বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আইনি বাধা নেই

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। বুধবার (১৯ আগস্ট) অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে চলমান আইনি বিতর্কের মধ্যে নির্বাচনী কার্যক্রম নির্ধারিত সময়েই এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে একদিকে যেমন নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল নিয়ে আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এরই মধ্যে হাইকোর্টে করা একটি রিট আবেদন খারিজ হওয়ার পর রিটকারী আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক আলোচনার পাশাপাশি বিষয়টি এখন বিচারিক পর্যায়েও রয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য অনুযায়ী, এই আইনি পদক্ষেপ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে বাধা তৈরি করেনি। অর্থাৎ আদালতে রিট ও পরবর্তী আবেদন করা হলেও নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে বর্তমানে কোনো আইনগত প্রতিবন্ধকতা নেই বলেই তিনি মনে করছেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন। গতকাল ওই রিট আবেদন খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

হাইকোর্টে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। আদালতের আদেশের পরও বিষয়টি সেখানেই শেষ হয়নি। রিটকারী আইনজীবী জানিয়েছেন, তিনি এবার আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন।

ইউনুছ আলী আকন্দের করা রিটের অন্যতম বিষয় ছিল সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদে দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তাঁর সংসদীয় আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে এ কারণে তিনি পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হবেন না—এমন বিধানও একই অনুচ্ছেদে রয়েছে।

রিটকারী আইনজীবীর বক্তব্য, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা অনেক ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। তাঁর দাবি, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হয়ে যাওয়ার বিধান সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মতপ্রকাশ ও গণতান্ত্রিক অধিকারকে সীমিত করে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে এই বিতর্ক বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। কারণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোটের ভূমিকা রয়েছে। ফলে সংসদ সদস্যদের ভোটাধিকার কতটা স্বাধীন এবং দলীয় অবস্থানের সঙ্গে সেই ভোটের সম্পর্ক কী—এসব সাংবিধানিক প্রশ্ন সামনে এসেছে।

ইউনুছ আলী আকন্দ গত বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে রিট আবেদন করেন। সেখানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত করার আবেদনও জানানো হয়। তাঁর যুক্তি ছিল, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রেও বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

তবে হাইকোর্ট রিট আবেদনটি খারিজ করে দেওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিতের আবেদনও কার্যত গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। এর পর রিটকারী আইনজীবী উচ্চতর আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন বলে বুধবার জানিয়েছেন।

এদিকে অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমিয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানে আইনি কোনো বাধা নেই। ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই এখন বেশি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বাংলাদেশের সাংবিধানিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে। ফলে সংসদ সদস্যদের ভোট এবং তাঁদের সাংবিধানিক অবস্থান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এ কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে কোনো সাংবিধানিক প্রশ্ন উঠলে তা রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি আইন ও বিচারব্যবস্থায়ও গুরুত্ব পায়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মূল আলোচনার একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে সংসদ সদস্যদের ভোটের স্বাধীনতা। রিটকারী আইনজীবী যে প্রশ্ন তুলেছেন, তার কেন্দ্রে রয়েছে সংসদ সদস্যদের দলীয় আনুগত্য এবং ব্যক্তিগত বা স্বাধীন সিদ্ধান্তের মধ্যকার ভারসাম্য। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দলীয় শৃঙ্খলা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞরা।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার বিষয়। দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে আসন হারানোর বিধান সংসদে দলীয় ঐক্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে বলে এক পক্ষ মনে করে। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, এই বিধান সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার ক্ষমতা সীমিত করে এবং সংসদে কার্যকর বিতর্ক ও জবাবদিহির সুযোগ কমিয়ে দিতে পারে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে এই পুরোনো সাংবিধানিক বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে। তবে এই বিতর্কের বিচারিক নিষ্পত্তি এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠান—দুটি বিষয়কে পৃথকভাবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। হাইকোর্ট রিট খারিজ করার পর এখন আপিল বিভাগে রিটকারীর আবেদনের পরবর্তী অবস্থান কী হয়, সেটিই নজর রাখার বিষয়।

আইনি প্রক্রিয়া চললেও অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের ওপর কোনো স্থগিতাদেশ বা কার্যকর আইনি বাধা নেই। ফলে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের নির্ধারিত কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে।

তবে আপিল বিভাগে করা আবেদনের পরবর্তী কোনো আদেশ এলে পরিস্থিতিতে পরিবর্তন হতে পারে। আদালতের নির্দেশনা যেকোনো নির্বাচনী কার্যক্রমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে পরবর্তী সময়ে আদালতের কোনো আদেশ আসে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের সময়সূচি, প্রার্থী, ভোটের প্রক্রিয়া এবং সংসদ সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে আদালতে রিট এবং আপিলের বিষয়টি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

তবে আপিল বিভাগে আবেদন করা মানেই নির্বাচন স্থগিত হয়ে যাওয়া নয়। আদালত আবেদনটি কীভাবে গ্রহণ করবেন, শুনানি হবে কি না এবং কোনো অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেওয়া হবে কি না—এসব বিষয় আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। এ কারণে আপিলের বিষয়টি নিয়ে আগাম কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও সমীচীন নয়।

বর্তমানে অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য হলো, বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানে আইনি বাধা নেই। অন্যদিকে রিটকারী আইনজীবী সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আপিল বিভাগে গেছেন। ফলে একদিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি এগিয়ে চলেছে, অন্যদিকে সাংবিধানিক প্রশ্নটি বিচারিক পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে কি না, সে বিষয়ে এখন সবার নজর আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের দিকে। তবে বুধবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো স্থগিতাদেশ নেই এবং অ্যাটর্নি জেনারেলও স্পষ্ট করেছেন যে বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে আইনি কোনো বাধা নেই।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

কারামুক্ত সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

খাসি কাণ্ডে বিয়ে ভাঙা জাপানপ্রবাসীর ফের বিয়ে

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

স্বামীর মৃত্যুতে ১২ ঘণ্টার প্যারোলে দীপু মনি

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাজ্যে বাড়ছে বৈধ কর্মপথ

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

হবিগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা শরিফুল গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

কারামুক্ত সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

খাসি কাণ্ডে বিয়ে ভাঙা জাপানপ্রবাসীর ফের বিয়ে

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

স্বামীর মৃত্যুতে ১২ ঘণ্টার প্যারোলে দীপু মনি

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাজ্যে বাড়ছে বৈধ কর্মপথ

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

হবিগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা শরিফুল গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

কলকাতার হোটেলে আগুন, ৯ বাংলাদেশির প্রাণহানি

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

আপত্তি ও নিবন্ধন জটিলতায় কিশোরগঞ্জে কনসার্ট বাতিল

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

হবিগঞ্জে ধানখেতে রক্তাক্ত যুবকের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ