প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর সিলেট জেলা সফরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তার প্রথম সিলেট সফর হওয়ায় এ সফরকে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক মহল এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সফরটি সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়ে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সফর উপলক্ষে বুধবার সিলেট সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বিশেষ প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় রাষ্ট্রপতির আগমন থেকে শুরু করে সফর শেষে সিলেট ত্যাগ পর্যন্ত সার্বিক ব্যবস্থাপনা কীভাবে আরও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি রাষ্ট্রপতির সিলেট সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে সফর সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে সিলেটের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। রাষ্ট্রপতি সফরকালে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। পাশাপাশি স্থানীয় নাগরিক ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের কর্মসূচিও রয়েছে। এ কারণে সফরটি শুধু একটি রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি নয়, বরং সিলেটবাসীর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সরাসরি যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ বলেও তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির কর্মসূচিতে সিলেটের বিশিষ্ট নাগরিক, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে আমন্ত্রণ ও অংশগ্রহণের বিষয়টি যথাযথভাবে সমন্বয় করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে পাওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। রাষ্ট্রপতির সিলেটে প্রবেশের সময় থেকে সফর শেষে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি কর্মসূচি যেন নির্ধারিত সময় ও শৃঙ্খলার মধ্যে সম্পন্ন হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
সফরকে ঘিরে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রয়োজনীয় তালিকা প্রস্তুত এবং আমন্ত্রণপত্র বিতরণের কাজও যথাযথভাবে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে মতবিনিময় ও নাগরিক সংবর্ধনায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি রাষ্ট্রপতির সফরকে সামনে রেখে প্রশাসনের প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কোনো সফর সফল করতে প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সিটি করপোরেশন, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন বলে সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতে নিরাপত্তা, চলাচল, অনুষ্ঠানস্থল ব্যবস্থাপনা, নাগরিকদের অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন কর্মসূচির সমন্বয়সহ সফরের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। রাষ্ট্রপতির সফরের সময় যাতে সাধারণ মানুষের চলাচল ও নাগরিক সেবায় অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি তৈরি না হয়, সে বিষয়টিও সমন্বয়ের অংশ হিসেবে গুরুত্ব পেতে পারে।
রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতেও প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে। বিশেষ করে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের কর্মসূচি থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও ধর্মীয় আবহ—দুই দিক বিবেচনায় রেখেই কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সিলেটের জন্য রাষ্ট্রপতির এই সফরের আরেকটি তাৎপর্য হলো স্থানীয় নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা, সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এ ধরনের মতবিনিময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সিলেটের শিক্ষা, পর্যটন, প্রবাসী আয়, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান ও নাগরিক অবকাঠামোসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ের মানুষের প্রত্যাশা রয়েছে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নাগরিক ও সুধীজনদের মতবিনিময়ে এসব বিষয় উঠে আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সিলেট দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতি, প্রবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল এবং পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বিপুলসংখ্যক সিলেটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করেন এবং তাদের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। একই সঙ্গে শাহজালাল ও শাহপরানের মাজার, জাফলং, রাতারগুলসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের কারণে সিলেটের আলাদা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিচিতি রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের আগ্রহের পেছনে শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, নিজেদের অঞ্চল ও মানুষের বিভিন্ন প্রত্যাশা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তুলে ধরার আকাঙ্ক্ষাও কাজ করছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমান, অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ এনামুল হক, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম এবং জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম।
এ ছাড়া সভায় মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির সফরে সরকারি প্রশাসন ও স্থানীয় সামাজিক-রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
সফরকে সামনে রেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, তাতে নিরাপত্তা ও আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি নাগরিক অংশগ্রহণকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে মতবিনিময়ে সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে তালিকা প্রস্তুত ও আমন্ত্রণ জানানোর কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফলে ১৫ সেপ্টেম্বরের সফরটি সিলেটবাসীর কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় আয়োজন হিসেবে সামনে আসছে।
রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর সফল করতে এখন মূল লক্ষ্য নির্ধারিত কর্মসূচিগুলো সময়ানুবর্তিতা, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পন্ন করা। প্রশাসনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করলে সফরটি নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। রাষ্ট্রপতির আগমনকে কেন্দ্র করে সিলেটের মানুষের মধ্যে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা একটি সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণমূলক আয়োজনের মধ্য দিয়ে ইতিবাচক অভিজ্ঞতায় রূপ নেবে—এমন প্রত্যাশাই এখন সংশ্লিষ্টদের।


