প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা জৈন্তাপুরে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ফেন্সিডিলসহ শামীম আহমদ (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। অভিযানে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশাও জব্দ করা হয়েছে। পরে ওই অটোরিকশার ভেতর থেকে প্লাস্টিকের বস্তায় লুকানো অবস্থায় মোট ৯৮ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গ্রেফতার হওয়া শামীম আহমদ জৈন্তাপুর থানার হাউদপাড়া গ্রামের সুরুজ মিয়ার ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এখানে একটি চক্র ফেন্সিডিলসহ বিভিন্ন মাদক দেশের ভেতরে সরবরাহ করে আসছিল।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১৯ এপ্রিল) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯ এর একটি বিশেষ দল জৈন্তাপুর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের উপ শ্যামপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। ওই এলাকায় একটি সিএনজি অটোরিকশাকে সন্দেহজনকভাবে চলাচল করতে দেখে র্যাব সদস্যরা সেটিকে থামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে শামীম আহমদকে আটক করা হয়। তবে তার সঙ্গে থাকা আরও একজন ব্যক্তি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
অভিযান চলাকালে সিএনজি অটোরিকশাটি তল্লাশি করে প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা ফেন্সিডিলের বোতলগুলো উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে এসব মাদক সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেফতারকৃত শামীম এবং পলাতক অপর ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে যুক্ত থেকে মাদক পাচারের কাজ করছিল। তারা সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্ট ব্যবহার করে ফেন্সিডিল সংগ্রহ করে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।
র্যাব আরও জানায়, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বিশেষ নজরদারির ফলে সম্প্রতি একাধিক মাদক চক্রের কার্যক্রম চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। এই ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবেই জৈন্তাপুরে এই সফল অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান শেষে গ্রেফতারকৃত শামীম আহমদকে জৈন্তাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়েরকৃত একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারিক আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জৈন্তাপুর ও আশপাশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচারের ঝুঁকি বিদ্যমান। বিশেষ করে ফেন্সিডিলসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ দ্রব্য সীমান্ত পেরিয়ে দেশে প্রবেশ করে স্থানীয় চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। এসব চক্রের কারণে তরুণ সমাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করে আসছে।
এদিকে র্যাব জানিয়েছে, পলাতক আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে চক্রের অন্যান্য সদস্যদেরও চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মনে করছে, এই চক্রটি ভেঙে দিতে পারলে সীমান্ত অঞ্চলে মাদক প্রবাহ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা না করলে এ ধরনের মাদক ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন। তাদের মতে, শুধু গ্রেফতার নয়, বরং মাদকের উৎস এবং এর পেছনের বড় নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা জরুরি।
অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, মাদক নির্মূলে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। নিয়মিত অভিযান, তথ্য সংগ্রহ এবং স্থানীয় সহযোগিতার মাধ্যমে মাদক চক্রগুলোকে ধ্বংস করার কাজ চলছে।
জৈন্তাপুরের এই ঘটনার পর আবারও আলোচনায় এসেছে সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচারের ঝুঁকি এবং এর সামাজিক প্রভাব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অপরাধ শুধু আইনশৃঙ্খলা নয়, সামাজিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি। তরুণদের একটি অংশ এই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, জৈন্তাপুরের এই অভিযান মাদকবিরোধী কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে পলাতক আসামি এবং পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনা না গেলে এই ধরনের অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


