প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় দাড়াইন নদীর তীরবর্তী হাওর রক্ষা স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পকে ঘিরে আদালতের ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও রাতের আঁধারে জোরপূর্বক কাজ চালিয়ে যাওয়া হয়েছে, যা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারী জমির মালিক পিকলু তালুকদার জানান, তার রেকর্ডীয় জমি নিয়ে বিরোধের কারণে আদালতে মামলা দায়ের করা হলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সংশ্লিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন। সেই অনুযায়ী উভয় পক্ষকে ওই স্থানে কোনো ধরনের নির্মাণকাজ বা প্রবেশ না করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, নিষেধাজ্ঞা জারির পরদিনই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন রাতের আঁধারে পুনরায় কাজ শুরু করে। পিকলু তালুকদার দাবি করেন, তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক কাজ চালানো হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও ধারণ করে তিনি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দেন বলেও জানান। তার ভাষায়, আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও এভাবে কাজ চালানো সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এটি আইনের সরাসরি অবমাননা।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হলে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসে। তবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড-এর শাল্লা শাখার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, রাতের আঁধারে কোনো নতুন নির্মাণকাজ হয়নি। তাদের মতে, আগের স্থাপিত ব্লক ও কিছু মালামাল সরানোর কাজ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে উপ-সহকারী প্রকৌশলী আফজাল মিয়া বলেন, সেখানে কিছু ব্লক ও নির্মাণসামগ্রী আগে থেকেই রাখা ছিল। সেগুলো নিরাপদ স্থানে সরানোর জন্যই রাতের বেলায় শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানো হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নতুন কোনো বাঁধ নির্মাণ কার্যক্রম চালানো হয়নি। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ না করে সরাসরি সাক্ষাতে আলোচনা করার প্রস্তাব দেন।
অন্যদিকে শাল্লা থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই জাকির হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর উভয় পক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন তারা আদালতের আদেশ মেনে চলেন এবং কোনো ধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, আদালতের ১৪৪ ধারা চলমান থাকাকালীন কোনো পক্ষই সেখানে কাজ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারবে না। বিষয়টি প্রশাসন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ (পওর-২) নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদুল হক জানান, আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের অনুমতি ছাড়া ওই এলাকায় কোনো ধরনের ব্লক স্থাপন বা মালামাল স্থানান্তর করা যাবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয়দের মতে, হাওর রক্ষা বাঁধ প্রকল্প কৃষি ও জীবিকা রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে জমি বিরোধ ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে যদি প্রকল্পে অনিয়ম বা আইন অমান্য হয়, তাহলে তা ভবিষ্যতে বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। তারা দ্রুত বিষয়টি সমাধানের পাশাপাশি স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৪৪ ধারা চলাকালীন কোনো ধরনের কাজ বা প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকে। এ অবস্থায় কাজ করা হলে তা আদালত অবমাননার শামিল হতে পারে, যা গুরুতর আইনি পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে শাল্লার এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা তৈরি করেছে এবং আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছে বলে জানানো হলেও, শেষ পর্যন্ত বিষয়টি কোন দিকে গড়ায় তা এখন সবার নজরে।


