প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করার ঘটনা স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মাদকবিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এই সাফল্যকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত একটি চক্রের উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সক্রিয় থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৮ এপ্রিল) রাত পৌনে আটটার দিকে বড়লেখা পৌরসভার পূর্ব গাজিটেকা মসজিদের সামনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান খানের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি অনুকূলে এলে অভিযান চালিয়ে মাহমুদ হাসান রাসেল (২৬) নামে এক যুবককে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত রাসেল বড়লেখা সদর ইউনিয়নের বিওসি কেছরিগুল (মধ্য ডিমাই) গ্রামের বাসিন্দা এবং রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে। স্থানীয়দের কাছে তিনি পূর্বে থেকেই পরিচিত হলেও তার বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে জড়িত থাকার বিষয়টি অনেকের কাছেই অজানা ছিল বলে জানা গেছে।
অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রাসেলের সঙ্গে থাকা আরও দুই সহযোগী দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তবে পালিয়ে গেলেও তাদের পরিচয় ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানায়, রাসেলের কাছ থেকে ২০টি আলাদা প্যাকেটে সংরক্ষিত মোট ৪ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা। ধারণা করা হচ্ছে, এই চালানটি স্থানীয় বাজারে সরবরাহের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল। এত বড় পরিমাণ ইয়াবা একসঙ্গে উদ্ধার হওয়ায় এর পেছনে একটি সুসংগঠিত চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অভিযান চলাকালে একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন হিরো মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়, যা ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া রাসেলের ব্যবহৃত একটি রেডমি ব্র্যান্ডের মুঠোফোনও জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, মোবাইল ফোনটির মাধ্যমে মাদক লেনদেনের বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যেতে পারে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বড়লেখা থানার ওসি মনিরুজ্জামান খান এ বিষয়ে বলেন, ইয়াবার একটি বড় চালান আসার খবর পেয়ে তারা দ্রুত অভিযান পরিচালনা করেন এবং সফলভাবে একজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। তিনি আরও জানান, পলাতক দুই সহযোগীকেও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং পুরো চক্রটি চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বড়লেখা সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এখানে মাঝেমধ্যে মাদক চোরাচালানের ঘটনা ঘটে থাকে। তবে পুলিশের এই ধরনের অভিযানে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, নিয়মিত অভিযান চালানো হলে মাদক ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হবে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়াবা একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর মাদকদ্রব্য, যা তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান শুধু আইন প্রয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির দিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন।
গ্রেপ্তারকৃত রাসেলের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হতে পারে, যাতে করে তার কাছ থেকে আরও তথ্য সংগ্রহ করা যায় এবং পুরো চক্রটি উন্মোচন করা সম্ভব হয়।
এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে একদিকে যেমন উদ্বেগ রয়েছে, তেমনি পুলিশের তৎপরতায় স্বস্তিও প্রকাশ করেছেন অনেকেই। তারা আশা করছেন, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে বড়লেখা উপজেলায় মাদকের বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।
সব মিলিয়ে, বড়লেখায় ৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার এবং এক যুবকের গ্রেপ্তার কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি মাদকবিরোধী অভিযানে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই অভিযানের ধারাবাহিকতা কতটা বজায় রাখা যায় এবং এর মাধ্যমে কতটা কার্যকরভাবে মাদক চক্রগুলোকে নির্মূল করা সম্ভব হয়।


