প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
স্বামীর মৃত্যুর পর শেষবারের মতো তাঁর মরদেহের কাছে যেতে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেত্রী দীপু মনি। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিনি প্যারোলে মুক্ত থাকবেন। তাঁর মেয়ে তানি দীপাবলি নেওয়াজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দীপু মনি বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছেন। স্বামী তৌফিক নেওয়াজের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর তাঁকে প্যারোলে মুক্ত করার উদ্যোগ নেন পরিবারের সদস্যরা। বাবার মরদেহ ঢাকায় রেখে মায়ের মুক্তির জন্য বুধবার সকাল থেকেই মুন্সীগঞ্জে বিভিন্ন দপ্তরে ছুটে বেড়ান দীপু মনির মেয়ে তানি দীপাবলি। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ১২ ঘণ্টার প্যারোলের অনুমতি পাওয়া যায়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীপু মনি প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার পর তাঁর স্বামী তৌফিক নেওয়াজের দাফন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। স্বামীর শেষ বিদায়ে উপস্থিত থাকার সুযোগ করে দেওয়ার জন্যই মূলত প্যারোলের আবেদন করা হয়। দীর্ঘদিনের জীবনসঙ্গীকে হারানোর শোকের মধ্যেই কারাগারে থাকা দীপু মনির জন্য এই সময়টি আবেগঘন ও কঠিন হয়ে উঠেছে।
দীপু মনির আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম জানান, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে তানি দীপাবলি কারাগারে গিয়ে তাঁর মায়ের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর কারাগার থেকে বেরিয়ে দুপুর পৌনে ২টার দিকে তিনি প্যারোলে মুক্তির আবেদন নিয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। সেখানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রেজাউল করিমের কাছে আবেদন জমা দেওয়া হয়। আবেদনটি বিবেচনার পর ১২ ঘণ্টার প্যারোল মঞ্জুর করা হয়েছে বলে জানান আইনজীবী।
প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষও নিয়ম অনুযায়ী প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা জানিয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, প্যারোলে মুক্তির জন্য কোনো আবেদন পাওয়া গেলে প্রচলিত নিয়ম ও বিধিবিধান অনুসারে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।
দীপু মনির পরিবারের জন্য বুধবারের দিনটি ছিল অত্যন্ত শোকাবহ। একদিকে কারাগারে থাকা মাকে স্বামীর শেষকৃত্যে উপস্থিত করার চেষ্টা, অন্যদিকে প্রিয়জনের মরদেহের দাফনের প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে পরিবারের সদস্যদের ব্যস্ততার পাশাপাশি মানসিক চাপও ছিল চরম। তানি দীপাবলি সকাল থেকেই প্রশাসনিক বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মুন্সীগঞ্জে অবস্থান করছিলেন।
দীপু মনির স্বামী তৌফিক নেওয়াজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনি ও লিভারের বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়।
তৌফিক নেওয়াজের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনেও শোকের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দীপু মনির স্বামী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে।
তৌফিক নেওয়াজের অসুস্থতার বিষয়টি পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত ছিল। কিডনি ও লিভারের জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। দীর্ঘ চিকিৎসা ও শারীরিক নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর স্বজনরা রাজধানীতে তাঁর মরদেহ গ্রহণ ও দাফনের প্রস্তুতি শুরু করেন।
অন্যদিকে, স্বামীর মৃত্যুর সময় দীপু মনি কারাগারে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। একজন নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুর পর শেষ বিদায়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলের আবেদন করা হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। সেই প্রক্রিয়াই বুধবার সম্পন্ন করা হয়।
প্যারোলের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ ঘণ্টা। বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিনি প্যারোলে মুক্ত থাকবেন। এই সময়ের মধ্যে স্বামীর মরদেহের কাছে উপস্থিত হওয়া এবং দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
স্বজন হারানোর শোকের সঙ্গে কারাগারের বাস্তবতা—দুটি কঠিন পরিস্থিতি একসঙ্গে মোকাবিলা করতে হচ্ছে দীপু মনির পরিবারকে। একজন স্ত্রী হিসেবে স্বামীর শেষ বিদায়ে উপস্থিত থাকা তাঁর জন্য যেমন আবেগের বিষয়, তেমনি পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছেও এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই প্যারোলের আবেদনটি দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তানি দীপাবলির জন্যও পরিস্থিতিটি ছিল অত্যন্ত কঠিন। বাবার মরদেহ ঢাকায় রেখে তাঁকে একদিকে দাফনের প্রস্তুতি নিতে হয়েছে, অন্যদিকে কারাগারে থাকা মায়ের প্যারোল নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে মুন্সীগঞ্জে তাঁর ছোটাছুটির মূল উদ্দেশ্য ছিল মাকে বাবার শেষ বিদায়ে উপস্থিত করার সুযোগ করে দেওয়া।
দীপু মনির প্যারোলের অনুমোদনের পর পরিবারের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও শোকের আবহ কাটেনি। স্বামীকে হারানোর বেদনার মধ্যে তিনি শেষবারের মতো তাঁর মরদেহের কাছে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন। পরিবারের সদস্যদের কাছে এই মুহূর্তটি যেমন বেদনাবিধুর, তেমনি দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের একটি অধ্যায়ের শেষ বিদায়ের সময়ও।
তৌফিক নেওয়াজের মৃত্যুতে তাঁর চিকিৎসা, শেষ সময়ের পরিস্থিতি এবং পারিবারিক জীবনের নানা স্মৃতি এখন স্বজনদের মনে ফিরে আসছে। দীর্ঘ অসুস্থতার পর তাঁর মৃত্যু হলেও প্রিয়জন হারানোর শোক কোনোভাবেই সহজ হয়ে ওঠে না। বিশেষ করে মৃত্যুর সময় স্ত্রী কারাগারে থাকায় পরিবারের পরিস্থিতি আরও আবেগঘন হয়ে উঠেছে।
এদিকে দীপু মনির প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি সামনে আসার পর তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা না করে মানবিক দিকটিও গুরুত্ব পাচ্ছে। স্বামীর মৃত্যুর পর শেষ বিদায়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়া তাঁর জন্য একটি পারিবারিক ও ব্যক্তিগত প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্যারোলের পুরো প্রক্রিয়াটি প্রশাসনিক বিধিবিধানের মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হয়েছে।
নির্ধারিত সময় শেষে দীপু মনিকে আবার কারাগারে ফেরত যেতে হবে। প্যারোল স্থায়ী মুক্তি নয়; নির্দিষ্ট কারণ ও নির্ধারিত সময়ের জন্য কারাবন্দিকে সাময়িকভাবে মুক্ত থাকার সুযোগ দেওয়া হয়। তাই স্বামীর দাফন ও পারিবারিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কারাগারে ফেরার প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
বর্তমানে পরিবারের প্রধান মনোযোগ তৌফিক নেওয়াজের শেষ বিদায়ের আয়োজনকে ঘিরে। স্বজনদের উপস্থিতিতে তাঁর দাফন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে। আর সেই শেষ বিদায়ে স্ত্রী দীপু মনির উপস্থিতির পথও প্রশাসনিক অনুমোদনের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে।
একজন স্বামীকে হারানোর শোকের পাশাপাশি কারাগারে ফিরে যাওয়ার বাস্তবতা—দীপু মনির জন্য আগামী সময়টি নিঃসন্দেহে কঠিন। তবে পরিবারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটির পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ। ১২ ঘণ্টার এই প্যারোল তাই শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, শোকাহত একটি পরিবারের জন্য শেষ বিদায়ের একটি মানবিক সুযোগ হিসেবেও তাৎপর্য বহন করছে।


