প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
পরিবেশ সচেতনতা ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় নতুন উদ্যোগ নিয়েছে হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ। ডেঙ্গু ও এডিস মশার বিস্তার রোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন, যা ইতোমধ্যে এলাকাবাসীর মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। রবিবার সকালে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়, যার মধ্য দিয়ে জেলার বিভিন্ন স্থাপনায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সকাল ১০টার দিকে জেলা পরিষদ কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক আহমেদ আলী মুকিব নিজ হাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করেন। প্রতীকী এই উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি শুধু একটি কার্যক্রমের সূচনা করেননি, বরং জনসচেতনতার একটি বার্তাও পৌঁছে দিতে চেয়েছেন।
উদ্বোধনের পর সংক্ষিপ্ত আলোচনায় তিনি বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা শুধু একটি দৈনন্দিন অভ্যাস নয়, এটি মানুষের নৈতিক দায়িত্বের অংশ। তিনি উল্লেখ করেন, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই মূল্যবোধ থেকেই তিনি কার্যক্রমটির সূচনা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, জেলা পরিষদের আওতাধীন সব স্থাপনা এবং ডাকবাংলো প্রাঙ্গণে ধারাবাহিকভাবে এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে পরিবেশকে সুস্থ ও বাসযোগ্য রাখাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
বর্তমানে হবিগঞ্জ শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুরবস্থার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষায়, ড্রেনগুলোতে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা এবং পানি নিষ্কাশনের দুর্বল ব্যবস্থা ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। খুব শিগগিরই এসব ড্রেন পরিষ্কার করার জন্যও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
এই কার্যক্রমের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। বিশেষ করে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে জমে থাকা পানি অপসারণ অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতে প্রশাসন বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) অরুণ কৃষ্ণ পাল, হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. ফজলুর রহমান, জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম বাবুল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব হাসবি সাঈদ চৌধুরী এবং জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জিল্লুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ শুধু রোগমুক্ত জীবন নিশ্চিত করে না, বরং মানুষের মানসিক সুস্থতাও বজায় রাখে। তারা সবাই মিলে এই উদ্যোগকে সফল করার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হন, তাহলে খুব সহজেই একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে মশার বংশবিস্তার রোধ করা। এর জন্য বাড়ির আশপাশে কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে না দেওয়া, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার রাখা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে চেয়েছে—পরিচ্ছন্নতা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্ব। সবাই মিলে সচেতন হলে তবেই একটি সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
সব মিলিয়ে, হবিগঞ্জে শুরু হওয়া এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুধু একটি প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়, বরং এটি একটি সামাজিক আন্দোলনের সূচনা বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই কার্যক্রম যদি ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া যায়, তবে তা ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি একটি সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


