শনিবার ফের প্রকাশ্যে গণনা হবে শাহজালাল মাজারের টাকা

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

সিলেটের ঐতিহাসিক হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা আগামী শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আবারও প্রকাশ্যে গণনা করা হবে। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এবার চতুর্থ দফায় দানবাক্সের অর্থ গণনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শনিবার সকাল ৯টায় এ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে গঠিত কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দানবাক্সের অর্থ প্রকাশ্যে গণনার এই প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে। কমিটির সদস্য রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাদের অবহিত করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়েই গণনার কাজ শুরু হবে বলেও তিনি জানান।

সিলেটের মানুষের কাছে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার শুধু একটি ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়, এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক স্থান। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ এখানে আসেন। স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি বিদেশ থেকেও অনেক দর্শনার্থী ও ধর্মপ্রাণ মানুষ মাজারে এসে দান-মানত করেন। ফলে মাজারের দানবাক্স ও মানতের ডেগে জমা হওয়া অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রীর ব্যবস্থাপনা দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের আগ্রহের বিষয়।

এবারের গণনা ঘিরেও তাই সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গত কয়েক দফায় প্রকাশ্যে অর্থ গণনার পর মাজারের দানবাক্সে কত টাকা জমা হয়েছে এবং এবার কত অর্থ পাওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

এর আগে তিন দফায় মাজারের দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে অর্থ গণনা করা হয়েছে। প্রথম দফায় গত ২২ জুন দানবাক্স খুলে নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বিদেশি মুদ্রা এবং স্বর্ণালঙ্কারও পাওয়া হয়েছিল। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকার একটি চেক যুক্ত হওয়ায় ওই দফায় মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।

এর মাত্র ১৮ দিন পর ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় দানবাক্স খোলা হয়। ওইবার নগদ পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। নগদ অর্থের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা এবং স্বর্ণ ও রৌপ্যের সামগ্রীও পাওয়া যায়। দানবাক্সে মানুষের দান করা অর্থের সঙ্গে মূল্যবান ধাতুর তৈরি সামগ্রী পাওয়া যাওয়ায় পুরো গণনা প্রক্রিয়াটি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।

সবশেষ গত ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় দানবাক্স এবং মানতের ডেগ খোলা হয়। ওই দফায় মোট ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া যায়। এ সময়ও দেশি-বিদেশি মুদ্রার পাশাপাশি স্বর্ণ ও রৌপ্যের অলঙ্কার পাওয়া যায়। অর্থ গণনার পুরো প্রক্রিয়াটি নির্ধারিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়।

তিন দফায় পাওয়া নগদ অর্থের হিসাবে এখন পর্যন্ত মোট ১ কোটি ৪০ লাখ ৬৪ হাজার ৩৭৪ টাকা পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থ জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয়েছে। ফলে আগামী শনিবারের গণনার পর ওই হিসাবে নতুন করে কত অর্থ যুক্ত হবে, তা নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগেরবারগুলোর মতো এবারও নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গণনার কাজ সম্পন্ন করা হবে। গণনা শেষে পাওয়া অর্থ, মূল্যবান সামগ্রী এবং অন্যান্য দানের বিষয়ে বিস্তারিত হিসাব প্রকাশের উদ্যোগ থাকবে। এর মাধ্যমে মাজারের দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষের আস্থাও বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে প্রকাশ্যে অর্থ গণনার এই প্রক্রিয়ার পেছনে রয়েছে কয়েক মাসের দীর্ঘ আলোচনা, বিতর্ক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ। মাজারের আয়-ব্যয় এবং পরিচালন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সিলেট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া কয়েকটি পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছিল।

এর অংশ হিসেবে গত ১৮ জুন বিকেলে মাজারে থাকা পুরোনো দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে মাজারে মানুষের দান করা নগদ অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী রাখার ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগও সিলগালা করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব উদ্যোগকে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আনার পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।

তবে এ উদ্যোগ নিয়ে সিলেটে ভিন্নমতও দেখা দেয়। এক পক্ষ মনে করেছিল, মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের প্রশ্নের অবসান ঘটাতে প্রশাসনের উদ্যোগ প্রয়োজনীয় এবং কার্যকর। তাদের মতে, প্রকাশ্যে অর্থ গণনা ও ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা রাখার মতো ব্যবস্থা থাকলে দানের অর্থের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের কাছে পরিষ্কার ধারণা তৈরি হবে।

অন্যদিকে আরেক পক্ষ প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপের সমালোচনা করে এটিকে একতরফা ও জোরপূর্বক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, মাজারের প্রচলিত ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সমন্বয় না করে নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত স্থানীয়ভাবে অসন্তোষ তৈরি করেছে। ফলে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার প্রশ্নের পাশাপাশি মাজারের ঐতিহ্যবাহী ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কর্তৃত্বের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

এই বিতর্কের মধ্যেই গত ২১ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপনে সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। এর পরদিনই মাজারের দানবাক্স থেকে অর্থ গণনার প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয়।

পরবর্তীতে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে গত ২৩ জুন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে মাজারের ব্যবস্থাপনার জন্য একটি যৌক্তিক ও সমন্বিত কাঠামোর বিষয়ে সুপারিশ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এক মাসের মধ্যে সুপারিশ দেওয়ার কথা থাকলেও আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও বিষয়টির চূড়ান্ত সুরাহা হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ অবস্থায় নিয়মিত বিরতিতে মাজারের দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে অর্থ গণনার বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ, এটি শুধু দানের অর্থের হিসাব সংরক্ষণের সঙ্গে যুক্ত নয়; মাজারের মতো একটি ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মানুষের আস্থা ও জবাবদিহির প্রশ্নের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

আগামী শনিবারের গণনায় প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্য এবং মাজার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অর্থ গণনার কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। নগদ টাকার পাশাপাশি এবারও বিদেশি মুদ্রা, স্বর্ণ, রৌপ্য কিংবা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী পাওয়া গেলে সেগুলোরও হিসাব সংরক্ষণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

মাজারে আগত মানুষের দান-মানতের অর্থ কোথায় যাচ্ছে, কীভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তা কীভাবে ব্যবহৃত হবে—এসব বিষয়ে একটি সুসংগঠিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থাপনা কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা এখন সংশ্লিষ্টদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে প্রকাশ্যে অর্থ গণনার মাধ্যমে যে স্বচ্ছতার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় রূপ নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

শনিবারের চতুর্থ দফা গণনার মাধ্যমে মাজারের দানবাক্সে জমা হওয়া নতুন অর্থের হিসাব যেমন সামনে আসবে, তেমনি চলমান ব্যবস্থাপনা নিয়ে মানুষের আগ্রহও আরও বাড়তে পারে। সিলেটের ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিকতার অন্যতম প্রতীক এই মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, নিয়মতান্ত্রিকতা এবং জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ কতটা কার্যকরভাবে এগোয়, সেটিই এখন সংশ্লিষ্ট মহলের নজরে রয়েছে।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

সর্বজনীন পেনশনে মুনাফা বাড়ল, নমিনির সুবিধাও

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

শ্রীমঙ্গলে বাড়ির আঙিনায় ১৮ ফুটের অজগর

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সর্বজনীন পেনশনে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্ক জোরদারে নতুন উদ্যোগ

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

হাতিয়ায় বিশাল শাপলা পাতা মাছ বিক্রি ৮২ হাজার টাকায়

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

সর্বজনীন পেনশনে মুনাফা বাড়ল, নমিনির সুবিধাও

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

শ্রীমঙ্গলে বাড়ির আঙিনায় ১৮ ফুটের অজগর

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সর্বজনীন পেনশনে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্ক জোরদারে নতুন উদ্যোগ

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর  ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

হাতিয়ায় বিশাল শাপলা পাতা মাছ বিক্রি ৮২ হাজার টাকায়

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

জাফলংয়ে তরুণী হত্যা মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ:  ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

হামলার ঘটনায় তিনজনের ছবি প্রকাশ পুলিশের

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেট নগরীর মিরবক্সটুলায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, ফার্মেসিকে জরিমানা

প্রকাশ:  ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ