প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেট মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার নাম ও পদবি ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি সিলেট মহানগরীর একটি গুরুত্বপূর্ণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) পরিচয় ভাঙিয়ে বিভিন্ন সম্মানিত ব্যক্তি, ব্যবসায়ী এবং স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে ফোন কলের মাধ্যমে অনৈতিকভাবে টাকা দাবি করার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এই অপতৎপরতার বিষয়টি গোচরীভূত হওয়ার পর থেকেই পুরো নগরজুড়ে এক ধরনের উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে এই ধরনের প্রতারক চক্রের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে একটি বিশেষ সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে, যেখানে নগরবাসীকে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি নির্দিষ্ট চক্র দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে এ ধরনের অভিনব প্রতারণা চালিয়ে আসছে। গণমাধ্যমে প্রেরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, প্রতারক চক্রটি ০১৮৭০৩৭০৯৩৫ এই মোবাইল নম্বরটি ব্যবহার করে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। ফোনে নিজেদের সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দাবি করে তারা নানা অজুহাতে অর্থ বা চাঁদা দাবি করছে। তবে অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পুলিশ প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, উল্লেখিত এই মোবাইল নম্বরটি কোনোভাবেই কোতোয়ালী মডেল থানার সম্মানিত অফিসার ইনচার্জের ব্যবহৃত সরকারি বা ব্যক্তিগত নম্বর নয়। সম্পূর্ণ অসৎ উদ্দেশ্যে একটি প্রতারক চক্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে এই মিথ্যা পরিচয় ব্যবহার করছে।
এই ধরনের প্রতারণামূলক ফোন কল বা বার্তা পেলে সাধারণ নাগরিকদের আতঙ্কিত না হয়ে বরং অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তা ও ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, উক্ত সন্দেহজনক নম্বর থেকে যদি কোনো ধরনের ফোনকল, খুদে বার্তা কিংবা আর্থিক সহায়তার নামে কোনো বার্তা আসে, তবে সঙ্গে সঙ্গে তা বর্জন করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই এই চক্রের কথায় কান দিয়ে বা প্ররোচিত হয়ে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন করা যাবে না। একটুখানি অসচেতনতাই একজন নাগরিককে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দিতে পারে। তাই পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, এ ধরনের কোনো ফোন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যেন বিষয়টি যাচাই করা হয় এবং কোনোভাবেই যেন কোনো আর্থিক লেনদেন বা বিকাশ-নগদের মতো মাধ্যমে টাকা পাঠানো না হয়।
যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে এই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়ে থাকেন কিংবা এই চক্রের অপচেষ্টার মুখোমুখি হন, তবে তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা দুরূহ। তাই নগরবাসীর সচেতনতা এবং তাৎক্ষণিক তথ্য প্রদান এই চক্রকে পাকড়াও করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সাইবার অপরাধ ও ফোনভিত্তিক প্রতারণা কঠোরহস্তে দমনের জন্য পুলিশ প্রশাসন সবসময় তৎপর রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এই পুরো ঘটনা ও প্রতারক চক্রের অপতৎপরতা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম সংবাদমাধ্যমকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেছেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন যে, জনগণের নিরাপত্তা বিধান এবং এ ধরনের ন্যক্কারজনক প্রতারণা রোধে পুলিশের পক্ষ থেকে সাইবার মনিটরিং ও গোয়েন্দা নজরদারি বহুগুণে জোরদার করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে যারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাম ভাঙিয়ে ফায়দা লুটতে চাইছে, সেই কুচক্রী মহলের নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের খুব দ্রুত খুঁজে বের করা হবে। এই অপরাধের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যারা জড়িত রয়েছেন, তাদের প্রতিটি সদস্যকে আইনের আওতায় আনতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ টিম অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে ও নিবিড়ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অপরাধীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং খুব শীঘ্রই তাদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


