প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেটে বড় ধরনের ছিনতাই ও মোবাইল চোর চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ১০ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯)। জেলা স্টেডিয়াম এলাকায় পরিকল্পিতভাবে জনসাধারণের ওপর হামলা ও মূল্যবান মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতির সময় তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
রোববার দুপুরে র্যাব-৯ এর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির সিইও উইং কমান্ডার তাজমিনুর রহমান চৌধুরী। তিনি বলেন, আসন্ন একটি রাজনৈতিক জনসভাকে কেন্দ্র করে কিছু দুষ্কৃতকারী সাধারণ মানুষের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে মোবাইল ফোন ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হয়।
র্যাব জানায়, শনিবার রাতে সিলেট জেলা স্টেডিয়াম এলাকার নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস কমপ্লেক্স সংলগ্ন স্থানে প্রথম অভিযান চালানো হয়। এ সময় দেশীয় অস্ত্রসহ পাঁচজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে অভিযান সম্প্রসারণ করে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সব মিলিয়ে মোট ১০ জনকে আটক করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযানে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র এবং বিপুল সংখ্যক মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে র্যাব জানিয়েছে। উদ্ধার হওয়া মোবাইলগুলো বিভিন্ন সময় ছিনতাই ও চুরির মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
র্যাব-৯ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ চক্র হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সিলেট শহরের বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় সক্রিয় ছিল। বিশেষ করে বাস টার্মিনাল, বাজার এলাকা, স্টেডিয়াম এবং জনসমাগমস্থলে তারা সুযোগ বুঝে সাধারণ মানুষের মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ছিনতাই করত।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন মোঃ রনি (২৪), মো. অপু (৩২), মো. রাসেল (২৮), শাহাজালাল বেপারী (২৯), মো. আজিজুর রহমান (২৪), আবু বকর (২৪), মোঃ জিহাদ হোসেন (২৮), মো. নুর ইসলাম (৪০) এবং মো. নাজমুল ইসলাম (২৬)। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন থানায় ছিনতাই ও চুরির অভিযোগ রয়েছে বলে র্যাব সূত্র জানিয়েছে।
র্যাবের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে বড় রাজনৈতিক সমাবেশ বা জনসমাগমের সময় অপরাধীরা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে, যা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
উইং কমান্ডার তাজমিনুর রহমান চৌধুরী বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান চলমান থাকবে। কোনো ধরনের চক্র বা সংগঠিত অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরও জানান, জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল এবং গোপন নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সিলেট নগরীতে সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল ছিনতাই ও চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। বিশেষ করে জনবহুল এলাকায় মোবাইল ফোন হারানোর অভিযোগ বেড়ে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ নজরদারি শুরু করে।
স্থানীয়রা র্যাবের এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এমন চক্র সক্রিয় থাকায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কে ছিল। বিশেষ করে ভিড়ের মধ্যে চলাফেরা করতে গিয়ে অনেকেই মোবাইল ফোন হারানোর শিকার হয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকরা বলছেন, মোবাইল ছিনতাই এখন শহরাঞ্চলে একটি বড় অপরাধ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং মোবাইল ফোনের উচ্চমূল্যের কারণে এসব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে সংঘবদ্ধ চক্র। তারা আরও বলেন, শুধু গ্রেপ্তার নয়, পুনর্বাসন ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এই ধরনের অপরাধ কমানো সম্ভব।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং তাদের সঙ্গে আরও কারা জড়িত রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনের মালিকদের শনাক্ত করার কাজও শুরু হয়েছে।
সিলেট নগরীর সাধারণ মানুষ আশা প্রকাশ করেছেন, এ ধরনের অভিযান নিয়মিত হলে শহরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে এবং ছিনতাই চক্রের দৌরাত্ম্য কমবে।


