প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদক ফেনসিডিলসহ এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২১ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার উবাহাটা ইউনিয়নের নতুনব্রীজ গোলচত্বর হাইওয়ে এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চুনারুঘাট থানার একটি বিশেষ দল জানতে পারে যে সিলেট থেকে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে করে অবৈধ মাদকদ্রব্য বহন করা হচ্ছে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই তারেক নাজিরসহ পুলিশের একটি টিম দ্রুত ওই এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করে।
পরবর্তীতে এমআর পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় যাত্রীবেশে থাকা এক যুবকের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে ১০০ বোতল Eskuf ব্র্যান্ডের ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।
আটক ব্যক্তির নাম মোঃ নাজমুল হোসাইন নাহিদ (২০)। তিনি সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ থানার পশ্চিম ইসলামপুর এলাকার বটেরতল গ্রামের বাসিন্দা এবং মোঃ মস্তফার ছেলে বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত ব্যক্তি মাদক পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন কি না সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো যাচাই করা হচ্ছে। তবে উদ্ধারকৃত মাদক জব্দ করে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
চুনারুঘাট থানার ওসি মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে আমরা সফলভাবে মাদকসহ একজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। উদ্ধার করা ফেনসিডিল জব্দ করা হয়েছে এবং আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশের এই অভিযানে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যেও স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে। তারা মনে করছেন, সীমান্তবর্তী ও মহাসড়ক এলাকায় মাদক পাচারের ঝুঁকি বেশি থাকায় নিয়মিত অভিযান জোরদার করা হলে মাদক চক্র নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
স্থানীয়রা জানান, চুনারুঘাট ও আশপাশের এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মাদক পরিবহনের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের আড়ালে মাদক পাচারের ঘটনা মাঝেমধ্যে ধরা পড়লেও পুরো চক্রকে চিহ্নিত করা এখনো চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনার পেছনে কোনো বড় নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
চুনারুঘাট থানার পুলিশ আরও জানায়, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিতভাবে চলমান থাকবে এবং কোনোভাবেই মাদক ব্যবসায়ীদের ছাড় দেওয়া হবে না।
এ ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হয়েছে যে আন্তঃজেলা মাদক চক্র সক্রিয় রয়েছে এবং বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে মাদক পরিবহন করা হচ্ছে। তবে পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে বড় ধরনের একটি চালান আটক হওয়ায় সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়েছে বলেও জানা গেছে।


