আমিরাতকে হারিয়ে এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

বাঁচা-মরার ম্যাচে দারুণ দৃঢ়তা দেখিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৩৪ রানে হারিয়ে মেয়েদের এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যাট হাতে কঠিন পরিস্থিতি সামলে বাংলাদেশ যে লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিল, পরে বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে সেটিই হয়ে ওঠে জয়ের ভিত্তি। আমিরাতের ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে রেখে শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৬৯ রানে আটকে দেয় বাংলাদেশের মেয়েরা।

এই জয়ের ফলে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সামনে এখন আরও বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী বৃহস্পতিবার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নিগার সুলতানা জ্যোতিদের প্রতিপক্ষ ভারতের নারী ক্রিকেট দল। এশিয়া কাপের ইতিহাসে অন্যতম সফল দল ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালের ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য হবে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের আরেকটি বড় সুযোগ।

দুবাইয়ের ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য ছিল কার্যত কোয়ার্টার ফাইনালের সমান। গ্রুপপর্বের সমীকরণে টিকে থাকতে এবং শেষ চারে জায়গা করে নিতে জয় ছাড়া বিকল্প ছিল না। এমন চাপের ম্যাচে শুরুটা অবশ্য মোটেও আশাব্যঞ্জক ছিল না বাংলাদেশের। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের শুরু থেকেই একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

ইনিংসের প্রথম ওভারেই কোনো রান করার আগেই সাজঘরে ফিরে যান ওপেনার দিলারা আক্তার। শুরুতেই বড় ধাক্কা খাওয়া বাংলাদেশকে কিছুটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন তিন নম্বরে নামা সোবহানা মোস্তারি। কিন্তু তিনিও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। মাত্র ৬ বলে ৩ রান করে বিদায় নেন তিনি। ফলে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশের ব্যাটিং।

অন্য প্রান্তে জুয়াইরিয়া ফেরদৌস উইকেটে টিকে থেকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু পাওয়ারপ্লেতে বাংলাদেশের রান তোলার গতি ছিল অত্যন্ত ধীর। প্রথম ছয় ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে মাত্র ২১ রান। টি-টোয়েন্টির দ্রুতগতির ক্রিকেটে এমন শুরু স্বাভাবিকভাবেই দলের জন্য বড় চাপ তৈরি করে।

পাওয়ারপ্লের পরও পরিস্থিতির খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি। রান বাড়ানোর চেষ্টা করতে গিয়ে ২০ বলে ১৬ রান করে আউট হন জুয়াইরিয়া। এরপর অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন। কিন্তু বড় ইনিংস খেলতে পারেননি তিনিও। ২৮ বলে ২৩ রান করে অধিনায়ক ফিরে গেলে বাংলাদেশের ইনিংস আবারও বড় ধাক্কা খায়।

এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশের মিডল অর্ডারে নেমে আসে ভয়াবহ ধস। স্বর্ণা আক্তার ও ফাহিমা খাতুন পরপর দুই বলে গোল্ডেন ডাকের শিকার হন। মাত্র ৫৫ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তখন চরম বিপর্যয়ে। একদিকে দ্রুত উইকেট পড়ছিল, অন্যদিকে স্কোরবোর্ডে রানও বাড়ছিল না। এমন অবস্থায় একশ রানের কাছাকাছি পৌঁছানোই কঠিন বলে মনে হচ্ছিল।

সেই কঠিন মুহূর্তে ব্যাট হাতে দলের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন শারমিন আক্তার সুপ্তা। পরিস্থিতির দাবি বুঝে একদিকে উইকেটে টিকে থাকেন, অন্যদিকে সুযোগ পেলেই আক্রমণাত্মক শট খেলেন তিনি। শেষ দিকে তার কার্যকর ব্যাটিং বাংলাদেশকে শুধু বিপর্যয় থেকে উদ্ধারই করেনি, বরং লড়াই করার মতো একটি স্কোরও এনে দিয়েছে।

সুপ্তা ৩১ বলে ৩৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসটি ছিল বাংলাদেশের পুরো ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে কার্যকর অধ্যায়। ইনিংসের শেষদিকে তার ব্যাটে আসা রানই দলকে একশ রানের সীমা অতিক্রম করতে সহায়তা করে। অন্যদিকে নাহিদা আক্তার ২৬ বলে ১৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। তাদের ব্যাটে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে সাত উইকেট হারিয়ে ১০৩ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

আমিরাতের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন সুরক্ষা কোট্টে। তিনি বাংলাদেশের তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে ব্যাটারদের ওপর নিয়মিত চাপ সৃষ্টি করেন। স্বাগতিক বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারণেই বাংলাদেশের রান ১০৩-এর মধ্যে আটকে ছিল। তবে বাংলাদেশের বোলাররা পরের ইনিংসে সেই ছোট সংগ্রহকেই যথেষ্ট করে তোলেন।

১০৪ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় সংযুক্ত আরব আমিরাত। বাংলাদেশের পেসার মারুফা আক্তার নতুন বল হাতে দুর্দান্ত শুরু এনে দেন। ইনিংসের প্রথম দিকেই জোড়া উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। ফলে লক্ষ্য তাড়ার শুরুতেই চাপে পড়ে যায় আমিরাত।

প্রথম কয়েক ওভারে উইকেট হারানোর পর আমিরাতের ব্যাটারদের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেয় বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ। পেস ও স্পিনের সমন্বিত আক্রমণে স্বাগতিক ব্যাটাররা নিয়মিত রান তুলতে ব্যর্থ হন। বাংলাদেশের বোলাররা একদিকে রান আটকে রাখেন, অন্যদিকে সুযোগ পেলেই উইকেট তুলে নেন। ফলে প্রয়োজনীয় রানরেট বাড়তে থাকলেও আমিরাতের ব্যাটিংয়ে সেই অনুযায়ী কোনো পাল্টা আক্রমণ দেখা যায়নি।

মাঝে হেনা হোতচান্দানি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তিনি দলের ইনিংসকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে খুব বেশি সময় টিকতে পারেননি। ১৮ রান করে তিনিই হন আমিরাতের ইনিংসের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। তার বিদায়ের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বাংলাদেশের হাতে চলে আসে।

বাংলাদেশের লেগস্পিনার রাবেয়া খান বল হাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন। তিনি তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে আমিরাতের ব্যাটিংয়ের ভিত নড়বড়ে করে দেন। তার সঙ্গে দলের অন্য বোলাররাও নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে স্বাগতিকদের ওপর চাপ ধরে রাখেন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৬৯ রানেই থেমে যায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইনিংস।

ফলে ৩৪ রানের ব্যবধানে গুরুত্বপূর্ণ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে বিপর্যয়ের পরও ম্যাচ থেকে নিজেদের ছিটকে যেতে দেয়নি তারা। সুপ্তার দায়িত্বশীল ইনিংস এবং পরে বোলারদের সম্মিলিত পারফরম্যান্স বাংলাদেশকে এনে দেয় প্রত্যাশিত জয়।

এই জয় বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য শুধু সেমিফাইনালে ওঠার সাফল্য নয়, চাপের ম্যাচে দলগতভাবে ঘুরে দাঁড়ানোরও একটি দৃষ্টান্ত। মাত্র ৫৫ রানে ছয় উইকেট হারানোর পরও ১০৩ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করানো এবং পরে প্রতিপক্ষকে ৬৯ রানে আটকে দেওয়া দলের মানসিক দৃঢ়তারই প্রমাণ দিয়েছে।

এখন বাংলাদেশের সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা। সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ ভারত—এশিয়া কাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দলগুলোর একটি। শক্তিশালী ভারতীয় দলের বিপক্ষে জিততে হলে বাংলাদেশের ব্যাটিংকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে এবং বোলারদেরও আমিরাতের ম্যাচের মতো নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স দেখাতে হবে।

তবে আমিরাতের বিপক্ষে পাওয়া জয় নিগার সুলতানা জ্যোতিদের আত্মবিশ্বাস নিঃসন্দেহে বাড়াবে। বিশেষ করে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সুপ্তার ব্যাটিং এবং রাবেয়া খানের বোলিং বাংলাদেশের জন্য বড় ইতিবাচক দিক। সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে এই আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের সামনে ফাইনালের দরজাও খুলে যেতে পারে।

বৃহস্পতিবারের ম্যাচ তাই বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের জন্য আরেকটি বড় পরীক্ষার মঞ্চ। আমিরাতের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াই পেরিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেওয়া দলটির সামনে এখন স্বপ্ন আরও বড়। ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে ভারতকে হারানোর কঠিন চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশের মেয়েরা কতটা নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী নেবে ওমান

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয়-মেয়াদ বৃদ্ধি ঠেকাতে ১৩ পদক্ষেপ

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

রাষ্ট্রপতির এপিএস হলেন ফেঞ্চুগঞ্জের তৈমোর হোসেন

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

মহাসড়কে স্লিপার বাস চালানো যাবে না: হাইকোর্ট

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী নেবে ওমান

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয়-মেয়াদ বৃদ্ধি ঠেকাতে ১৩ পদক্ষেপ

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

রাষ্ট্রপতির এপিএস হলেন ফেঞ্চুগঞ্জের তৈমোর হোসেন

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

মহাসড়কে স্লিপার বাস চালানো যাবে না: হাইকোর্ট

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

স্থানীয় নির্বাচনে পুলিশকে বেআইনি নির্দেশনা দেবে না ইসি

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

রাষ্ট্রীয় নথিতে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

কিশোরীকে শিকল পরিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ৩

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ