গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এনবিআরের কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের রুল খারিজ করে আদালত এ নির্দেশ দেন। ফলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এনবিআরের উত্থাপিত কর দাবিই বহাল থাকল।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতের এ সিদ্ধান্তের ফলে তিন অর্থবছরকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ কল্যাণের ওপর এনবিআরের যে কর দাবি ছিল, তা কার্যকর হওয়ার পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল। তবে ঠিক কী সময়ের মধ্যে ওই অর্থ পরিশোধ করতে হবে, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এনবিআরের কর দাবির বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণ ২০১৭ সালে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এনবিআরের দাবি করা কর না দেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর সেই রিটের ওপর জারি করা রুলের শুনানি শেষে আদালত তা খারিজ করে দেন। এর মধ্য দিয়ে এনবিআরের দাবিকৃত ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের বিষয়টি আদালতের রায়ে সমর্থন পেল।

গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী খাজা তানভীর গণমাধ্যমকে বলেন, এনবিআরের যে কর দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছিল, আদালত সেই রুল খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে এনবিআরের দাবিই বহাল থাকল। তবে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রায়ের পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে খাজা তানভীর বলেন, তারা হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। এ বিষয়ে মক্কেলের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থাৎ হাইকোর্টের রায়ের পরও বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় আরও এগোতে পারে।

তিনি আরও জানান, ৬৬৬ কোটি টাকা ঠিক কবে নাগাদ পরিশোধ করতে হবে, সে বিষয়ে এখনই চূড়ান্তভাবে বলা যাচ্ছে না। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর অর্থ পরিশোধের সময়সীমা এবং অন্যান্য নির্দেশনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

গ্রামীণ কল্যাণের বিরুদ্ধে এনবিআরের কর দাবির বিষয়টি নতুন নয়। কয়েক বছর ধরে এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ও রাজস্ব কর্তৃপক্ষের মধ্যে আইনি বিরোধ চলে আসছে। ২০১৭ সালে হাইকোর্টে দায়ের করা রিটের মধ্য দিয়ে বিষয়টি আদালতের গণ্ডিতে প্রবেশ করে। এরপর সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও আইনি অবস্থান পর্যালোচনার মাধ্যমে মামলাটি দীর্ঘ সময় ধরে বিচারাধীন ছিল।

এ ধরনের কর-সংক্রান্ত মামলায় একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর রাজস্ব কর্তৃপক্ষের দাবি এবং সেই দাবির আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়। করদাতা প্রতিষ্ঠান কোনো দাবিকে আইনসংগত মনে না করলে তা আদালতে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ পায়। একইভাবে রাজস্ব কর্তৃপক্ষও নিজেদের হিসাব ও আইনি অবস্থান আদালতে উপস্থাপন করে। গ্রামীণ কল্যাণের ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি আইনি প্রক্রিয়া চলেছে।

হাইকোর্টের সর্বশেষ রায়ের ফলে এখন এনবিআরের দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ ও কর পরিশোধের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ৬৬৬ কোটি টাকা একটি বড় অঙ্ক হওয়ায় এ রায় প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও পরবর্তী আইনি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আপিল বিভাগে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে পরবর্তী সময়ে মামলার অবস্থান পরিবর্তিত হতে পারে। তাই পূর্ণাঙ্গ রায় এবং উচ্চতর আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত পুরো বিষয়টির চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কে সতর্কতার সঙ্গে অপেক্ষা করতে হবে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে গ্রামীণ কল্যাণের সম্পর্কের কারণে মামলাটি জনপরিসরেও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তবে আদালতের রায়ে করদাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির দায়ের বিষয়টিই মূল বিষয়। ফলে গ্রামীণ কল্যাণের ওপর আরোপিত করের দাবি এবং ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত করদায়কে একই বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। হাইকোর্টের রায় মূলত গ্রামীণ কল্যাণকে ঘিরে এনবিআরের কর দাবির বৈধতা নিয়ে দায়ের করা মামলার নিষ্পত্তির সঙ্গে সম্পর্কিত।

এদিকে আদালতের রায়ের পর প্রতিষ্ঠানটির সামনে এখন দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে—একদিকে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী কর দাবির বিষয়টি মোকাবিলা করা, অন্যদিকে রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সম্ভাবনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া। প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, আপিল বিভাগে যাওয়ার বিষয়ে মক্কেলের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ফলে আইনি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপই এখন নজর কাড়ছে।

কর পরিশোধের সময়সীমা, অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি এবং রায়ের বিস্তারিত নির্দেশনা পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্পষ্ট হওয়ার কথা। একই সঙ্গে আপিল করা হলে উচ্চতর আদালতে এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এর আগে হাইকোর্টে দীর্ঘদিন ধরে চলা মামলাটির রায়কে এনবিআরের কর দাবির পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে গ্রামীণ কল্যাণের ওপর ৬৬৬ কোটি টাকা কর দাবির বিরোধটি এখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। হাইকোর্টের রায়ে এনবিআরের দাবি বহাল থাকলেও গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষ থেকে আপিলের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বহু বছর ধরে চলা এই কর-সংক্রান্ত আইনি বিরোধের শেষ পরিণতি জানতে এখন পূর্ণাঙ্গ রায় এবং পরবর্তী বিচারিক পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

শরিয়ার দোহাই দিয়ে বাবা-মায়ের অধিকার রক্ষার আইনের বিরোধিতা কেন

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর ঘিরে প্রস্তুতি জানালেন সিসিক প্রশাসক

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

১৮ সেপ্টেম্বর বাজারে আসছে আইফোন ১৮ প্রো

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

চুনারুঘাটে অটোরিকশা উল্টে ব্যবসায়ী নিহত

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

এসএসসি পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ আজ

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

শরিয়ার দোহাই দিয়ে বাবা-মায়ের অধিকার রক্ষার আইনের বিরোধিতা কেন

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর ঘিরে প্রস্তুতি জানালেন সিসিক প্রশাসক

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

১৮ সেপ্টেম্বর বাজারে আসছে আইফোন ১৮ প্রো

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

চুনারুঘাটে অটোরিকশা উল্টে ব্যবসায়ী নিহত

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

এসএসসি পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ আজ

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

এই সংসদে বেশিরভাগ এমপিই ঋণ খেলাপি: রুমিন ফারহানা

প্রকাশ:১০ সেপ্টেম্বর  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের...

ছেলেকে দেখার আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ রেখেই চলে গেলেন চিন্ময়ের মা

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না তারেক রহমান

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ