প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেট অঞ্চলে শুক্রবার দুপুরের মধ্যেই ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে বজ্রবৃষ্টিসহ ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সিলেট ও এর আশপাশের নদীবন্দরকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয়রা এই সময় তাদের যাত্রী ও নৌযান নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ মনোযোগ রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
আবহাওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে এক নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। নদীবন্দরগুলোকে সতর্ক করে দেওয়ার মাধ্যমে স্থানীয় জেলে ও নৌপরিবহন কর্মীদের ক্ষতির ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আরও জানান, ঝোড়ো হাওয়ার পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ ও বৃষ্টিপাতের কারণে সড়ক ও মাঠের পরিবেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই স্থানীয় মানুষকে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে এবং বহিরঙ্গন কর্মকাণ্ড কমিয়ে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শহর ও গ্রামাঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও জরুরি পরিষেবা কেন্দ্রগুলোরও ঝোড়া ও বজ্রবিদ্যুতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিনে আবহাওয়ার এই ধরনের অস্থিরতা নতুন নয়। কিন্তু হঠাৎ করে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগের ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা জনজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। সড়ক ও যান চলাচলে ঝুঁকি সৃষ্টি হবে, ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজকর্ম বাধাগ্রস্ত হবে এবং স্কুল-কলেজে পড়াশোনায় বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
সিলেট জেলা প্রশাসনও জরুরি প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীবন্দরগুলোকে সতর্ক করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে হালনাগাদ আবহাওয়ার খবর সরবরাহ করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষকে সতর্ক থাকার জন্য বার্তা প্রচার করা হচ্ছে।
আবহাওয়ার এই পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঝোড়ো হাওয়ার সময় খোলা স্থানে থাকা বিপজ্জনক হতে পারে। এছাড়া বিদ্যুৎ তারের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা জরুরি। স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যজীবীদেরও তাদের ফসল এবং নৌকা, যাত্রীবাহী নৌযান এবং মাছ ধরা সংক্রান্ত কাজে ঝুঁকি কমানোর জন্য বিশেষ নজর রাখতে হবে।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, আবহাওয়ার এই অস্থিরতা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। তাই স্থানীয় প্রশাসন, রাজস্ব ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোকে জনসাধারণকে সুরক্ষিত রাখার জন্য সব প্রস্তুতি নিতে হবে।


