প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক এবং নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা টানা নয় দিনের ছুটি পেতে যাচ্ছে। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের সংশোধিত ছুটির তালিকায় দুর্গাপূজার নির্ধারিত ছুটিতে কোনো পরিবর্তন না এলেও এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘ এই অবকাশ তৈরি হয়েছে। ফলে পূজার ছুটিকে ঘিরে পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি দূরে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগও পাবেন অনেক শিক্ষার্থী।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সংশোধিত ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ১৮ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক এবং নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছুটি থাকবে। এই পাঁচ দিনের নির্ধারিত ছুটির সঙ্গে আগে ও পরে থাকা সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় ছুটির মোট সময় দাঁড়াচ্ছে নয় দিন।
ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীদের ছুটি শুরু হবে। এর পরের দুই দিন ১৬ ও ১৭ অক্টোবর শুক্রবার ও শনিবার হওয়ায় সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে। এরপর ১৮ অক্টোবর রোববার থেকে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলবে দুর্গাপূজার নির্ধারিত পাঁচ দিনের ছুটি। পূজার ছুটি শেষ হওয়ার পরও ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকছে। ফলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ফিরতে হবে ২৫ অক্টোবর রোববার।
অর্থাৎ ১৬ অক্টোবর শুক্রবার থেকে ২৪ অক্টোবর শনিবার পর্যন্ত টানা নয় দিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। ২৫ অক্টোবর রোববার থেকে যথারীতি শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হবে। এর ফলে দুর্গাপূজার নির্ধারিত পাঁচ দিনের ছুটির সঙ্গে চার দিনের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য এই দীর্ঘ অবকাশ তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘ ছুটিকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি আনন্দ ও আগ্রহ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন জেলা বা শহরে বসবাস করেন, তাঁদের জন্য এই সময়টি পরিবারের সঙ্গে থাকার একটি সুযোগ হয়ে উঠতে পারে। পূজার উৎসবকে কেন্দ্র করে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যাওয়া, স্থানীয় মণ্ডপে যাওয়া এবং পারিবারিক আয়োজনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি অনেক পরিবার ছুটির সময়ে স্বল্প দূরত্বের ভ্রমণের পরিকল্পনাও করতে পারে।
সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য দুর্গাপূজা বছরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। পাঁচ দিনের মূল পূজা উপলক্ষে বিদ্যালয়ের নির্ধারিত ছুটি থাকায় তারা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও পারিবারিক আয়োজনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। তবে ছুটির এই সময় শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য নয়; সব শিক্ষার্থীর জন্যই এটি একটি দীর্ঘ বিরতির সুযোগ তৈরি করছে।
শিক্ষাবর্ষে নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট, বাড়ির কাজ এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রমের ব্যস্ততার মধ্যে দীর্ঘ ছুটি শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পাওয়ার সুযোগ দিতে পারে। পরিবারকেন্দ্রিক সময় কাটানো, বই পড়া, সৃজনশীল কাজে যুক্ত হওয়া কিংবা নিজেদের পছন্দের কোনো কাজে সময় দেওয়ার জন্যও এ ধরনের অবকাশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে ছুটির সময় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা একেবারে বন্ধ না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী বার্ষিক পরীক্ষা বা গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে, তারা ছুটির সময় দৈনন্দিন পড়াশোনার একটি সহজ রুটিন বজায় রাখতে পারে। এতে বিদ্যালয় খোলার পর হঠাৎ করে পড়াশোনার চাপ অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা কমবে।
অন্যদিকে, ছুটিকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়গুলোরও কিছু প্রশাসনিক প্রস্তুতি থাকে। বিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার আগে শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষা উপকরণ, বিদ্যুৎ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়। দীর্ঘ ছুটির পর বিদ্যালয় খোলার আগে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান নিশ্চিত করতে শিক্ষক ও কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুতি নিতে হবে।
দুর্গাপূজার সময় দেশের বিভিন্ন এলাকায় মণ্ডপগুলোতে মানুষের উপস্থিতি বাড়ে। ফলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবকদের সঙ্গে পূজামণ্ডপ বা বিভিন্ন উৎসবস্থলে যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পাশাপাশি ভিড়ের মধ্যে শিশু-কিশোরদের প্রতি বিশেষ নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও প্রতিবছরের মতো এবারও উৎসবকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতীয় দিবসকে কেন্দ্র করে নির্ধারিত ছুটি থাকে। এসব ছুটির উদ্দেশ্য শুধু শিক্ষা কার্যক্রম থেকে সাময়িক বিরতি দেওয়া নয়; শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করাও এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। দুর্গাপূজার ছুটিও সেই ধারার অংশ।
এবারের ছুটির বিশেষত্ব হলো নির্ধারিত পাঁচ দিনের দুর্গাপূজার ছুটির আগে ও পরে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় মোট অবকাশের সময় বেড়ে নয় দিনে দাঁড়িয়েছে। এতে শিক্ষার্থী ও পরিবারের জন্য একটানা দীর্ঘ সময় পাওয়া যাচ্ছে। তবে ছুটির পর বিদ্যালয়ে ক্লাস কার্যক্রমে যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর রোববার থেকে সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক এবং নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে আবার নিয়মিত পাঠদান শুরু হবে। ফলে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি কাটিয়ে শিক্ষার্থীদের পরদিন থেকেই শ্রেণিকক্ষে ফিরতে হবে।
দীর্ঘ এই ছুটি শিক্ষার্থীদের কাছে যেমন আনন্দের, তেমনি পরিবারের কাছেও একসঙ্গে সময় কাটানোর একটি সুযোগ। দুর্গাপূজার উৎসব, পারিবারিক মিলন, বিশ্রাম ও বিনোদনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যদি নিজেদের পড়াশোনা ও ব্যক্তিগত আগ্রহের বিষয়গুলোর জন্যও কিছুটা সময় রাখতে পারে, তাহলে নয় দিনের এই অবকাশ আরও অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে। সব মিলিয়ে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে দেশের মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য আসছে একটানা নয় দিনের ছুটির সুযোগ, যার শুরু ১৬ অক্টোবর এবং শেষ ২৪ অক্টোবর।


