প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেট সদর উপজেলার ৭ নম্বর মোগলগাঁও ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খিত্তারগাঁও গ্রামে এক অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আর্থিক সংকটে জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করা স্থানীয় জামায়াত কর্মী সিরাজুল ইসলামের ঘর নির্মাণে সহযোগিতার অংশ হিসেবে তাকে ঢেউটিন প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে স্থানীয় পর্যায়ে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে এই সহায়তা হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করা সিরাজুল ইসলামের পরিবারের জন্য এই উদ্যোগ কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে বলে স্থানীয়রা জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর নাজির উদ্দিন। তিনি বলেন, সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো কেবল দয়া নয়, এটি একটি মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব। সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের কষ্ট লাঘব করাই আমাদের সামাজিক অঙ্গীকার হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও এমন মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, যাতে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষরা কিছুটা হলেও স্বস্তি পেতে পারেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোগলগাঁও ইউনিয়ন জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মো. নুরুল আমিন। তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠনের নেতাকর্মীরা যদি একে অপরের পাশে দাঁড়ান, তাহলে সমাজে দারিদ্র্য ও দুর্ভোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব। তিনি এ ধরনের মানবিক উদ্যোগকে সামাজিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি কাওছার আহমদ, জামায়াত নেতা লোকমান হোসেন মাজিদ, মিজানুর রহমান, শাহ লোকমান আহমদ, মোহাম্মদ আলী, শাহ কদ্দুস আলী, হাফিজ এহিয়া আহমদসহ স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিরাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে ভুগছেন। পুরোনো ও জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করতে গিয়ে পরিবারটি নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিল। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ঘরের ভেতর পানি ঢুকে পড়া এবং ঝড়বৃষ্টিতে ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি ছিল নিয়মিত ঘটনা। এমন পরিস্থিতিতে ঘর মেরামতের জন্য ঢেউটিন পাওয়ায় পরিবারটি কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছে।
সিরাজুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা ঘর মেরামতের জন্য কোনো সহায়তা পাননি। স্থানীয়ভাবে অনেকের কাছে সাহায্যের আবেদন করেও প্রত্যাশিত সাড়া পাননি। অবশেষে এই সহায়তা তাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, গ্রামীণ সমাজে এখনো অনেক পরিবার রয়েছে যারা মৌলিক প্রয়োজন পূরণে সংগ্রাম করছে। এ ধরনের সহযোগিতা শুধু একটি পরিবারকেই নয়, পুরো সমাজকে মানবিকতার দিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে।
তারা আরও বলেন, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো যদি নিয়মিতভাবে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যায়, তাহলে সমাজে অসহায় মানুষের কষ্ট অনেকাংশে কমে আসবে।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা ঘর নির্মাণের কাজে ব্যবহারের জন্য ঢেউটিন হস্তান্তর করেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন। সেখানে উপস্থিত সবাই এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করেন।
এদিকে স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, গ্রামীণ এলাকায় এখনো বহু পরিবার রয়েছে যারা ন্যূনতম বাসস্থানের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ এই ধরনের সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সিলেটের গ্রামীণ সমাজে এমন মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ধীরে ধীরে একটি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলে মত স্থানীয়দের। তাদের মতে, কেবল রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে মানবিক সহায়তার উদ্যোগই সমাজে প্রকৃত পরিবর্তন আনতে পারে।
খিত্তারগাঁওয়ের এই উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। অনেকেই বলছেন, এটি ছোট পরিসরের হলেও এর প্রভাব বড়, কারণ এটি একটি অসহায় পরিবারের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে আরও সংগঠন ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম বাড়বে, যাতে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষগুলো অন্তত একটি নিরাপদ আশ্রয় পেতে পারে।

