মহাসড়কে স্লিপার বাস চালানো যাবে না: হাইকোর্ট

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

মহাসড়কে স্লিপার বাস চলাচলের অনুমতি চেয়ে বাসমালিকদের সংগঠনের করা আবেদনে সাড়া দেয়নি হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অনুমোদন রয়েছে—এমন বাসই কেবল নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সড়কে চলাচল করতে পারবে। অনুমোদন ছাড়া স্লিপার বাস মহাসড়কে চালানোর সুযোগ নেই।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতের এ সিদ্ধান্তের ফলে মহাসড়কে অননুমোদিত স্লিপার বাস চলাচলের বিষয়ে যে আইনি প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত স্পষ্ট হয়েছে।

আদালতে বিআরটিএর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. রাফিউল ইসলাম। শুনানি শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, স্লিপার বাসমালিক অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে মহাসড়কে স্লিপার বাস চালানোর বিষয়ে একটি আবেদন করা হয়েছিল। তবে সড়ক পরিবহন আইন ও বিদ্যমান কারিগরি বিধিমালার বিষয়গুলো আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়।

আইনজীবী বলেন, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৪০ ধারায় যানবাহনের কারিগরি স্পেসিফিকেশন বা নির্ধারিত কারিগরি বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিধান রয়েছে। কোনো যানবাহন নির্ধারিত কারিগরি বৈশিষ্ট্য লঙ্ঘন করলে তা আইনের আওতায় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট ধারায় শাস্তির বিধান রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ২৮ ধারায় রুট পারমিটের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। রুট পারমিট ছাড়া কোনো গাড়ি আইনানুগভাবে সড়কে চলাচল করতে পারে না। ফলে কোনো ধরনের বাস মহাসড়কে চলাচল করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ করা প্রয়োজন।

আদালতের বক্তব্য তুলে ধরে বিআরটিএর আইনজীবী বলেন, বিআরটিএ যেসব বাসকে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, সেগুলোই রাস্তায় চলাচল করতে পারবে। স্লিপার বাসের ক্ষেত্রে অনুমোদনের বিষয়টি না থাকায় হাইকোর্টও এ ধরনের বাস চলাচলের জন্য আলাদা কোনো অনুমতি দেননি।

স্লিপার বাস সাধারণত দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে শোয়ার বা আধাশোয়া অবস্থায় ভ্রমণের সুবিধা দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে নকশা করা হয়ে থাকে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া যাত্রীদের আরাম দেওয়ার উদ্দেশ্যে এ ধরনের বাসে প্রচলিত আসনের পরিবর্তে শয্যাসদৃশ ব্যবস্থা থাকে। দেশের বিভিন্ন রুটে যাত্রীদের মধ্যে এ ধরনের বাসের প্রতি আগ্রহ তৈরি হলেও সড়কে এর বৈধতা, কারিগরি কাঠামো ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে।

মহাসড়কে স্লিপার বাস চলাচলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এর আগে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। আইনজীবী মুহাম্মদ হুজ্জাতুল ইসলাম খান রিটটি দায়ের করেন। আবেদনে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে অননুমোদিত স্লিপার বাস চলাচলের ওপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছিল।

রিট আবেদনের পেছনে মূল উদ্বেগ ছিল মহাসড়কে এমন যানবাহন চলাচল করছে কি না, যেগুলো নির্ধারিত কারিগরি বৈশিষ্ট্য ও অনুমোদনের শর্ত পূরণ করে না। যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে নতুন ধরনের যানবাহন চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটির কাঠামো, নিরাপত্তা, অনুমোদন এবং সড়ক ব্যবহারের উপযোগিতা যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে মহাসড়কে উচ্চগতির যানবাহনের ক্ষেত্রে এসব বিষয় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী যানবাহনের নিবন্ধন, ফিটনেস, রুট পারমিট এবং কারিগরি বৈশিষ্ট্যের বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের সঙ্গে যুক্ত। কোনো যানবাহন এসব শর্ত পূরণ না করলে সেটি সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতার মুখে পড়তে পারে। আদালতের সাম্প্রতিক আদেশেও অনুমোদনের বিষয়টিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিআরটিএর আইনজীবী শুনানিতে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর বিভিন্ন বিধানের বিষয় আদালতের সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান, নির্ধারিত কারিগরি স্পেসিফিকেশন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আইনে অপরাধ ও শাস্তির বিধান রয়েছে। আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং তিন লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে বলে তিনি আদালতকে জানান।

অন্যদিকে রুট পারমিটের বিষয়টিও এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোনো একটি বাস নির্দিষ্ট রুটে চলাচলের জন্য অনুমোদিত হলেও তার অর্থ এই নয় যে, যেকোনো ধরনের পরিবর্তিত কাঠামো বা কারিগরি বৈশিষ্ট্য নিয়ে সেটি একইভাবে চলাচল করতে পারবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ করা প্রয়োজন। এ কারণে স্লিপার বাসের ক্ষেত্রে পৃথক অনুমোদন ও কারিগরি বৈশিষ্ট্যের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

সাধারণ যাত্রীদের জন্যও আদালতের এ আদেশের তাৎপর্য রয়েছে। দূরপাল্লার যাত্রায় আরাম ও সুবিধার পাশাপাশি নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যাত্রীরা কোনো বাসে টিকিট কেনার সময় সাধারণত বাসটির অভ্যন্তরীণ সুবিধা, ভাড়া, যাত্রার সময় এবং আরামকে গুরুত্ব দেন। কিন্তু বাসটির বৈধ অনুমোদন, ফিটনেস ও কারিগরি নিরাপত্তা ঠিক আছে কি না, তা সবসময় তাদের পক্ষে যাচাই করা সম্ভব হয় না।

ফলে পরিবহন খাতে নতুন ধরনের বাস চালু হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হলো সেটির কারিগরি সক্ষমতা ও নিরাপত্তা যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে পরিবহন মালিক ও পরিচালকদেরও বিদ্যমান আইন ও বিধি মেনে চলতে হবে। এতে একদিকে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে পরিবহন খাতে আইনি শৃঙ্খলা বজায় থাকবে।

স্লিপার বাসের মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের জন্যও আদালতের এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা যদি এ ধরনের বাস মহাসড়কে পরিচালনা করতে চান, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি শর্ত পূরণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। আদালতের আদেশের বাইরে গিয়ে অনুমোদনহীনভাবে কোনো বাস পরিচালনা করা হলে তা আইনগত জটিলতা তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। অতিরিক্ত গতি, চালকের অসতর্কতা, যানবাহনের ত্রুটি, ফিটনেস সমস্যা এবং সড়কে নিয়ম না মানার মতো বিভিন্ন কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। এ বাস্তবতায় নতুন ধরনের যানবাহন সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে অনুমোদন ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হাইকোর্টের সাম্প্রতিক আদেশে মূলত অনুমোদিত যানবাহন ছাড়া অন্য কোনো বাসকে মহাসড়কে চলাচলের সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। আদালত নিজে কোনো অননুমোদিত যানবাহনকে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার প্রয়োগ করেননি; বরং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

এখন স্লিপার বাস পরিচালনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মালিক ও কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকে নজর থাকবে। ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই এবং আইনগত অনুমোদনের মাধ্যমে এ ধরনের বাসের চলাচলের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সবশেষে, মহাসড়কে যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে আরাম যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নিরাপত্তা ও আইন মেনে চলা আরও গুরুত্বপূর্ণ। স্লিপার বাস নিয়ে হাইকোর্টের এই আদেশ সেই বিষয়টিই সামনে এনেছে। যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে পরিবহন মালিক, চালক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান—সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী নেবে ওমান

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয়-মেয়াদ বৃদ্ধি ঠেকাতে ১৩ পদক্ষেপ

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

আমিরাতকে হারিয়ে এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

রাষ্ট্রপতির এপিএস হলেন ফেঞ্চুগঞ্জের তৈমোর হোসেন

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী নেবে ওমান

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয়-মেয়াদ বৃদ্ধি ঠেকাতে ১৩ পদক্ষেপ

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

আমিরাতকে হারিয়ে এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

রাষ্ট্রপতির এপিএস হলেন ফেঞ্চুগঞ্জের তৈমোর হোসেন

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

স্থানীয় নির্বাচনে পুলিশকে বেআইনি নির্দেশনা দেবে না ইসি

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

রাষ্ট্রীয় নথিতে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

কিশোরীকে শিকল পরিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ