প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেট-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বুধবার সিলেট নগরীর সোবহানীঘাট এলাকায় অবস্থিত ইবনে সিনা হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগতে থাকা এই প্রবীণ রাজনীতিক ও আলেমের শারীরিক অবস্থার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক অঙ্গন, ধর্মীয় মহল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সিলেটের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আব্দুল কাদের তাপাদার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরপর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সুস্থতা কামনা করে দোয়া ও শুভকামনা জানিয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বয়সজনিত দুর্বলতার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী। সাম্প্রতিক সময়ে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। যদিও তার অসুস্থতার নির্দিষ্ট প্রকৃতি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবে পারিবারিক সূত্র বলছে, বয়সজনিত নানা জটিলতার কারণেই তাকে হাসপাতালে নিতে হয়েছে।
মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী সিলেট অঞ্চলের রাজনীতি, শিক্ষা ও ধর্মীয় অঙ্গনের পরিচিত মুখ। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ইসলামি শিক্ষা বিস্তার, সামাজিক উন্নয়ন এবং জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে সিলেট-৫ আসন তথা জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট এলাকার মানুষের কাছে তিনি একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এলাকার সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন এবং ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারে তার বিভিন্ন উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের কাছে এখনও স্মরণীয়।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি ছিলেন শান্ত স্বভাবের এবং সমঝোতাপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও সংলাপ ও সহনশীলতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে তিনি ভিন্নমতের মানুষের কাছেও সম্মান অর্জন করেছিলেন। ধর্মীয় বক্তা হিসেবেও তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ওয়াজ মাহফিল, ইসলামী আলোচনা ও শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মাঝে ধর্মীয় মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
সিলেট অঞ্চলের প্রবীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী এমন একজন ব্যক্তি, যিনি রাজনীতি ও ধর্মীয় অঙ্গন—দুই ক্ষেত্রেই প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিলেন। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে তার জনপ্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক ও মানবিক।
তার অসুস্থতার খবরে জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় অনেকেই বলছেন, বয়সের ভারে ন্যুব্জ হলেও তিনি এখনও এলাকার মানুষের খোঁজখবর রাখতেন। বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সুযোগ পেলেই অংশ নেওয়ার চেষ্টা করতেন। অনেকেই স্মৃতিচারণ করে জানিয়েছেন, একজন শিক্ষক, রাজনীতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি একইসঙ্গে কঠোর শৃঙ্খলাপরায়ণ এবং মানবিক আচরণের জন্য পরিচিত ছিলেন।
এদিকে তার অসুস্থতার খবর প্রকাশের পর রাজনৈতিক সহকর্মী, অনুসারী এবং শুভানুধ্যায়ীরা হাসপাতালে যোগাযোগ করছেন। কেউ কেউ সরাসরি হাসপাতালে গিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন, আবার অনেকে ফোনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার শারীরিক অবস্থার আপডেট নিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে তার সুস্থতা কামনায় দোয়ার আহ্বান।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের কয়েকজন জানিয়েছেন, প্রবীণ এই রাজনীতিকের অবদান শুধু একটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে তার ভূমিকা ছিল বিস্তৃত। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং ধর্মীয় জ্ঞানের কারণে তরুণ প্রজন্মের কাছেও তিনি ছিলেন অনুপ্রেরণার নাম।
ইবনে সিনা হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও দেশবাসীর কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রবীণ রাজনীতিকদের অসুস্থতা প্রায়ই জনমনে আবেগের সৃষ্টি করে। কারণ তাদের অনেকেই দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, সামাজিক পরিবর্তন এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীও তেমনই একজন ব্যক্তিত্ব, যিনি কয়েক দশক ধরে সিলেট অঞ্চলের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিমণ্ডলে সক্রিয় থেকেছেন। ফলে তার অসুস্থতার খবর স্থানীয় জনগণের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রবীণ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের স্বাস্থ্যগত বিষয় এখন শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং সামাজিক গুরুত্বও বহন করে। কারণ তাদের অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও নেতৃত্ব সমাজে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর ক্ষেত্রেও বিষয়টি ব্যতিক্রম নয়। তার সুস্থতা কামনায় বিভিন্ন মহলের মানুষের উদ্বেগ ও আন্তরিকতা সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে। তবে বয়সজনিত জটিলতার কারণে চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। পরিবারের সদস্যরা আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, সবার দোয়া ও চিকিৎসকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।


