প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছেন সিলেটের দুই তরুণী। আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগের পাশাপাশি তারা পেয়েছেন প্রায় ৭৫ লাখ টাকার স্কলারশিপ। মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া এই বৃত্তি তাদের পরিবারে যেমন আনন্দের উপলক্ষ তৈরি করেছে, তেমনি সিলেটের তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও সৃষ্টি করেছে নতুন আশার সঞ্চার।
স্কলারশিপ পাওয়া দুই তরুণী হলেন সিলেট নগরীর খারপাড়া এলাকার বাসিন্দা বাচ্চু মিয়ার মেয়ে সুহানা আক্তার এবং জকিগঞ্জের আটগ্রাম-চারিগ্রাম এলাকার বাসিন্দা সাব্বির আহমদের মেয়ে নাফিসা সাব্বির চৌধুরী। উচ্চশিক্ষার জন্য চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন থেকে তারা প্রায় ৭৪ লাখ টাকার সমপরিমাণ ৬০ হাজার মার্কিন ডলারের বৃত্তি পেয়েছেন।
একই স্কলারশিপ পেয়েছেন হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস, যিনি জেমি নামেও পরিচিত। বৃত্তির আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা আগামী চার বছর এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন থেকে স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনা সম্পন্ন করার সুযোগ পাবেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য বড় অঙ্কের এই বৃত্তি অর্জনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সুহানার পরিবারে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যেও তাকে নিয়ে তৈরি হয়েছে গর্বের অনুভূতি। পরিবারের সদস্যরা মনে করছেন, সুহানার এই সাফল্য শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং সিলেটের শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের জন্যও একটি অনুপ্রেরণার উদাহরণ।
সুহানার ভাই সুজন আহমদ বলেন, মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্কলারশিপ অর্জন করে সুহানা তার বাবার মুখ উজ্জ্বল করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এই অর্জনকে তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সুহানার এই সাফল্যের পেছনে তার শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিক পরিশ্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে পরিবারের সদস্যরা মনে করছেন। উচ্চশিক্ষার জন্য শুধু একাডেমিক ফলাফল নয়, নিজের যোগ্যতা ও সম্ভাবনাকে প্রমাণ করার প্রয়োজন হয়। সেই প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় সফল হয়ে বৃত্তি অর্জন করাকে তাই পরিবারের কাছে বিশেষ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে জকিগঞ্জের নাফিসা সাব্বির চৌধুরীর সাফল্যের খবরেও তার পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে। প্রত্যন্ত বা মফস্বল এলাকার একজন শিক্ষার্থীর জন্য দেশের একটি স্বনামধন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বড় অঙ্কের স্কলারশিপ নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়া নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
নাফিসার স্বজন ও স্থানীয়দের ভাষ্য, তার এই সাফল্য শুধু পরিবারের জন্য গর্বের নয়; জকিগঞ্জের তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি বড় ধরনের অনুপ্রেরণা। অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আর্থিক সীমাবদ্ধতাকে বড় বাধা হিসেবে বিবেচনা করেন। নাফিসার মতো শিক্ষার্থীদের বৃত্তি অর্জনের ঘটনা তাদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে।
সাধারণত উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করা অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে চার বছর ধরে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা, থাকা-খাওয়া, শিক্ষা উপকরণ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটানো অনেক শিক্ষার্থীর পরিবারের জন্য বড় আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বড় অঙ্কের স্কলারশিপ একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য শুধু অর্থনৈতিক সহায়তা নয়, বরং স্বপ্ন পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে।
সুহানা ও নাফিসার ক্ষেত্রে এই বৃত্তি সেই সুযোগই তৈরি করেছে। তারা আগামী চার বছর এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে পড়াশোনা করার সুযোগ পাবেন। ফলে তাদের সামনে এখন উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতা ও জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন চট্টগ্রামে অবস্থিত একটি আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার সুযোগ পান। বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একই পরিবেশে পড়াশোনা করার সুযোগ একজন শিক্ষার্থীর একাডেমিক জ্ঞান বৃদ্ধির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিও প্রসারিত করতে পারে। সুহানা, নাফিসা ও জেমির জন্য এমন পরিবেশ ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বৃত্তি অর্জন শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু আর্থিক সুবিধাই এনে দেয় না, তাদের আত্মবিশ্বাসও বাড়ায়। নিজের মেধা ও যোগ্যতার স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া একটি স্কলারশিপ ভবিষ্যতে আরও বড় লক্ষ্য অর্জনের অনুপ্রেরণা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে তাদের সাফল্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও বৃত্তির সুযোগ খুঁজতে উৎসাহিত করতে পারে।
সিলেটের দুই তরুণীর এই অর্জনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তারা নিজেদের এলাকার শিক্ষার্থীদের সামনে সম্ভাবনার একটি বাস্তব উদাহরণ তৈরি করেছেন। অনেক সময় উচ্চশিক্ষার সুযোগকে শুধু রাজধানী বা বড় শহরকেন্দ্রিক বলে মনে করা হয়। কিন্তু দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিক্ষার্থীরা নিজেদের যোগ্যতার ভিত্তিতে বড় প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পাচ্ছেন। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়ছে এবং নিজেদের স্বপ্নকে আরও বড় পরিসরে দেখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে এমন সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ। একটি মেয়ে যখন নিজের মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার সুযোগ অর্জন করেন, তখন তার সাফল্য পরিবারের গণ্ডি ছাড়িয়ে সমাজের অন্য মেয়েদেরও অনুপ্রাণিত করতে পারে। সুহানা ও নাফিসার অর্জনও তেমন একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা আশা করছেন, উচ্চশিক্ষার এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সুহানা ও নাফিসা ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবেন। শুধু ভালো ফলাফল নয়, নিজেদের দক্ষতা ও জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে তারা দেশ ও সমাজের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন—এমন প্রত্যাশাও রয়েছে।
অন্যদিকে হবিগঞ্জের জান্নাতুল ফেরদৌস জেমির একই বৃত্তি অর্জনও শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার বিষয়। একই সুযোগে দেশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে প্রমাণ হয়, যোগ্যতা ও অধ্যবসায় থাকলে আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ তৈরি করা সম্ভব।
বর্তমান সময়ে বিশ্বব্যাপী উচ্চশিক্ষার প্রতিযোগিতা ক্রমেই বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফলাফল করলেই হচ্ছে না, তাদের নেতৃত্বের গুণ, যোগাযোগ দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং নতুন কিছু শেখার আগ্রহও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বৃত্তির মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য এসব দক্ষতা অর্জনের পথ আরও উন্মুক্ত হয়।
সুহানা ও নাফিসার সাফল্যের খবর তাই শুধু একটি বৃত্তি পাওয়ার সংবাদ নয়; এটি সম্ভাবনাময় তরুণদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি অনুপ্রেরণামূলক গল্প। তাদের এই অর্জন দেখিয়ে দিয়েছে, স্বপ্নের সঙ্গে পরিশ্রম ও অধ্যবসায় যুক্ত হলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়।
সিলেটের এই দুই তরুণীর পরিবার এখন তাদের আগামী দিনের পথচলার দিকে তাকিয়ে। চার বছরের উচ্চশিক্ষা তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় হয়ে উঠবে। এই সময় তারা নতুন জ্ঞান অর্জন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার সুযোগ পাবেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সুহানা ও নাফিসা শুধু নিজেদের শিক্ষাজীবনেই সফল হবেন না, ভবিষ্যতে তাদের অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশের মানুষের কল্যাণেও কাজে লাগাবেন। তাদের সাফল্য আরও অনেক শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখতে এবং সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে উৎসাহিত করবে।
সব মিলিয়ে সিলেটের দুই তরুণীর প্রায় ৭৫ লাখ টাকার স্কলারশিপ অর্জন পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর জন্য আনন্দের পাশাপাশি একটি ইতিবাচক বার্তা নিয়ে এসেছে। মেধা, অধ্যবসায় ও নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীরা যে উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিক সুযোগ অর্জন করতে পারেন, সুহানা ও নাফিসার সাফল্য তারই উজ্জ্বল উদাহরণ। তাদের এই অর্জন ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের পথ তৈরি করবে—এমন প্রত্যাশাই এখন পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের।


