প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেটের জালালাবাদ থানাধীন টুকেরবাজার এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে ৬৪৭ বোতল বিদেশি মদসহ অলি আহমদ (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেল এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। অভিযানের সময় পুলিশ একটি মিনি-পিকআপ গাড়িকে চেকপোস্টে থামানোর চেষ্টা করলেও গাড়িটি সিগন্যাল অমান্য করে আম্বরখানা হয়ে মদিনা মার্কেটের দিকে চলে যায়। এরপর পুলিশ ধাওয়া শুরু করে এবং টুকেরবাজারস্থ হাজী আব্দুস ছাত্তার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে গাড়িটি আটক করে তল্লাশি চালিয়ে বিদেশি মদ সহ তাকে গ্রেপ্তার করে।
অলি আহমদ মাদারীপুর জেলার শিবচর থানাধীন নমোকান্দি এলাকার জলিল মৃধা ও আলিয়া বেগমের ছেলে। পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে জালালাবাদ থানায় মামলা (নং-২/২/৪/২৬) দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে সোর্পদ করা হবে। মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) মনজুরুল আলম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় টুকেরবাজার এলাকা সম্পূর্ণভাবে পুলিশি নজরদারিতে ছিল। মিনি-পিকআপ গাড়িটি সিগন্যাল অমান্য করে দ্রুত গন্তব্যের দিকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করায় পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। পুলিশ দ্রুত গাড়িটি আটক করে তল্লাশি চালানোর ফলে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ উদ্ধার সম্ভব হয়। পুলিশের অভিযানের সময় স্থানীয়রা সরেজমিনে উপস্থিত ছিলেন এবং পুলিশি কার্যক্রম সরাসরি দেখেছেন।
মহানগর পুলিশ মনে করাচ্ছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি অবৈধ মদ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ করা তাদের দায়িত্ব। টুকেরবাজারের এই অভিযান দেখিয়েছে, পুলিশ নিয়মিত চেকপোস্ট ও নজরদারির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। উদ্ধারকৃত ৬৪৭ বোতল বিদেশি মদ সম্ভাব্য সামাজিক ও আইনগত ক্ষতি থেকে জনসাধারণকে রক্ষা করেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রেপ্তার অলি আহমদ দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি মদ পরিবেশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাকে পুলিশ সিলেট জেলাতে নিয়ে আসে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযানের পর পুলিশের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমে লিপ্ত হলে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, টুকেরবাজার এলাকায় মাঝে মাঝে এমন অবৈধ মদ পরিবহন ও বিক্রির ঘটনা ঘটে। পুলিশের এ ধরনের অভিযান জনসাধারণকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া, পুলিশি সতর্কতা ও অভিযান স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি সমাজে আইন শৃঙ্খলার সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
পুলিশের ধারা অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে আদালতে সোর্পদ করা হলে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই ঘটনায় সাধারণ মানুষ আশ্বস্ত হয়েছেন যে, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। এছাড়া, স্থানীয় প্রশাসনও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে তৎপর হবে।
এ ধরনের অভিযান দেখায় যে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ মদ ও মাদকদ্রব্যের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ অব্যাহত থাকবে এবং পুলিশের তৎপরতা জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


