোগ না থাকলে অনেক কর্মীকেই চাকরি হারানোর পর দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।

এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও পরামর্শক খাতেও পড়তে পারে। বিদেশি দক্ষ কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল বিভিন্ন বৈশ্বিক প্রযুক্তি, পরামর্শক ও আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানকে কর্মী নিয়োগ ও ধরে রাখার ক্ষেত্রে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানের বড় কর্মীবাহিনী এইচ-১বি ভিসার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করে, তাদের জন্য নতুন নিয়মটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

প্রস্তাবিত পরিবর্তন শুধু এইচ-১বি ভিসায় সীমাবদ্ধ নয়। ডিএইচএসের নোটিশ অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের কর্মসংস্থান ও পেশাজীবী ভিসাও নতুন ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ই-১ ও ই-২ ভিসা, যা নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগভিত্তিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ও ব্যবস্থাপকদের জন্য ব্যবহৃত এল-১ ভিসাও এর আওতায় পড়তে পারে।

এ ছাড়া বিজ্ঞান, শিক্ষা ও শিল্পকলায় বিশেষ দক্ষতার অধিকারীদের জন্য ব্যবহৃত ও-১ ভিসা, উত্তর আমেরিকার নির্দিষ্ট পেশাজীবীদের জন্য ব্যবহৃত টিএন ভিসা এবং নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য কয়েকটি বিশেষ কর্মী ভিসাও প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আওতায় আসতে পারে। এর মধ্যে সিঙ্গাপুর ও চিলির নাগরিকদের এইচ-১বি১ এবং অস্ট্রেলিয়ার দক্ষ কর্মীদের জন্য ব্যবহৃত ই-৩ ভিসার কথাও রয়েছে।

ডিএইচএসের যুক্তি হলো, বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ ও অবস্থানের নিয়ম কঠোর হলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে। সরকারি অবস্থান অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বল্পমেয়াদে কর্মী ব্যবস্থাপনায় জটিলতার মুখে পড়তে হলেও দীর্ঘমেয়াদে সমযোগ্যতার মার্কিন নাগরিকদের নিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি পেতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থার ওপরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। নতুন প্রস্তাবকে সেই বৃহত্তর নীতিরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের দৃষ্টিতে বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের নিয়ম আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হলে স্থানীয় শ্রমবাজারে মার্কিন নাগরিকদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা সহজ হতে পারে।

তবে বিদেশি কর্মীদের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখা হচ্ছে। একটি চাকরি হারানোর পর নতুন চাকরি খোঁজার জন্য সময় না থাকলে দক্ষ পেশাজীবীদের অনেকেই হঠাৎ করে দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে পারেন। এতে তাদের পরিবার, সন্তানদের শিক্ষা, বাসস্থান, আর্থিক দায়বদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে যারা বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, তাদের জন্য চাকরি হারানোর সঙ্গে সঙ্গে দেশ ছাড়ার সম্ভাবনা বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

এ ছাড়া নিয়োগদাতাদের ওপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কোনো দক্ষ কর্মী চাকরি হারানোর পর যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই অন্য প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সুযোগ না পেলে প্রতিষ্ঠানগুলো অভিজ্ঞ কর্মী নিয়োগে বাড়তি প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়তে পারে। বিদেশ থেকে নতুন করে কর্মী আনার ক্ষেত্রে সময় ও ব্যয় দুটোই বাড়তে পারে।

তবে এসব সম্ভাব্য প্রভাব এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। কারণ ডিএইচএসের প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত নিয়মে পরিণত হয়নি। প্রস্তাবটি নিয়ে নির্ধারিত সময়জুড়ে জনমত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত নেওয়া হবে। এরপর প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা করে প্রশাসন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

অর্থাৎ আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত এইচ-১বি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ভিসাধারীদের জন্য ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ডের নিয়মই কার্যকর রয়েছে। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হওয়ার আগে আরও পরিবর্তন, সংশোধন বা ব্যতিক্রম যুক্ত হতে পারে। ফলে বিদেশি কর্মীদের জন্য এখনই ৬০ দিনের সুবিধা বাতিল হয়ে যাচ্ছে—এমনটি বলা যাবে না।

তবে প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের কর্মসংস্থান ও ভিসা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতে ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশের পেশাজীবীদের ওপর এর প্রভাব বেশি পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বিদেশি কর্মী নিয়োগের কৌশল নতুন করে পর্যালোচনা করতে হতে পারে।

সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত পরিবর্তনটি যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার, প্রযুক্তি খাত এবং বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থায় নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। একদিকে মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের আকস্মিকভাবে কর্মসংস্থান ও বসবাসের অধিকার হারানোর ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন জনমত গ্রহণ ও প্রশাসনিক পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্টদের।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

ছাত্র উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ নুরের

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পত্তি আইন বাতিলের দাবিতে ইসলামি দলগুলোর বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

কঙ্গোর স্কুলে ভয়াবহ আগুন, পদদলনে ২৯ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

মদ্যপ অবস্থায় মাকে মারধরের দায়ে ছেলের ৬ মাসের কারাদণ্ড

প্রকাশ:  ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

ছাত্র উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ নুরের

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পত্তি আইন বাতিলের দাবিতে ইসলামি দলগুলোর বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

কঙ্গোর স্কুলে ভয়াবহ আগুন, পদদলনে ২৯ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

মদ্যপ অবস্থায় মাকে মারধরের দায়ে ছেলের ৬ মাসের কারাদণ্ড

প্রকাশ:  ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটের মাদ্রাসায় আরও শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ

প্রকাশ:১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের...

আগামীকাল নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন শুরু

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

শরিয়ার দোহাই দিয়ে বাবা-মায়ের অধিকার রক্ষার আইনের বিরোধিতা কেন

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ