শান্তিগঞ্জে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনবে সরকার

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

হাওরাঞ্চলখ্যাত সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, খাদ্য মজুত শক্তিশালী করা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানোর লক্ষ্য নিয়ে এবার উপজেলায় মোট ২ হাজার ১৯৫ মেট্রিক টন বোরো ধান সংগ্রহ করবে সরকার। স্থানীয় কৃষকদের জন্য এটি স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ প্রতিবছর ফসল ঘরে তোলার পর বাজারে ধানের দাম কমে গেলে কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। সেই পরিস্থিতিতে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সরাসরি ধান কেনার উদ্যোগ কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপজেলা অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির সাধারণ সভায় এ তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান। সভায় স্থানীয় প্রশাসন, কৃষি বিভাগ, খাদ্য বিভাগ, সমবায় বিভাগ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় জানানো হয়, চলতি মৌসুমে সরকার প্রতি কেজি বোরো ধানের মূল্য নির্ধারণ করেছে ৩৬ টাকা। সে হিসেবে প্রতি মণের দাম দাঁড়াচ্ছে ১ হাজার ৪৪০ টাকা। আগামী ৩ মে থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত খাদ্য বিভাগের মাধ্যমে এই ধান সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে উপজেলার আগ্রহী কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনা হবে। একজন কৃষক সর্বনিম্ন ৩ মন এবং সর্বোচ্চ ৭৫ মন পর্যন্ত ধান বিক্রি করতে পারবেন।

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেক সময় বেসরকারি বাজারে ধানের দাম উৎপাদন খরচের কাছাকাছি নেমে আসে। এতে কৃষকরা লাভ তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে ঋণ পরিশোধ করতেও হিমশিম খান। সরকার নির্ধারিত দামে ধান বিক্রির সুযোগ থাকলে কৃষকরা অন্তত ন্যায্য মূল্য পাবেন বলে আশা করছেন তারা।

শান্তিগঞ্জের কৃষক সমাজের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের বোরো মৌসুমে আবহাওয়া তুলনামূলক অনুকূলে থাকায় উৎপাদন ভালো হয়েছে। তবে কৃষকদের বড় উদ্বেগ ছিল ধানের বাজারদর নিয়ে। অনেক কৃষক আগাম ঋণ, সার, বীজ ও শ্রমিক খরচ বহন করে ফসল ফলান। কিন্তু ফসল ঘরে ওঠার পর দাম কমে গেলে তারা আর্থিক চাপে পড়ে যান। তাই সরকারি ক্রয় কার্যক্রমকে তারা বড় সহায়তা হিসেবে দেখছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আহসান হাবিব সভায় বলেন, শান্তিগঞ্জ হাওরাঞ্চলের কৃষিনির্ভর একটি উপজেলা। এখানকার অর্থনীতি মূলত বোরো ধানকেন্দ্রিক। কৃষকদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত ও নিবন্ধন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকেই ধান কেনার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আব্দুর রব জানান, ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। যাতে কোনো অসাধু চক্র বা মধ্যস্বত্বভোগী সুযোগ নিতে না পারে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। তিনি বলেন, কৃষকদের হয়রানি ছাড়া সহজ প্রক্রিয়ায় ধান বিক্রির সুযোগ নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।

সভায় উপস্থিত জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতারাও কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর মনিটরিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাদের মতে, অতীতে অনেক সময় প্রকৃত কৃষকদের বদলে অন্যরা সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তাই এবার যেন প্রকৃত কৃষকরাই সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ পান, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল কবির বলেন, কৃষকের ঘাম ও পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়, এটি সামাজিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও জড়িত। কৃষক বাঁচলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তাও শক্তিশালী হবে। তাই সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাওরাঞ্চলে বোরো ধান শুধু একটি কৃষিপণ্য নয়, বরং এটি স্থানীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। সুনামগঞ্জসহ বৃহত্তর হাওরাঞ্চলের লাখো মানুষ সরাসরি এই ফসলের ওপর নির্ভরশীল। তাই ধানের বাজারদর, সরকারি ক্রয়নীতি এবং কৃষকদের সহায়তা কার্যক্রম এই অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বড় প্রভাব ফেলে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকার নির্ধারিত মূল্যে সরাসরি ধান সংগ্রহ করলে বাজারে একটি ইতিবাচক বার্তা যায়। এতে বেসরকারি ব্যবসায়ীরাও খুব কম দামে ধান কেনার সুযোগ পান না। ফলে সামগ্রিক বাজারদর কিছুটা স্থিতিশীল থাকে। একই সঙ্গে কৃষকদের উৎপাদনে আগ্রহও বাড়ে।

এদিকে কৃষকরা আশা করছেন, শুধু ধান সংগ্রহ নয়, ভবিষ্যতে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য আরও আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা, সহজ কৃষিঋণ, কম খরচে সার ও বীজ সরবরাহ এবং কৃষিযন্ত্রের সহায়তা বাড়ানো হবে। কারণ প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা ও ঝড়ের ঝুঁকি মোকাবিলা করেই তাদের ফসল উৎপাদন করতে হয়।

স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকার ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী ধান সংগ্রহ কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হচ্ছে। কৃষকদের যেন কোনো ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে শান্তিগঞ্জে সরকারিভাবে বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রমকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন কৃষক ও স্থানীয় জনগণ। তাদের আশা, এই উদ্যোগ শুধু কৃষকদের আর্থিক স্বস্তিই দেবে না, বরং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকেও আরও শক্তিশালী করবে।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

হবিগঞ্জে ডিজেল বিক্রিতে অনিয়ম, দুই ব্যবসায়ীর জরিমানা

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

এসপিকে ঘুষ দিতে গিয়ে কুলাউড়ায় আটক ২

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

মৌলভীবাজারে বৃষ্টিতে ডুবছে ৮৯৭ হেক্টর ফসল বোরো ধান

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

শাল্লায় বৃষ্টি-ঝড়ে বিপর্যস্ত হাওর ও জনজীবন, বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্ক বন্ধ

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

দিরাইয়ে আগুনে ছাই ৬ দোকান, নিঃস্ব ব্যবসায়ীরা

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

হবিগঞ্জে ডিজেল বিক্রিতে অনিয়ম, দুই ব্যবসায়ীর জরিমানা

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

এসপিকে ঘুষ দিতে গিয়ে কুলাউড়ায় আটক ২

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

মৌলভীবাজারে বৃষ্টিতে ডুবছে ৮৯৭ হেক্টর ফসল বোরো ধান

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

দিরাইয়ে আগুনে ছাই ৬ দোকান, নিঃস্ব ব্যবসায়ীরা

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

তাহিরপুরে শুক্রবার ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বাসিয়া নদীতে সেতুর অপেক্ষায় আট গ্রামের মানুষ

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

শমশেরনগর বিমানবন্দর ঘিরে নতুন স্বপ্ন

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ