প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেটে ভারতের সহকারী হাইকমিশন একটি মনোমুগ্ধকর ও বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস (আইসিসিআর)-এর ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে। ৮ এপ্রিল, ২০২৬ (বুধবার) সন্ধ্যায় সিলেট নগরের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, প্রাক্তন আইসিসিআর অ্যালামনাই এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল আন্তরিকতা, সম্প্রীতি ও ভারত-বাংলাদেশের গভীর সাংস্কৃতিক বন্ধনের উজ্জ্বল প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস। তিনি বলেন, “আইসিসিআর কেবল একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে দৃঢ় সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন তৈরি করে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে ঐতিহাসিক, ভাষাগত, সাংস্কৃতিক এবং মানবিক সম্পর্ক বিদ্যমান, তা আরও সুদৃঢ় করতে আইসিসিআর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, আইসিসিআর-এর মাধ্যমে অসংখ্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ভারতের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা অর্জন করছেন। এসব শিক্ষার্থী শুধু একাডেমিক জ্ঞানই অর্জন করেন না, বরং ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনধারার সঙ্গে পরিচিত হয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি করছেন, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি তার বক্তব্যে আইসিসিআর স্কলারশিপ প্রদানের জন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা ভারতের উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন, যা তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা সহযোগিতার এই ধারা ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ও প্রাক্তন আইসিসিআর স্কলার ড. হিমাদ্রী শেখর রায় এবং প্রাক্তন আইসিসিআর স্কলার ড. প্রকৃতি মিশ্রা। তারা উপস্থিত অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আইসিসিআর-এর দীর্ঘ পথচলার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেন। তারা বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে আইসিসিআর বিশ্বব্যাপী সাংস্কৃতিক বিনিময়, শিক্ষা সহযোগিতা এবং মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
অনুষ্ঠানের শেষদিকে প্রাক্তন অ্যালামনাইরা তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা জানান, আইসিসিআর-এর বৃত্তি তাদের জীবনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং মানুষের আন্তরিকতায় তারা মুগ্ধ হয়েছেন। এছাড়া তারা এই ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীরা একই সুযোগ পেতে পারেন।
অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এতে সংগীত ও পরিবেশনার মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মিলনধারা উপস্থাপন করা হয়, যা উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করে। পরিবেশনার মাধ্যমে দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, সংগীত এবং সঙ্গীতায়োজনের সমন্বয় অভিজ্ঞ দর্শকদের মধ্যে সেতুবন্ধনের শক্তিশালী বার্তা দেয়।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের জন্য আয়োজন করা হয় এক আন্তরিক মতবিনিময় পর্ব, যেখানে তারা পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক, সংস্কৃতি এবং সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত বিনিময় করেন। আলোচনা থেকে পরিষ্কার হয় যে, আইসিসিআর কেবল শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের জীবন্ত প্রতীক।
সার্বিকভাবে, আইসিসিআর-এর ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেটে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের এই আয়োজন ছিল অত্যন্ত অর্থবহ এবং সময়োপযোগী। এটি বাংলাদেশের শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং সুশীল সমাজের জন্য এক শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। অনুষ্ঠানটি প্রমাণ করে যে, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া প্রতিষ্ঠায় আইসিসিআর-এর অবদান অব্যাহত এবং ভবিষ্যতেও তা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।

