একই প্রকল্পে দ্বৈত বরাদ্দ: বগুড়ায় অনিয়মের পাহাড়

প্রকাশ:  ২৫ জুলাই  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে এক নজিরবিহীন ও চরম অসংগতির চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। দেশের এই প্রত্যন্ত জনপদে উন্নয়নের নামে বরাদ্দ দেওয়া সরকারি অর্থের হরিলুট এবং ব্যাপক প্রশাসনিক অনিয়মের চিত্র এখন মানুষের মুখে মুখে ফিরছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আদমদীঘি উপজেলার ছয়টি নির্দিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্পের বিপরীতে মাত্র পাঁচ মাসের সংক্ষিপ্ত ব্যবধানে দুই দফায় মোট এক কোটি টাকার বিশাল সরকারি বরাদ্দ ছাড় করার তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের দুটি পৃথক ও স্বতন্ত্র সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রথমে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের দিকে ৫০ লাখ টাকা এবং পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের মে মাসের দিকে আরও ৫০ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু অত্যন্ত আশ্চর্যজনক ও রহস্যজনক বিষয় হলো, যেসব নির্দিষ্ট প্রকল্পের অনুকূলে দ্বিতীয় দফায় পুনরায় মোটা অংকের অর্থ বরাদ্দ দেখানো হয়েছে, মাঠপর্যায়ে সরেজমিন অনুসন্ধানে সেইসব প্রকল্পের কাজের কোনো ধরনের দৃশ্যমান বাস্তবায়নের প্রমাণ বা অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। সরকারি কোষাগার থেকে জনগণের কষ্টার্জিত ট্যাক্সের টাকা উত্তোলনের এই অভিনব কায়দা এবং নথিপত্রের সঙ্গে বাস্তবের চরম অমিল গোটা প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

ঘটনার গভীরে প্রবেশ করতে গেলে স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি করা দাপ্তরিক প্রজ্ঞাপনগুলোর দিকে তাকাতে হয়। অনুসন্ধানে জানা যায় যে, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা-২ শাখা থেকে গত ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর একটি সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। সেই প্রজ্ঞাপনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বিশেষ উপজেলা উন্নয়ন সহায়তা খাত থেকে আদমদীঘি উপজেলার ছয়টি নির্দিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত সেই প্রকল্পগুলোর মধ্যে প্রধানত অন্তর্ভুক্ত ছিল উপজেলা কৃষি অফিস পর্যন্ত সংযোগকারী আরসিসি সড়ক নির্মাণ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনের অভ্যন্তরীণ রাস্তা মেরামত, উপজেলা পরিষদের প্রধান প্রশাসনিক ভবন ও পুরোনো প্রশাসনিক ভবন সংস্কার এবং যমুনা ও রূপসা নামের দুটি আবাসিক ভবনের সংস্কারকাজ। এর ঠিক মাত্র পাঁচ মাস পর, অর্থাৎ ২০২৬ সালের ১০ মে স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে আরেকটি সম্পূর্ণ পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সেই নতুন প্রজ্ঞাপনে সংশোধিত এডিপির আওতায় আবারও ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়। দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনের ভাষা ও বিষয়বস্তু গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, সামান্য কিছু শব্দের হেরফের থাকলেও প্রকল্পগুলোর মূল ধরন ও অবকাঠামো প্রায় সম্পূর্ণ এক এবং অভিন্ন। প্রথম প্রজ্ঞাপনে যেখানে কৃষি অফিস পর্যন্ত নতুন আরসিসি সড়ক নির্মাণের কথা বলা হয়েছিল, ঠিক দ্বিতীয় প্রজ্ঞাপনে এসে তা ঘুরিয়ে কৃষি অফিসের সামনের রাস্তা মেরামতের কথা বলা হয়েছে। একইভাবে, ইউএনওর বাসভবনের রাস্তা সংস্কারের কথা পরিবর্তন করে দ্বিতীয় প্রজ্ঞাপনে অভ্যন্তরীণ রাস্তা সংস্কারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনিক ভবন, পুরোনো প্রশাসনিক ভবন এবং যমুনা ও রূপসা আবাসিক ভবনের সংস্কারকাজ দুটি প্রজ্ঞাপনেই হুবহু বহাল রাখা হয়েছে। এর অর্থ দাঁড়ায়, সম্পূর্ণ একই পুরোনো অবকাঠামো ও স্থাপনাকে ঘিরেই দ্বিতীয় দফায় নতুন করে আবার ৫০ লাখ টাকার বরাদ্দ লোপাট করার ফন্দি আঁটা হয়েছিল।

কিন্তু কাগজে-কলমে বিশাল অংকের এই বরাদ্দ দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ে সরকারি নথিপত্রের সঙ্গে বাস্তব চিত্রের ন্যূনতম কোনো মিল পাওয়া যায়নি। সাংবাদিক ও অনুসন্ধানী দলের পক্ষ থেকে সরেজমিনে আদমদীঘি উপজেলা পরিষদ চত্বরে ঘুরে যে দৃশ্য দেখা গেছে, তা অত্যন্ত হতাশার এবং উদ্বেগজনক। কৃষি অফিস সংলগ্ন যে সড়কের কথা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনের প্রবেশপথ, মূল প্রশাসনিক ভবন, পুরোনো প্রশাসনিক ভবন কিংবা যমুনা ও রূপসা আবাসিক ভবন—কোথাও বিগত কয়েকমাসে সাম্প্রতিক কোনো সংস্কার বা উন্নয়নের ন্যূনতম দৃশ্যমান কোনো আলামত বা চিহ্ন চোখে পড়েনি। ভবনগুলোর গায়ে নতুন কার্পেটিংয়ের ছোঁয়া নেই, কোথাও কংক্রিটের কোনো নতুন ঢালাইয়ের বা চুনকাম ও রং করার লেশমাত্র নেই। বরং উল্টো চিত্র হিসেবে দেখা গেছে বিভিন্ন ভবনের দেওয়ালজুড়ে জমে থাকা পুরোনো শ্যাওলার আস্তরণ, পলেস্তারা খসে পড়ার ক্ষত এবং বিভিন্ন স্থানে গজিয়ে ওঠা আগাছা। দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ বা সংস্কারের ছোঁয়া না লাগার কারণে সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো আজ চরম অবহেলা ও বেহাল দশায় পড়ে রয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের ভেতরের দায়িত্বশীল একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আফরোজের কার্যকালে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনসহ কয়েকটি বিশেষ স্থাপনায় কিছু উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়েছিল। এরপর যদি সেই একই স্থাপনায় খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে আবার নতুন করে দুই দফায় লাখ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তা নিয়ে তীব্র যৌক্তিক প্রশ্ন ও সন্দেহ জাগাটাই স্বাভাবিক। প্রশাসনিক নিয়মবহির্ভূত এই বরাদ্দ প্রক্রিয়ার বাইরেও আরও একটি বড় ও গুরুতর অনিয়মের তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা যায় যে, বর্তমানে অত্যন্ত গোপনীয়তা ও হড়মুড় করে উপজেলা পরিষদ চত্বরের দক্ষিণ ও পূর্ব পাশের সীমানা প্রাচীর পুনর্নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পুরো চত্বরজুড়ে যত্রতত্র নির্মাণসামগ্রী ইট, বালু ও সুরকি স্তূপ করে রাখা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে মাটি খুঁড়ে একাকার করে ফেলা হয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, স্থানীয় সরকার বিভাগের ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর এবং ২০২৬ সালের ১০ মে—এই দুটি প্রজ্ঞাপনের কোনোটিতেই কোথাও বিন্দুমাত্র উল্লেখ নেই যে, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ বা পুনর্নির্মাণের জন্য কোনো ধরনের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে বর্তমানে চলমান এই কোটি টাকার কাছাকাছি ব্যয়ের কাজটি মূলত কোন গোপন প্রকল্পের বা ফান্ডের আওতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলে বড় ধরনের ধোঁয়াশা ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

এই অনিয়মের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা জানতে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা প্রকৌশলী রিপন কুমার সাহা সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, গত ১৫ জুন মোট চারটি আলাদা কার্যাদেশের মাধ্যমে সর্বমোট ৮৬ লাখ ৭৯ হাজার ২০১ টাকার কাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো অতি দ্রুততার সঙ্গে ৩০ জুনের আগেই সমস্ত কাজ সম্পন্ন করেছে এবং নিয়মমাফিক বিলও উত্তোলন করে নিয়ে গেছে। কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএস অর্পা কনস্ট্রাকশনের মালিক আনোয়ার হোসেন রোমান অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেন যে, কার্যাদেশ হাতে পাওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় তিনি জুন ক্লোজিংয়ের সুনির্দিষ্ট সময়ের আগেই সম্পূর্ণ বিল ব্যাংক থেকে ক্যাশ করে নিয়েছেন। কিন্তু এখানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, সরকারি মূল প্রজ্ঞাপনে যে ছয়টি সুনির্দিষ্ট প্রকল্পের কথা বলা হয়েছিল, বাস্তবে সেই অনুমোদিত তালিকার বাইরের কাজে কীভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হলো? একই সঙ্গে একই প্রকল্পে দ্বৈত বরাদ্দ দেওয়ার পাশাপাশি সম্পূর্ণ বিনা অনুমোদনে প্রকল্পের খাত পরিবর্তনের এই অপচেষ্টা কোন জাদুর বলে সম্ভব হলো, তার কোনো সদুত্তর সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী দিতে পারেননি।

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে ইস্যু করা দুটি কার্যাদেশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করলে আরও ভয়ংকর সব অসঙ্গতি বেরিয়ে আসে। দেখা যায়, ২০২৬ সালের ১৫ জুন তারিখেই উপজেলা পরিষদের সীমানা প্রাচীর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের অত্যন্ত চটকদার কাজের নামে ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার একটি কার্যাদেশ দেওয়া হয় এবং ঠিক একই দিনে অফিসার্স ক্লাবের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে আরও ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার আরেকটি কার্যাদেশ জারি করা হয়। অর্থাৎ কেবল ওই একটিমাত্র দিনেই সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এই দুটি অননুমোদিত খাতে মোট ৩৮ লাখ টাকার কার্যাদেশ ইস্যু করা হয়েছে। অথচ স্থানীয় সরকার বিভাগের পূর্বে জারি করা দুটি সরকারি প্রজ্ঞাপনের কোথাও এই সীমানা প্রাচীর কিংবা অফিসার্স ক্লাব মেরামতের জন্য একটি কানাকড়িও বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলা ছিল না। বরং উভয় প্রজ্ঞাপনেই সুনির্দিষ্টভাবে বরাদ্দ দেখানো হয়েছিল কেবল কৃষি অফিসের সড়ক, ইউএনওর সরকারি বাসভবনের রাস্তা, প্রশাসনিক ভবন, পুরোনো প্রশাসনিক ভবন এবং আবাসিক ভবনগুলোর সংস্কারের জন্য।

এই পরিস্থিতিতে জনমনে অত্যন্ত সংগত কারণেই প্রশ্ন উঠেছে যে, সরকারি প্রজ্ঞাপনে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত বা অননুমোদিত দুটি ভিন্ন প্রকল্পে কীভাবে দেদারসে কার্যাদেশ জারি করা হলো? যদি নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্প পরিবর্তন করতেই হয়ে থাকে, তবে তার উপযুক্ত অনুমোদন কোথা থেকে এবং কার স্বাক্ষরে নেওয়া হলো? এই ধরনের কোনো সংশোধিত সরকারি প্রজ্ঞাপন বা প্রকল্প পরিবর্তনের লিখিত কোনো আদেশ উপজেলা প্রশাসন আজও দেখাতে পারেনি। এখানেই শেষ নয়, বরাদ্দের মোট অঙ্কের হিসেবেও বিশাল গড়মিল ধরা পড়েছে। দ্বিতীয় দফায় মন্ত্রণালয় থেকে মোট ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রকৌশলীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে প্রাপ্ত কার্যাদেশের মোট পরিমাণ হলো ৩৮ লাখ টাকা। এর মানে দাঁড়ায়, অবশিষ্ট প্রায় ১২ লাখ টাকা কোন গোপন খাতে বা কোন প্রকল্পে ব্যয় করা হলো, কিংবা এই অতিরিক্ত অর্থের বিপরীতে আদৌ কোনো কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে কি না, নাকি সেই বিপুল পরিমাণ অর্থ এখনো কোনো কর্মকর্তার পকেটে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে—এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পরিষ্কার তথ্য বা জবাব দেওয়া হয়নি।

সরকারি নথিপত্র ও দাপ্তরিক নিয়ম বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর এবং ২০২৬ সালের মে মাসে জারি হওয়া দুটি প্রজ্ঞাপনের স্মারক নম্বর, স্বাক্ষরকারী কর্মকর্তার পদবি এবং প্রকাশের তারিখ সম্পূর্ণ আলাদা ও ভিন্ন। এর মধ্যে দ্বিতীয় প্রজ্ঞাপনটি কোনোভাবেই আগের কোনো ভুলের সংশোধনী প্রজ্ঞাপন নয়, এটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র একটি সরকারি প্রজ্ঞাপন। এই বাস্তবতায় কেবল মৌখিকভাবে ‘মন্ত্রণালয় থেকে ভুল হয়েছিল’ এমন ছেলেমানুষি অজুহাত দেখিয়ে নিজেদের প্রশাসনিক ও নৈতিক দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করছেন দেশের বিশিষ্ট সুশীল সমাজ ও প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা।

সার্বিক এই অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে বর্তমান আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা বেগম অত্যন্ত সাবলীল ভঙ্গিতে দাবি করেন যে, দ্বিতীয়বার যখন তারা প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন, তখন নতুন প্রকল্পের প্রস্তাবই পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু মন্ত্রণালয় ভুলবশত আগের পুরোনো প্রকল্পগুলোর নামেই আবার নতুন করে বরাদ্দ ইস্যু করে দেয়। পরে নাকি সেই ভুল আবার সংশোধন করে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে অত্যন্ত আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, তার এই মৌখিক দাবির সমর্থনে তিনি কোনো ধরনের সংশোধিত সরকারি প্রজ্ঞাপন, বরাদ্দ পরিবর্তনের লিখিত আদেশ কিংবা দ্বিতীয় দফার বরাদ্দ বাতিলের কোনো দাপ্তরিক সরকারি নথি বা রেকর্ড দেখাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। বর্তমানে সরকারের কোন প্রজ্ঞাপনটি আইনগতভাবে কার্যকর রয়েছে, সে বিষয়েও তিনি কোনো স্পষ্ট ও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

প্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও গবেষক মোস্তাফিজার রহমান মৃধা এই বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর মন্তব্য করে বলেন যে, যেকোনো সরকারি প্রজ্ঞাপনে যদি দাপ্তরিকভাবে কোনো ভুল থেকে থাকে, তবে তা সংশোধনের জন্য আইন অনুযায়ী পৃথক একটি সংশোধনী প্রজ্ঞাপন জারি করা বাধ্যতামূলক। একইভাবে অনুমোদিত কোনো প্রকল্পের খাত পরিবর্তন করা, নতুন কোনো প্রকল্প জোড়া দেওয়া কিংবা বরাদ্দ এক খাত থেকে অন্য খাতে স্থানান্তর করা হলেও তার সুনির্দিষ্ট লিখিত সরকারি রেকর্ড থাকতে হয়। সরকারি কোষাগারের অর্থ ব্যয়ের প্রতিটি ধাপ সর্বদা অনুমোদিত প্রজ্ঞাপন, সঠিক কার্যাদেশ, বিল-ভাউচার এবং নিখুঁত হিসাব নথির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া আবশ্যক। কেবল দায়িত্বশীলদের মৌখিক ব্যাখ্যা বা মুখের কথা কখনোই প্রশাসনিকভাবে গ্রহণযোগ্য বা বৈধ হতে পারে না।

সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান তথা সুপ্র-এর সম্মানিত সম্পাদক কে জি এম ফারুক গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন যে, একই প্রকল্পে অত্যন্ত সুকৌশলে পুনরায় বরাদ্দ গ্রহণ, অনুমোদিত প্রকল্পের সম্পূর্ণ বাইরে গিয়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কার্যাদেশ প্রদান এবং সরকারি অফিশিয়াল নথিপত্রের সঙ্গে মাঠের বাস্তব চিত্রের চরম অসামঞ্জস্য—সব মিলিয়ে পুরো বিষয়টি একটি উচ্চপর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক ও বিচারিক তদন্তের দাবি রাখে। কেবল দায়সারা গোছের বরাদ্দপত্র দেখলে চলবে না, বরং এর সঙ্গে জড়িত অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া, কার্যাদেশ প্রদানের গোপনীয়তা, দরপত্র আহ্বান, পরিমাপ বই বা এমবি খাতা, বিল-ভাউচারের সত্যতা, কাজের বাস্তব অগ্রগতি এবং চূড়ান্ত অর্থ পরিশোধের প্রতিটি নথি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে ও কঠোর নজরদারিতে যাচাই করা একান্ত প্রয়োজন।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে সরকার পতনের একদফা আন্দোলনের ঘোষণা

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

দিরাইয়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল: দুই পক্ষে মুখোমুখি অবস্থান

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

এগারো দলীয় জোট ছাড়ল খেলাফত মজলিস

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

রাজকান্দিতে বন বিভাগের উচ্ছেদ: কেটে ফেলা হলো ১২শ কমলা গাছ

প্রকাশ: ২৫ জুলাই  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

নিট কেলেঙ্কারি: পদত্যাগ করলেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে সরকার পতনের একদফা আন্দোলনের ঘোষণা

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

এগারো দলীয় জোট ছাড়ল খেলাফত মজলিস

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

রাজকান্দিতে বন বিভাগের উচ্ছেদ: কেটে ফেলা হলো ১২শ কমলা গাছ

প্রকাশ: ২৫ জুলাই  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

নিট কেলেঙ্কারি: পদত্যাগ করলেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ওসি পরিচয়ে সিলেটে চাঁদাবাজি: পুলিশ প্রশাসনের কড়া সতর্কবার্তা

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

আসামের ঢলে সিলেটে বাড়ছে নদীর পানি, নেই বন্যার শঙ্কা

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ | সময়ের সন্ধান ডেস্ক |...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ