প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সিলেটের এই জামায়াত নেতা এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ আসনে দলটির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সেই নির্বাচনে জয় না পেলেও এবার রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচনী মাঠে নামছেন তিনি।
রোববার (৪ অক্টোবর) এক অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। একই অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে মো. আবু সাদিক, যিনি সাদিক কায়েম নামে পরিচিত, তাকেও দলীয় প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণার মধ্য দিয়ে নগর রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। বিশেষ করে ঢাকা উত্তর সিটির মতো জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ একটি সিটি করপোরেশনে সেলিম উদ্দিনকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত দলটির রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে তাদের অবস্থানকে আলোচনায় এনেছে।
প্রার্থী পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান সেলিম উদ্দিনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় খাল, নর্দমাসহ যেসব স্থানে ডেঙ্গুর মশার প্রজনন হতে পারে, সেসব স্থান পরিচ্ছন্ন করার উদ্যোগ ইতোমধ্যে শুরু করেছেন সেলিম উদ্দিন।
রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের অন্যতম বড় সমস্যার মধ্যে জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, খাল-নালা দখল ও দূষণ এবং মশাবাহিত রোগের বিস্তার উল্লেখযোগ্য। বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে থাকার কারণে নাগরিক দুর্ভোগ বাড়ে। একই সঙ্গে অপরিষ্কার নালা, জমে থাকা পানি ও অপর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি তৈরি করে। ফলে মেয়র প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি নগর ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ে তাদের পরিকল্পনাও ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
শফিকুর রহমান সেলিম উদ্দিনকে প্রার্থী ঘোষণা করে বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে তাকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি খাল ও নর্দমা পরিষ্কার করার উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন। এর মাধ্যমে দলটি নগরবাসীর দৈনন্দিন সমস্যাগুলোকে নির্বাচনী আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সামনে আনতে চাইছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে সিলেটের রাজনীতিরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। গত সংসদ নির্বাচনে তিনি সিলেট-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হতে পারেননি। তবে নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার ধারাবাহিকতায় এবার তার সামনে এসেছে রাজধানীর উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ।
সিলেট-৬ আসনের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় পর্যায়ে আগ্রহের বিষয়। এই আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পর এবার ঢাকার মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার কারণে সেলিম উদ্দিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নতুন পরিসরে আলোচনায় এসেছে। একটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার অভিজ্ঞতার পর রাজধানীর একটি বৃহৎ নগর এলাকার নেতৃত্বের জন্য মাঠে নামা তার রাজনৈতিক পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ নগর প্রশাসনিক এলাকা। এর বিস্তৃত জনবসতি, ব্যস্ত বাণিজ্যিক অঞ্চল, আবাসিক এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং দ্রুত সম্প্রসারিত নগরাঞ্চলের কারণে এই সিটি করপোরেশনের মেয়র পদকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নগরবাসীর সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা, মশাবাহিত রোগ, খাল উদ্ধার, সড়ক ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ রক্ষার মতো নানা বিষয়ে মেয়রকে দায়িত্ব পালন করতে হয়।
এ কারণে সেলিম উদ্দিনের প্রার্থিতা সামনে আসার পর তার নগর পরিচালনার পরিকল্পনা কী হবে, নাগরিক সেবা কীভাবে উন্নত করার কথা ভাবছেন এবং ঢাকা উত্তরকে কী ধরনের নগর হিসেবে গড়ে তুলতে চান—এসব বিষয়ও নির্বাচনী আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। বিশেষ করে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়কে সামনে রেখে যে উদ্যোগের কথা দলীয়ভাবে তুলে ধরা হয়েছে, সেটি নগরবাসীর বাস্তব সমস্যার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
অন্যদিকে একই অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে মো. আবু সাদিককে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনেই নিজেদের প্রার্থী সামনে এনে নির্বাচনী প্রস্তুতির একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ—দুই সিটি করপোরেশনের ভৌগোলিক ও সামাজিক বাস্তবতা ভিন্ন হওয়ায় দলটির দুই প্রার্থীর কাছ থেকেই পৃথক নগর পরিকল্পনা প্রত্যাশিত হতে পারে।
নগর নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী ঘোষণা সাধারণত ভোটারদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করে। কারণ মেয়র পদটি শুধু রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের বিষয় নয়, এটি সরাসরি নাগরিক জীবনের সঙ্গে যুক্ত। রাস্তাঘাট, বর্জ্য অপসারণ, ড্রেনেজ, খাল রক্ষণাবেক্ষণ, মশক নিয়ন্ত্রণ, জনস্বাস্থ্য এবং নাগরিক সেবার মান অনেকটাই সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করে।
সেলিম উদ্দিনের ক্ষেত্রে সিলেটের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের পর এবার ঢাকার মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত তার প্রার্থিতা কতটা জনসমর্থন অর্জন করতে পারে, তা নির্ভর করবে নির্বাচনী প্রচারণা, নাগরিকদের কাছে তার পরিকল্পনা উপস্থাপন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের অবস্থান এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।
এখন পর্যন্ত দলীয় পর্যায়ে তাকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সামনে নির্বাচনী কার্যক্রম এগোলে নগরবাসীর বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তার অবস্থান, কর্মপরিকল্পনা এবং প্রতিশ্রুতিগুলো আরও স্পষ্ট হওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ভোটাররাও প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে তাদের বাস্তবসম্মত নগর পরিকল্পনা ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার সক্ষমতা মূল্যায়নের সুযোগ পাবেন।
রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণার মধ্য দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী তৎপরতায় নতুন মাত্রা যুক্ত হলো। ঢাকা উত্তরে সিলেটের সেলিম উদ্দিনের প্রার্থিতা এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি নগরবাসীর মধ্যেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের সময় যত এগিয়ে আসবে, ততই তার রাজনৈতিক অবস্থান, নগর উন্নয়ন ভাবনা এবং নাগরিক সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা নিয়ে আগ্রহ আরও বাড়তে পারে।


