প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন ফিরে পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে সিলেটের ৬৮ জন মানুষের জীবনে। সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) বিশেষ উদ্যোগ ও প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধানের মাধ্যমে উদ্ধার করা এসব মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুর ১২টায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলো মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী।
নিজেদের হারানো ফোন ফিরে পেয়ে উপস্থিত মালিকদের মধ্যে দেখা যায় স্বস্তি ও আনন্দের অনুভূতি। অনেকের কাছেই মোবাইল ফোন শুধু একটি যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং ব্যক্তিগত তথ্য, প্রয়োজনীয় নথি, ছবি, ভিডিও এবং গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতির ভাণ্ডার। তাই হারিয়ে যাওয়া ফোন ফিরে পাওয়া তাদের জন্য ছিল বিশেষ এক স্বস্তির মুহূর্ত।
এসএমপি সূত্র জানায়, মহানগর পুলিশের মেট্রোপলিটন পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট এবং জিনিয়া টিমের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এসব মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফোনগুলোর অবস্থান শনাক্ত করা হয় এবং যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত মালিকদের কাছে তা হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি মোবাইল ফোন উদ্ধার টিম গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ২৩০টি হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ধারাবাহিক এই কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হারানো সম্পদ ফিরিয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছে এসএমপি।
অনুষ্ঠানে মোবাইল ফোন ফিরে পাওয়া কয়েকজন মালিক সিলেট মহানগর পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, অনেক সময় হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিতে হয়। কিন্তু পুলিশের প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের কারণে তারা আবার নিজেদের ফোন হাতে পেয়েছেন।
সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন ও তাদের সেবায় পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অপরাধের ধরনও পরিবর্তন হচ্ছে। তাই অপরাধ দমন ও জনগণের হারানো সম্পদ উদ্ধারে পুলিশ আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করছে।
তিনি পুরোনো বা ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেনার ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। কমিশনার বলেন, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেনার আগে অবশ্যই বিক্রেতার পরিচয়, প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র এবং ডিভাইসের আইএমইআই (IMEI) নম্বর যাচাই করা প্রয়োজন। কারণ অনেক সময় চুরি বা অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফোন বাজারে বিক্রি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, যাচাই ছাড়া মোবাইল ফোন কেনা হলে ক্রেতারাও আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন। তাই সচেতনতা ও সতর্কতার বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন পুলিশ কমিশনার। এ সময় তিনি সিলেট মহানগরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন।
পুলিশ কমিশনার জানান, গত ২৭ জুন ২০২৬ তারিখে কোতোয়ালী মডেল থানার কাষ্টঘর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে কুখ্যাত তিন মাদক ব্যবসায়ীসহ মোট ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি জানান, অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও গাঁজার পাশাপাশি ১২টি চাকু, ২৩টি মোবাইল ফোন এবং মাদক বিক্রির নগদ অর্থ জব্দ করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক ২৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এসএমপি কমিশনার বলেন, মাদকসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধারের মতো কার্যক্রম সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করছে। কারণ একটি ছোট সম্পদ হারানোর পর অনেক মানুষ মানসিকভাবে বিপাকে পড়েন। বিশেষ করে মোবাইল ফোনে থাকা ব্যক্তিগত তথ্য ও প্রয়োজনীয় যোগাযোগের কারণে এর গুরুত্ব অনেক বেশি।
প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করা হলে সাধারণ মানুষ আরও দ্রুত সেবা পাবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে নাগরিকদেরও নিজেদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে সতর্ক থাকা, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ফোনের আইএমইআই নম্বর সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের এই উদ্যোগে একদিকে যেমন ৬৮ জন মানুষ তাদের হারানো ফোন ফিরে পেয়েছেন, অন্যদিকে প্রযুক্তি ব্যবহার করে জনসেবার ক্ষেত্রে পুলিশের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের আস্থা ও সহযোগিতা নিয়ে এমন কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


