প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশের পর সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীন কয়েকটি কলেজের চিত্র নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রথম ধাপে আবেদন করেও সিলেট বিভাগের ১০টি কলেজ কোনো শিক্ষার্থী পায়নি। অন্যদিকে, বোর্ডের অধীনে থাকা কলেজগুলোতে ভর্তির জন্য আবেদন করা ৪৮ হাজার ৩৩৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৭ হাজার ৮৮১ জন কোনো না কোনো কলেজে আসন পেয়েছেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে একাদশ শ্রেণির প্রথম ধাপের মেধাতালিকা প্রকাশের পর এ তথ্য সামনে আসে। সিলেট শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বোর্ডের আওতাধীন চার জেলায় মোট ৩৪৯টি কলেজ রয়েছে। এর মধ্যে এবার প্রথম ধাপে ১০টি স্কুল অ্যান্ড কলেজে একজন শিক্ষার্থীকেও বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
শিক্ষার্থী না পাওয়া ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সিলেট জেলার দুটি, সুনামগঞ্জের দুটি, মৌলভীবাজারের দুটি এবং হবিগঞ্জ জেলার চারটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার আশুগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং জৈন্তাপুরের রাংপানি ক্যাপ্টেন রশিদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ এ তালিকায় রয়েছে।
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার চনারচর এসইএসডিপি মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং দোয়ারাবাজারের মিতালী পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজও এবার প্রথম ধাপে একাদশ শ্রেণির কোনো শিক্ষার্থী পায়নি। মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার রাউতগাঁও হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং শ্রীমঙ্গলের রেনার হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবস্থাও একই।
হবিগঞ্জে সবচেয়ে বেশি চারটি প্রতিষ্ঠান এ তালিকায় রয়েছে। এগুলো হলো আজমিরীগঞ্জের হাজী আব্দুল হেকিম স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বাহুবলের মানবকল্যাণ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মাধবপুরের প্রেমদাময়ী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং একই উপজেলার ডা. মহিউদ্দিন হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ। বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক শেখ মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, এবার শিক্ষার্থী না পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো সবই স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
তবে কোনো শিক্ষার্থী না পাওয়া মানেই এসব প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী কখনো পড়াশোনা করে না—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই। এবারের তথ্যটি একাদশ শ্রেণিতে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের কেন্দ্রীয় অনলাইন ভর্তি ব্যবস্থার প্রথম ধাপের ফলাফলকে নির্দেশ করছে। পরবর্তী ধাপ, মাইগ্রেশন ও ভর্তি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর কোনো প্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত অবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে।
এবার সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মোট আসন রয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫৬০টি। বিপরীতে প্রথম ধাপে আবেদন করেছেন ৪৮ হাজার ৩৩৬ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ৪৭ হাজার ৮৮১ জন শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। হিসাব অনুযায়ী, আবেদনকারীদের মধ্যে ৪৫৫ জন প্রথম ধাপে কোনো কলেজে আসন পাননি।
সংখ্যাগুলো পাশাপাশি রাখলে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট হয়। সিলেট বোর্ডে অনুমোদিত আসনের তুলনায় প্রথম ধাপে আবেদনকারীর সংখ্যা অনেক কম। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানে আসন খালি থাকার সম্ভাবনা থাকলেও শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রম, মেধাক্রম, নির্ধারিত যোগ্যতা এবং কেন্দ্রীয় ভর্তি ব্যবস্থার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে আসন বরাদ্দ হয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট কলেজে শূন্য আসন থাকা এবং সেখানে কোনো শিক্ষার্থীকে বরাদ্দ না দেওয়া—দুটি বিষয় সবসময় একই অর্থ বহন করে না।
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়া কেন্দ্রীয় অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। সিলেট শিক্ষা বোর্ডও ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও নীতিমালা প্রকাশ করেছে। বোর্ডের ওয়েবসাইটে ১৬ সেপ্টেম্বর অনলাইন লিংক ও ওয়েবসাইটসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি এবং ১৭ সেপ্টেম্বর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা-সংক্রান্ত নোটিশ প্রকাশের তথ্য রয়েছে।
প্রকাশিত ভর্তি সূচি অনুযায়ী, প্রথম ধাপের নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশের পর নিশ্চায়ন প্রক্রিয়া চলছে। এরপর মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ এবং কলেজে চূড়ান্ত ভর্তির ধাপ রয়েছে। সূচি অনুযায়ী ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ভর্তি এবং ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হওয়ার কথা।
প্রথম ধাপে কলেজ না পাওয়া ৪৫৫ শিক্ষার্থীর বিষয়টিও তাই পুরো ভর্তি প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে দেখতে হবে। বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, যারা আবেদন করেও কলেজ পায়নি বা আবেদন করতে পারেনি, তাদের জন্য পরবর্তী সময়ে আরেক দফায় আবেদনের সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। তিনি জানান, প্রথম ধাপের ভর্তি শেষে ক্লাস শুরু হওয়ার পর এ সুযোগ দেওয়া হবে।
সিলেট বিভাগের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী না পাওয়ার বিষয়টি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য যেমন একটি তথ্য, তেমনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি সংকেত। কারণ একটি কলেজে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ তৈরি হওয়ার পেছনে শিক্ষার মান, ফলাফল, অবস্থান, যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামো, শিক্ষকসংখ্যা, বিষয়ভিত্তিক সুযোগ এবং অভিভাবকদের প্রত্যাশাসহ নানা বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে চলতি ফলাফলের ভিত্তিতে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান বা জনপ্রিয়তা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।
বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত এলাকার স্কুল অ্যান্ড কলেজগুলোর ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ভর্তি কম হওয়ার কারণ একেক প্রতিষ্ঠানে একেক রকম হতে পারে। কোথাও যোগাযোগের সমস্যা থাকতে পারে, কোথাও শিক্ষার্থীরা কাছের বা তুলনামূলক পরিচিত প্রতিষ্ঠানে পছন্দ দিতে পারে। আবার কোনো প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত আসন ও বিষয়সংখ্যার সঙ্গেও আবেদনকারীর পছন্দের মিল নাও থাকতে পারে। এসব কারণ নির্ধারণে পৃথকভাবে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তথ্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন।
গত বছর সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীন একাদশ শ্রেণির চূড়ান্ত ভর্তি প্রক্রিয়াতেও পাঁচটি কলেজ কোনো শিক্ষার্থী পায়নি বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। সেই হিসাবে এবার প্রথম ধাপেই এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১০ হওয়ায় বিষয়টি আরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তবে গত বছরের চূড়ান্ত ফলাফল এবং এবারের প্রথম ধাপের ফলাফল এক নয়—তাই দুই বছরের সংখ্যাকে সরাসরি তুলনা করার ক্ষেত্রে এই পার্থক্যটি বিবেচনায় রাখা জরুরি।
এদিকে, প্রথম ধাপে ৪৭ হাজার ৮৮১ শিক্ষার্থী কলেজ পাওয়ার পর এখন তাদের সামনে রয়েছে নিশ্চায়ন ও চূড়ান্ত ভর্তির প্রক্রিয়া। একই সঙ্গে ৪৫৫ শিক্ষার্থীর জন্য পরবর্তী সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আর যে ১০টি কলেজ এখনো একজন শিক্ষার্থীও পায়নি, সেগুলোর ক্ষেত্রে পরবর্তী ধাপের ফলাফলই দেখাবে পরিস্থিতি কতটা বদলায়।
একটি কলেজের শ্রেণিকক্ষ, বেঞ্চ বা শিক্ষক প্রস্তুত থাকলেও সেখানে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি না থাকলে সেই অবকাঠামোর পূর্ণ ব্যবহার হয় না। তাই একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের পছন্দ ও প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা শুধু একটি ভর্তি-পরিসংখ্যানের বিষয় নয়; এটি আঞ্চলিক শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গেও সম্পর্কিত।
বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের ৩৪৯টি কলেজের মধ্যে প্রথম ধাপে ১০টি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী বরাদ্দ পায়নি। একই সময়ে ৪৫৫ আবেদনকারীও কোনো কলেজে নির্বাচিত হননি। এখন পরবর্তী ধাপের ভর্তি, মাইগ্রেশন ও পুনরায় আবেদনের সুযোগের পর এই চিত্র কতটা পরিবর্তিত হয়, সেদিকেই নজর থাকবে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর।


