প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূরকে দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে হেনস্তার ঘটনায় প্রত্যাহার করে সিলেটে বদলি করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ থেকে প্রত্যাহার করে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রজ্ঞাপনটি সরকারি কর্মচারী বাতায়ন ওয়েবসাইটেও প্রকাশিত হয়েছে।
বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তা ফয়সাল আল নূরকে জনস্বার্থে এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ প্রশাসনিক দায়িত্বে যুক্ত করার উদ্দেশ্যে এই পদায়ন করা হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, ফয়সাল আল নূরকে তার বর্তমান পদ থেকে প্রত্যাহার করে সিলেট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে পরবর্তী পদায়নের জন্য ন্যস্ত করা হলো।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে চান্দিনা উপজেলা সহকারী কমিশনার কার্যালয়ে। দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার দেবিদ্বার প্রতিনিধি রাসেল সরকার এবং ফেস দ্য পিপল-এর দেবিদ্বার প্রতিনিধি আব্দুল আলীম ওইদিন এক নিকটাত্মীয়ের জমি খারিজ সংক্রান্ত শুনানিতে অংশ নেয়ার জন্য এসেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সহকারী কমিশনার ফয়সাল আল নূর ওই সময়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে সাংবাদিকদের দুপুর ২টা পর্যন্ত বসিয়ে রেখেছিলেন এবং শুনানি কার্যক্রম সম্পন্ন করেননি।
সাংবাদিকরা শুনানির ব্যাপারে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। একপর্যায় ঘটনাটি ভিডিওধারণের চেষ্টা করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। এরপর থানায় ফোন করে পুলিশ পাঠান এবং দুই সাংবাদিককে আটক করান। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিকদের থানায় নিয়ে যায়। পরে সাংবাদিকদের একটি মুচলেকা দিয়ে ছাড়া দেওয়া হয়, যাতে তারা আর বাড়াবাড়ি করবেন না।
ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা ও আলোচনা শুরু হয়। এরপরই সরকারের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব বরমান হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে ফয়সাল আল নূরের বদলির আদেশ জারি করা হয়।
এ বিষয়ে ফয়সাল আল নূরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল কেটে দিয়েছেন। ফলে তার পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় প্রশাসনিক ও সাংবাদিক মহলে মনে করা হচ্ছে, এই পদক্ষেপ সরকারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সংবাদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। ঘটনা প্রমাণ করে, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনকালে আচরণগত সীমা অতিক্রম করলে তা শুধু স্থানীয় সরকারের প্রতি আস্থা কমায় না, জনগণের সঙ্গে প্রশাসনের সম্পর্কেও প্রভাব ফেলে।
প্রতিটি প্রশাসনিক পদে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা যে, সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার প্রতি উদাসীন থাকা বরদাস্তযোগ্য নয়। একই সঙ্গে এই ঘটনায় প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের প্রতিক্রিয়া দ্রুততার সঙ্গে কার্যকর হয়েছে।
সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সরকারী পদক্ষেপ হিসেবে এ বদলি গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে এই ঘটনা এখনো সমালোচনা ও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।


