প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, দুর্যোগ মোকাবেলা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
বুধবার (২০ মে) দুপুরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কুলাউড়া স্টেশনের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। কর্মসূচির শুরুতে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে, যেখানে ফায়ার সার্ভিসের সদস্য, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন। শোভাযাত্রায় দুর্ঘটনা সচেতনতা ও নিরাপদ জীবনযাপনের বার্তা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড বহন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলাম। তিনি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, দুর্যোগ ও দুর্ঘটনার সময় এই বাহিনীর সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় কাজ করে থাকেন। তিনি আরও বলেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া কেবল সরকারি উদ্যোগে দুর্ঘটনা পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, এজন্য সামাজিক অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ছিদ্দিকুল আলমের সভাপতিত্বে এবং লিডার মো. ফেরদৌস মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার। তিনি বলেন, উন্নয়ন ও নগরায়ণের সঙ্গে সঙ্গে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই প্রতিটি নাগরিককে প্রাথমিক অগ্নিনির্বাপণ, উদ্ধার কৌশল এবং দুর্যোগকালীন করণীয় সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ হওয়ায় প্রায়ই অগ্নিকাণ্ড, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এসব পরিস্থিতিতে দ্রুত ও সঠিক প্রতিক্রিয়া জানানো অত্যন্ত জরুরি। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কার্যক্রম কেবল উদ্ধারকাজেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তারা নিয়মিত প্রশিক্ষণ, মহড়া ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রস্তুত করতে কাজ করছে।
বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায় থেকেই যদি প্রাথমিক অগ্নিনির্বাপণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে অনেক বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বেশি থাকায় প্রতিটি বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম রাখা এবং তার ব্যবহার জানা জরুরি বলে তারা মত দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরাও এ ধরনের আয়োজনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন। তাদের মতে, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে বাস্তব জীবনের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে নিজেকে ও অন্যকে নিরাপদ রাখা যায় সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং জনসচেতনতা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম, মহড়া এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ আরও বেশি করে দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি নিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্থানীয় পর্যায়ে এমন আয়োজন মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে এটি প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ায়, যা যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠান শেষে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে উপস্থিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জনসচেতনতা বিষয়ক লিফলেট বিতরণ করা হয়। এতে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধ, গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে সতর্কতা, বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা এবং দুর্যোগকালীন করণীয় বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা তুলে ধরা হয়।
কুলাউড়ায় অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এবং আগ্রহ দেখে আয়োজকরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা আশা করেন, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত আকারে অনুষ্ঠিত হবে, যাতে সমাজের প্রতিটি স্তরে নিরাপত্তা সচেতনতা আরও জোরদার হয়।


