প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেট অঞ্চলে নতুন আবাসিক গ্যাস সংযোগ, বাণিজ্যিক ও সিএনজি শ্রেণিতে সংযোগ এবং লোড বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক বার্তা দিয়েছে জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড (জেডিটিডিএসএল)। একই সঙ্গে গ্যাস পাইপলাইনের ওপর অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং অননুমোদিত সংযোগ গ্রহণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জেডিটিডিএসএল জানায়, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমানে গৃহস্থালী, বাণিজ্যিক এবং সিএনজি শ্রেণিতে নতুন গ্যাস সংযোগ প্রদান সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। একইভাবে লোড বৃদ্ধি বা অতিরিক্ত গ্যাস ব্যবহারের অনুমোদনও সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এই পরিস্থিতিতে নতুন সংযোগ বা লোড বৃদ্ধির আশ্বাস দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা চক্র আর্থিক লেনদেন করলে তা প্রতারণার শামিল হবে। গ্রাহকদের এ ধরনের কোনো প্রলোভন বা মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে অর্থনৈতিক লেনদেন না করার জন্য বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানায়, সম্প্রতি কিছু এলাকায় গ্যাস পাইপলাইনের ওপর অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং বিতরণ লাইন থেকে অবৈধভাবে সংযোগ নেওয়ার ঘটনা নজরে এসেছে। এসব কর্মকাণ্ড শুধু আইনবিরোধী নয়, বরং মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি করছে। তাই এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, গ্যাস সেবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রাহকদের নিজ উদ্যোগে কোনো ধরনের অবৈধ সংযোগ গ্রহণ বা অনুমোদনবহির্ভূত লাইন স্থাপন থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে অনুমোদনের অতিরিক্ত বা উচ্চ ক্ষমতার গ্যাস সরঞ্জাম ব্যবহার না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে গ্যাস সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রযুক্তিগত কাজ যেমন চুলা ও রাইজার স্থানান্তর, অভ্যন্তরীণ ও সার্ভিস লাইনের মেরামত, বুশ বা রেগুলেটর পরিবর্তন, লক-উইং কক পরিবর্তন, আরএমএস বা সিএমএস মেরামতসহ সব ধরনের কাজ সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক অফিসকে অবহিত করে এবং অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা বিষয়েও গ্রাহকদের প্রতি বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে জেডিটিডিএসএল। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ গ্যাস লাইনের ক্ষেত্রে জিআই বা এমএস পাইপ দৃশ্যমান অবস্থায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের লিকেজ বা দুর্ঘটনা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এছাড়া রান্নাঘরে চুলা জ্বালানোর আগে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের জন্য দরজা ও জানালা খোলা রাখারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট অঞ্চলে গ্যাস ব্যবহারের চাহিদা এবং অবৈধ সংযোগের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ ধরনের সতর্কতামূলক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আবাসিক এলাকায় অনিয়ন্ত্রিত সংযোগ ও পাইপলাইনের ওপর অবৈধ নির্মাণ ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেবল প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধিও সমানভাবে জরুরি। অনেক সময় সাধারণ গ্রাহকরা অজ্ঞতা বা প্রলোভনের কারণে অবৈধ সংযোগ গ্রহণ করেন, যা পরবর্তীতে ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করে।
সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় আগে থেকেই গ্যাস সংকট ও অবকাঠামোগত চাপ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন সংযোগ বন্ধ থাকা এবং অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া সময়োপযোগী বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তবে তারা একই সঙ্গে বৈধ গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত পরিকল্পিত সমাধানেরও দাবি জানিয়েছেন।
জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষের এই সতর্কবার্তা মূলত জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে আবাসিক এলাকায় গ্যাস দুর্ঘটনা রোধ এবং অবৈধ ব্যবসায়িক চক্র প্রতিরোধে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সবশেষে বলা যায়, গ্যাস সংযোগ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি। জালালাবাদ গ্যাসের এই সতর্কবার্তা শুধু একটি প্রশাসনিক ঘোষণা নয়, বরং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।


