প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় আসন্ন বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে ঘিরে বর্ণাঢ্য আয়োজনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ১৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য পহেলা বৈশাখ উদযাপনকে কেন্দ্র করে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিউদ্দিন। সভায় নববর্ষ উদযাপনকে শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও সবার অংশগ্রহণে সম্পন্ন করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নিবাস চন্দ্র পাল, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদিন বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনিরসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এছাড়াও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিদের মধ্যে কুলাউড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি শাকিল রশীদ চৌধুরী, শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক বিপুল চক্রবর্তী, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক নির্মাল্য মিত্র সুমনসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ইউএনও মো. মহিউদ্দিন জানান, আগামী ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হবে, যা ডাকবাংলো প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হবে। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষ কেবল একটি উৎসব নয়, এটি বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। তাই এ আয়োজনকে সর্বজনীন উৎসবে রূপ দিতে প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অনুষ্ঠানকে সুন্দর, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় অংশ নেওয়া জনপ্রতিনিধি ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা নববর্ষ উদযাপনকে আরও বর্ণাঢ্য ও আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। তারা বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির জীবনে আনন্দ ও ঐক্যের বার্তা নিয়ে আসে। তাই এই উৎসবকে ঘিরে এলাকার মানুষকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে হবে।
স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা জানান, কুলাউড়ায় প্রতিবছরই নববর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। তারা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
সভায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, নববর্ষের সঙ্গে গ্রামীণ জীবন ও কৃষিভিত্তিক সংস্কৃতির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই এই উৎসবে কৃষকের জীবন, ফসল এবং লোকজ ঐতিহ্যকে বিশেষভাবে উপস্থাপন করা উচিত।
সভায় উপস্থিত রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারাও নববর্ষ উদযাপনকে সর্বজনীন উৎসবে রূপ দিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আশ্বাস দেন। তারা বলেন, এই ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন সমাজে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সবশেষে উপজেলা প্রশাসন জানায়, কুলাউড়ায় এবারের বাংলা নববর্ষ উদযাপন হবে আরও বর্ণাঢ্য, সুশৃঙ্খল এবং অংশগ্রহণমূলক। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই আয়োজনকে সফল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।


