সিলেট সীমান্তে পুশ ইন ঠেকাতে কঠোর বিজিবি

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

সিলেট বিভাগের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত থেকে কথিত ‘পুশ ইন’-এর একাধিক প্রচেষ্টাকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে লোকজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সীমান্ত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, এসব প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সীমান্তজুড়ে নজরদারি ও টহল কার্যক্রম কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার পাল্লাতল, নিউ পাল্লাতল, লাতু, গান্দাইল, বোবারতল এবং উত্তর ষাইটঘর সীমান্ত দিয়ে গত কয়েক দিনে কয়েক দফায় লোকজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা হয়েছে। প্রতিবারই সীমান্তে মোতায়েন বিজিবির সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থেকে এসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, একাধিক ঘটনায় ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দলকে সীমান্ত অতিক্রম করানোর চেষ্টা করা হলেও বিজিবির তৎপরতায় তা সম্ভব হয়নি।

সীমান্ত এলাকাগুলোর ভৌগোলিক অবস্থান নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছে। বড়লেখার বিস্তীর্ণ অংশ পাহাড়ি বনাঞ্চল ও দুর্গম ভূখণ্ডে অবস্থিত। অনেক স্থানে সীমান্ত রেখা ঘন জঙ্গল ও টিলাবেষ্টিত হওয়ায় সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা চ্যালেঞ্জিং। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই বিজিবি তাদের টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।

বিজিবি জানিয়েছে, ৫২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন ১১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে এখন দিন-রাত টহল জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি স্থাপন করা হয়েছে বিশেষ চেকপোস্ট ও অস্থায়ী বাংকার। সীমান্তবর্তী এলাকার প্রতিটি সন্দেহজনক চলাচল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে, যাতে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশের চেষ্টা দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, যেসব এলাকায় পুশ ইনের আশঙ্কা বেশি, সেখানে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তের প্রতিটি স্পর্শকাতর এলাকায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করে সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত সদস্য পাঠানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভূমিকাও সীমান্ত নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সীমান্তসংলগ্ন কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা জানান, তারা নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থেই বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় রেখে এলাকায় সতর্ক নজর রাখছেন। কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা অস্বাভাবিক চলাচল চোখে পড়লে দ্রুত বিজিবিকে জানানো হচ্ছে। প্রয়োজনে বিজিবির আহ্বানে সহযোগিতা করতে স্থানীয়রা প্রস্তুত রয়েছেন বলেও তারা জানান। সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধারণ মানুষের এই সহযোগিতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

৫২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পুশ ইনের যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করতে দিন-রাত টহল বাড়ানো হয়েছে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, আনসার ও ভিডিপির সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। সীমান্তে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ স্থলসীমান্ত হওয়ায় উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তি, নিয়ম ও প্রোটোকল অনুসরণ করে যেকোনো সীমান্ত-সংক্রান্ত বিষয় সমাধান করা উচিত। অনিয়মিত অনুপ্রবেশ বা পুশ ইনের অভিযোগ দেখা দিলে তা দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান হওয়া প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয় নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তা, মানবিক দায়বদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সীমান্তে অবস্থানরত সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের অনিয়মিত অনুপ্রবেশ রোধে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজিবি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে বলে জানিয়েছে। সীমান্তের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশা, সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার মাধ্যমে সীমান্তে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

শ্রীমঙ্গলে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে প্রাণ গেল দুই তরুণের

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে পুলিশের ২১ কর্মকর্তার পদোন্নতি ও নতুন পদায়ন

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেট-জকিগঞ্জ রুটে কমল বিআরটিসি বাসভাড়া

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

হাম ও উপসর্গে সিলেটে ৮১ শিশুর প্রাণহানি

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

দোয়ারাবাজারে দুর্যোগ প্রস্তুতিতে সমন্বয় জোরদারের আহ্বান

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

শ্রীমঙ্গলে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে প্রাণ গেল দুই তরুণের

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে পুলিশের ২১ কর্মকর্তার পদোন্নতি ও নতুন পদায়ন

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেট-জকিগঞ্জ রুটে কমল বিআরটিসি বাসভাড়া

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

হাম ও উপসর্গে সিলেটে ৮১ শিশুর প্রাণহানি

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

গোয়াইনঘাটে পুলিশের বিশেষ মহড়া, জোরদার অভিযান

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

রাষ্ট্রীয় কাজে স্থগিত বাণিজ্যমন্ত্রীর সিলেট সফর

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

নবীগঞ্জে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, শোকের ছায়া

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ