ট্রাইব্যুনালে শাপলা চত্বর মামলার পরবর্তী শুনানি ৭ অক্টোবর

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযানসংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক ৩০ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মামলাটির শুনানিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মামলায় অভিযোগ গঠনের পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এ মামলার কার্যক্রম চলছে। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন কারাগারে রয়েছেন, আর ৩০ জনকে পলাতক হিসেবে দেখানো হয়েছে। পলাতক আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের আইনি অধিকার নিশ্চিত করার অংশ হিসেবেই রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জুলাই মাসে ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছিল।

বুধবারের শুনানিতে সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর জামিন আবেদনও উপস্থাপন করা হয়। তবে শুনানি শেষে তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে মামলাটিতে হাসানুল হক ইনু, দীপু মনি, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, শামসুল হক টুকু, জিয়াউল আহসান ও ফারজানা রূপাসহ ১১ জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এখন অভিযোগ গঠনের শুনানিকে কেন্দ্র করে এগোবে।

শাপলা চত্বরের ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত ও আলোচিত একটি ঘটনা। ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকেরা রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ করেন। রাতের দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের পর সংঘর্ষ, হতাহতের ঘটনা এবং অভিযান ঘিরে বিভিন্ন পক্ষের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য সামনে আসে। পরবর্তী সময়ে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও মানবাধিকার অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা হয়।

বর্তমান মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ হলো, ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে পরিকল্পিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল এবং এর উদ্দেশ্য ছিল হেফাজতে ইসলামকে দমন বা নির্মূল করা। এসব অভিযোগ এখন ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ। অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

মামলার তদন্তে কতজন নিহত হয়েছেন, তা নিয়েও আগে ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে তথ্য দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম মে মাসে জানিয়েছিলেন, তদন্তকারীরা ঢাকাসহ চার জেলায় শাপলা চত্বরের অভিযানের সঙ্গে সম্পর্কিত ৫৮ জনের মৃত্যুর তথ্য শনাক্ত করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে পাঁচজন এবং কুমিল্লায় একজন ছিলেন। পোস্টমর্টেম প্রতিবেদন, দাফনস্থল শনাক্তকরণ এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যসহ বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে এই সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।

মামলার তদন্ত ও অভিযোগপত্রের পর্যায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা, সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও অন্য ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। জুলাই মাসে ট্রাইব্যুনাল-২ শেখ হাসিনা ও আরও ৪০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করে। অভিযোগে শাপলা চত্বর এবং দেশের কয়েকটি স্থানে সংঘটিত ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল তখন কারাগারে থাকা আসামিদের হাজির করার নির্দেশের পাশাপাশি পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

পলাতক আসামিদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিচারপ্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। কোনো আসামি আদালতে উপস্থিত না থাকলেও তাঁর বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম চললে আইনগত প্রতিনিধিত্বের সুযোগ রাখার বিষয়টি এ ধরনের মামলায় বিশেষ গুরুত্ব পায়। এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য মামলাতেও পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী দায়িত্ব পালন করেছেন। সাম্প্রতিক একটি মামলায় পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা শুনানি ও যুক্তিতর্কে অংশ নেওয়ার নজিরও রয়েছে।

এদিকে শাপলা চত্বর মামলায় এরই মধ্যে কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ট্রাইব্যুনালের সামনে হাজির করা হয়েছে। জুলাই মাসে সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে এ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় তিনি শাপলা চত্বরের ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছিলেন এবং দাবি করেছিলেন, তিনি ওই সময় মন্ত্রী থাকলেও ঘটনাটি সম্পর্কে কিছু জানতেন না। তাঁর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।

মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি এবং আরও কয়েকজনকেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মে মাসে ট্রাইব্যুনাল দীপু মনি, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু এবং সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপাকে শাপলা চত্বরসংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে পাঠায়। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তখন তাঁদের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার দাবি করা হয়েছিল। এসব অভিযোগও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই যাচাই হওয়ার কথা।

শাপলা চত্বর মামলার পাশাপাশি বুধবার ট্রাইব্যুনালে আরও একটি মামলার কার্যক্রম সামনে এসেছে। গাজীপুরে মাদরাসার অধ্যক্ষ আবুল হোসেনকে গুমের অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় সাবেক সিটিটিসি প্রধান আসাদুজ্জামান ও এডিসি ইশতিয়াকসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে। একই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানও ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিলের জন্য যান বলে জানা গেছে।

শাপলা চত্বর মামলার পরবর্তী ধাপ এখন অভিযোগ গঠনের শুনানি। আগামী ৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষ তাদের আনা অভিযোগের ভিত্তি তুলে ধরবে এবং আদালত মামলাটি পরবর্তী বিচারিক ধাপে কীভাবে এগোবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

মামলাটির বিচার ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যায়ে আগ্রহ রয়েছে। কারণ এতে সাবেক সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তি, সাবেক মন্ত্রী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা এবং অন্য কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০১৩ সালের একটি বহুল আলোচিত ঘটনার বহু বছর পর নতুন করে বিচারিক অনুসন্ধান ও অভিযোগের বিষয়টি সামনে এসেছে।

তবে বিচারপ্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে অভিযোগ এবং আদালতে প্রমাণিত অপরাধের মধ্যে পার্থক্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, তদন্তের তথ্য এবং আসামিদের বক্তব্য—সবই বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ। আদালতে সাক্ষ্য, নথি ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনার পরই অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।

রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশের ফলে পলাতক ৩০ আসামির পক্ষেও আদালতের কার্যক্রমে আইনি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার পথ তৈরি হলো। এখন আগামী ৭ অক্টোবরের শুনানিতে মামলাটির অভিযোগ গঠনসহ পরবর্তী কার্যক্রম কীভাবে এগোয়, সেদিকেই নজর থাকবে। দীর্ঘদিন আগের শাপলা চত্বরের ঘটনাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি শেষ পর্যন্ত আদালতের প্রমাণ মূল্যায়ন ও আইনি সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

ছুটি ছাড়াই সাড়ে তিন মাস কানাডায় সরকারি চিকিৎসক

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

স্বাস্থ্য পরীক্ষায় আবারও মালয়েশিয়া গেলেন মির্জা আব্বাস

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

তিন মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় আড়াই লাখ কোটি টাকা

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

শাল্লায় দীর্ঘদিনের বিরোধ মিটল সালিশে

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

তিতাস নদীতে দুই নৃত্যশিল্পীকে ধর্ষণ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

ছুটি ছাড়াই সাড়ে তিন মাস কানাডায় সরকারি চিকিৎসক

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

স্বাস্থ্য পরীক্ষায় আবারও মালয়েশিয়া গেলেন মির্জা আব্বাস

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

তিন মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় আড়াই লাখ কোটি টাকা

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

শাল্লায় দীর্ঘদিনের বিরোধ মিটল সালিশে

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

তিতাস নদীতে দুই নৃত্যশিল্পীকে ধর্ষণ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

২০২৭-এর পাঠ্যবইয়ে জিয়াউর রহমানের স্মৃতিকথা

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ব্রিকস না যাওয়ার পর আদানির বিদ্যুৎ নিয়ে রিজভীর অভিযোগ

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে হামের উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ