প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে র্যাবের অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ দুই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব-৯ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাদের কাছ থেকে ৩ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার দুজনকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিজয়নগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিজয়নগর উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের টানমনিপুর এলাকায় বিজয়নগর-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কের শিবিরের ব্রিজ এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে দুই নারী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পরে র্যাব সদস্যরা ধাওয়া করে তাদের আটক করেন।
গ্রেপ্তার হওয়া দুই নারী হলেন বিজয়নগর থানার গ্যারাগাঁও এলাকার মো. আজিজ মিয়ার স্ত্রী আকলিমা বেগম (৩৫) এবং একই এলাকার মো. আব্দুল সাত্তারের স্ত্রী মোছা. ইতি বেগম (৩০)।
র্যাব-৯ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুরে র্যাব-৯-এর সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি আভিযানিক দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে টানমনিপুর এলাকায় অভিযান শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ওই এলাকায় মাদক বহন ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছিল।
অভিযানের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন দুই নারীকে দেখতে পেয়ে র্যাব সদস্যরা তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন। র্যাবের উপস্থিতি বুঝতে পেরে তারা দ্রুত স্থান ত্যাগের চেষ্টা করলে সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে আটক করেন।
পরে আটক দুই নারীর কাছে থাকা বস্তু তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিতে ১০টি কালো ও নীল রঙের বায়ুরোধক পলি জিপার প্যাকেট পাওয়া যায়। এসব প্যাকেটের ভেতর থেকে মোট ৩ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
উদ্ধার হওয়া ইয়াবার পরিমাণ এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। র্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে গ্রেপ্তার দুজন এবং জব্দ করা মাদকদ্রব্য বিজয়নগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, গ্রেপ্তার দুই নারীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, উদ্ধার করা ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী মামলার পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
বাংলাদেশে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান দীর্ঘদিন ধরে চলমান রয়েছে। সীমান্তবর্তী ও যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে মাদক পাচার ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে সড়কপথ ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের অভিযোগ থাকায় বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি ও নজরদারি জোরদার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা প্রায়ই বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের চেষ্টা করেন। এ কারণে তথ্য সংগ্রহ এবং সন্দেহজনক গতিবিধির ওপর নজর রাখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিজয়নগরের সাম্প্রতিক এ অভিযানে দুই নারীকে গ্রেপ্তার এবং তাদের কাছ থেকে বিপুলসংখ্যক ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে মাদক নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
মাদকদ্রব্য শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না, এর প্রভাব পড়ে পরিবার ও সমাজের ওপরও। মাদকাসক্তির কারণে পারিবারিক অস্থিরতা, আর্থিক সংকট এবং নানা ধরনের সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে মাদক সরবরাহ ও পাচার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতারও গুরুত্ব রয়েছে।
র্যাব-৯ জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক পাচার ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি মাদক ব্যবসার নেপথ্যে থাকা চক্রগুলোকে শনাক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শুধু বহনকারী বা সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মাদকের উৎস, পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং বিতরণ ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা গেলে মাদক নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব।
বিজয়নগরের ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ৩ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা এবং গ্রেপ্তার দুই নারীর বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরবর্তী তথ্য সামনে আসতে পারে। মামলার তদন্তে মাদকগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং কোথায় নেওয়া হচ্ছিল, সে বিষয়েও অনুসন্ধান করা হতে পারে।
বর্তমানে গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে র্যাব। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হবে।
র্যাবের পক্ষ থেকে আবারও বলা হয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান চলমান থাকবে এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে। বিজয়নগরের শিবিরের ব্রিজ এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানকে মাদক পাচার প্রতিরোধে চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট বাহিনী।


