টিপাইমুখ বাঁধ: সামাদ আজাদকে দায়ী করলেন স্পিকার

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

ভারতের মণিপুরে বরাক নদীর ওপর প্রস্তাবিত টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে জাতীয় সংসদে দেওয়া এক মন্তব্য। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এ প্রকল্পের পেছনে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে বলেছেন, এটি বাংলাদেশের জন্য এক ধরনের “নিজেদের তৈরি দুর্যোগ”। তার এমন মন্তব্য রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মালিক টিপাইমুখ বাঁধের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আওয়াল মিন্টু এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। তবে মন্ত্রীর বক্তব্য শেষে স্পিকার নিজ অভিজ্ঞতার আলোকে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেন, যা সংসদের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

স্পিকার তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, তিনি নিজেও একসময় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন, ফলে এ ধরনের আন্তঃদেশীয় পানি প্রকল্প সম্পর্কে তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি বলেন, ভারতের মণিপুরে বরাক নদীর ওপর প্রস্তাবিত ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন টিপাইমুখ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদের অনুরোধেই গ্রহণ করা হয়েছিল বলে তিনি জানেন। তার ভাষায়, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের পক্ষ থেকেই উৎসাহিত হওয়ায় পরবর্তীতে এর সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাবের দায়ও আংশিকভাবে নিজেদের ওপর বর্তায়।

এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে স্পিকার কার্যত একটি সংবেদনশীল ঐতিহাসিক ও কূটনৈতিক প্রসঙ্গ সামনে নিয়ে আসেন। কারণ টিপাইমুখ বাঁধ দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশে পরিবেশবাদী, বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষের উদ্বেগের কারণ হয়ে আছে। বিশেষ করে সিলেটসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বহু বছর ধরে বিতর্ক চলছে।

টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্পের ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ২০০৩ সালে ভারত বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করে। বরাক নদীর ওপর নির্মিতব্য এই বাঁধটি মূলত একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হিসেবে পরিকল্পিত হলেও এর প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়। কারণ বরাক নদীই পরবর্তীতে বাংলাদেশে প্রবেশ করে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীতে বিভক্ত হয়, যা সিলেট অঞ্চলের প্রধান জীবনরেখা হিসেবে বিবেচিত।

প্রকল্পটি ঘোষণার পর থেকেই বাংলাদেশে পরিবেশবাদী সংগঠন, নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তীব্র প্রতিবাদ জানায়। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে যে, বাঁধ নির্মাণের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হতে পারে, যা কৃষি, মৎস্যসম্পদ, জীববৈচিত্র্য এবং সামগ্রিক পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এমনকি শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ কমে গিয়ে সিলেট অঞ্চলে খরা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হয়।

এই প্রেক্ষাপটে দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে একসময় প্রকল্পটির নির্মাণকাজ স্থগিত করা হয়। তবে ২০০৮ সালের শেষ দিকে আবারও এ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয় বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। এরপর ২০১০ ও ২০১১ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।

সে সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করেন যে, টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, যা বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী। এই আশ্বাসের পর কিছুটা উদ্বেগ কমলেও প্রকল্পটি নিয়ে সন্দেহ ও শঙ্কা পুরোপুরি দূর হয়নি।

ভৌগোলিকভাবে টিপাইমুখ বাঁধটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে অবস্থিত। এটি মণিপুরের চুরাচাঁদপুর জেলার টিপাইমুখ উপবিভাগে বরাক ও তুইভাই নদীর মিলনস্থলের কাছাকাছি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। এ অঞ্চলটি মণিপুর, মিজোরাম ও আসাম—এই তিনটি রাজ্যের সংযোগস্থলের নিকটবর্তী হওয়ায় প্রকল্পটির প্রভাব বহুমাত্রিক হতে পারে বলে মনে করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের আন্তঃসীমান্ত নদী প্রকল্পে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা প্রতিবেশী দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে টিপাইমুখ বাঁধের প্রভাব নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো বৈজ্ঞানিক ঐকমত্য না থাকলেও ঝুঁকির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছতা, তথ্য বিনিময় এবং যৌথ গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

এদিকে স্পিকারের মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, অতীতের সিদ্ধান্ত নিয়ে বর্তমান সময়ে দায় চাপানো বাস্তবসম্মত নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় ও কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়ানোই জরুরি। আবার অন্যদের মতে, অতীতের নীতিগত সিদ্ধান্তের মূল্যায়ন করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো যায়।

সিলেট অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, টিপাইমুখ বাঁধ বাস্তবায়িত হলে তাদের জীবিকা ও পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে কৃষক ও জেলেদের মধ্যে এই আশঙ্কা বেশি, কারণ তাদের জীবন-জীবিকা সরাসরি নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল।

সব মিলিয়ে টিপাইমুখ বাঁধ ইস্যুটি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। স্পিকারের মন্তব্য এই বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, আঞ্চলিক পানি ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশগত নিরাপত্তা বিষয়ে আরও গভীর আলোচনার পথ তৈরি করতে পারে।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

মহানগরীতে বিশেষ অভিযানে আটক ৪২, মামলা ১০১ যানবাহনে

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বড়লেখায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বড়লেখায় ইউএনও গালিব চৌধুরীর বিদায়ী সংবর্ধনা

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ঘোড়ার গাড়িতে বিদায়, শিক্ষককে ভালোবাসার শ্রদ্ধাঞ্জলি

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় দাবিতে জোরালো আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

মহানগরীতে বিশেষ অভিযানে আটক ৪২, মামলা ১০১ যানবাহনে

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বড়লেখায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বড়লেখায় ইউএনও গালিব চৌধুরীর বিদায়ী সংবর্ধনা

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ঘোড়ার গাড়িতে বিদায়, শিক্ষককে ভালোবাসার শ্রদ্ধাঞ্জলি

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

প্রভিডেন্ট ফান্ড বকেয়া, দুশ্চিন্তায় চা শ্রমিকের ভবিষ্যৎ

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত মৌলভীবাজারের জনজীবন

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

দিরাইয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে মহেশ আটক

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ