প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেট ও সুনামগঞ্জে পৃথক সাঁড়াশি অভিযানে অনলাইন জুয়া, মাদক কারবার এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯)। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, গাঁজা, অনলাইন জুয়ার বিভিন্ন আলামত এবং একাধিক স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে। র্যাব জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এসব অভিযানের মাধ্যমে অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
র্যাব-৯ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে রোববার (২৬ জুলাই) রাত পর্যন্ত সিলেট নগরীর শাহপরাণ ও দক্ষিণ সুরমা এলাকা এবং সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে অনলাইন জুয়া পরিচালনাকারী চক্র, মাদক ব্যবসায়ী এবং একটি হত্যা মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক করা হয়েছে।
সিলেট নগরীর শাহপরাণ থানার খাদিম চৌমুহনী পয়েন্ট এলাকায় শনিবার সন্ধ্যায় পরিচালিত অভিযানে অনলাইন জুয়ার একটি আসর থেকে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। গ্রেফতার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনলাইন অ্যাপ ব্যবহার করে জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন বিমানবন্দর থানার খাদিম চা-বাগান এলাকার দীপ্ত চাষা (২১), অজয় কল (২৬), পাপলু তন্তবায় (২৬) এবং অন্তর নায়েক (২০)। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা চারটি স্মার্টফোন পরীক্ষা করে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য ও আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র্যাব। পরবর্তীতে জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে তাদের শাহপরাণ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
একই রাতে নগরীর দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ভার্থখলা এলাকায় আরেকটি অভিযান পরিচালনা করে র্যাব-৯। ভার্থখলা মসজিদ মার্কেটের পেছনের নদীতীরবর্তী এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে তিনজন সন্দেহভাজন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ২৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং প্রায় ১ দশমিক ৫৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলা এলাকার মো. আকবর হোসেন (৩৮), হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার মো. মোতালিব মিয়া (২২) এবং ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার মো. সাহিন (৩০)। র্যাব জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
অন্যদিকে রোববার রাত ৯টার দিকে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের পাগলা বাজার পিকআপ স্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া পরিচালনার অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। র্যাবের দাবি, তারাও দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন।
সুনামগঞ্জ থেকে গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন শান্তিগঞ্জ উপজেলার শত্রুমর্দন এলাকার বাদশা মিয়া (৩৮), রায়পুর এলাকার জলিল আহমেদ ওরফে আব্দুল জলিল (২৯) এবং শত্রুমর্দন এলাকার মো. বিল্লাল হোসেন (২৬)। তাদের বিরুদ্ধেও জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের এবং জব্দ করা আলামত শান্তিগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন জুয়ার বিস্তার এবং মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে র্যাব নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। অপরাধ সংঘটনের তথ্য পাওয়ার পরপরই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি জানান, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মাদক ও জুয়ার মতো অপরাধ সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি। এসব অপরাধে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরের পাশাপাশি তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নেটওয়ার্কও তদন্ত করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে অনলাইনভিত্তিক জুয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে মাদক পাচার ও বিক্রির নতুন কৌশলও ব্যবহার করছে অপরাধচক্র। ফলে গোয়েন্দা নজরদারি, প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত এবং নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অনলাইন জুয়া ও মাদক সমাজের তরুণদের বিপথে ঠেলে দিচ্ছে এবং সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকেও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
র্যাব জানিয়েছে, সিলেট বিভাগজুড়ে অপরাধ দমনে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। মাদক, অনলাইন জুয়া, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অন্যান্য সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই ধরনের ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত হবে।

