প্রকাশ:২০ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেট নগরীতে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দুটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে সেগুলো সিলগালা করেছে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)। একই অভিযানে তিন নারীসহ ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পৃথক অভিযানে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পুলিশের অভিযানের পর নগরের আবাসিক হোটেলগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং হোটেল ব্যবসার আড়ালে কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। নগরবাসীর নিরাপত্তা ও সামাজিক পরিবেশ বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
এসএমপির মিডিয়া শাখা সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় প্রথম অভিযান পরিচালনা করা হয় নগরের রাজার গলি দরগা গেইট এলাকার হোটেল নির্জনে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা হোটেলটির ষষ্ঠ তলার ৬১৪ নম্বর কক্ষে অভিযান চালান। সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়।
পরে একই সন্ধ্যায় দক্ষিণ সুরমা থানাধীন কদমতলী এলাকায় অবস্থিত হোটেল তিতাসে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের অভিযানে সেখান থেকে আরও ছয়জনকে আটক করা হয়। দুটি অভিযানে মোট তিন নারীসহ ১০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। আইন অনুযায়ী তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানের সময় হোটেল দুটিতে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগের বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ হোটেল দুটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়ে হোটেল নির্জন ও হোটেল তিতাস সিলগালা করা হয়েছে।
সিলেট নগরীতে আবাসিক হোটেলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মাদক, চুরি, প্রতারণা এবং অন্যান্য অপরাধের অভিযোগও রয়েছে। নগরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত নজরদারি চালিয়ে থাকে।
সাম্প্রতিক এই অভিযানের মাধ্যমে পুলিশ আবাসিক হোটেল ব্যবসার আড়ালে কোনো ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ না দেওয়ার বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। বিশেষ করে নগরের গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত হোটেলগুলোর কার্যক্রমের ওপর নজরদারি আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
এর আগে গত ২৩ জুন সিলেট নগরীতে অভিযান চালিয়ে আরও দুটি হোটেল সিলগালা করেছিল পুলিশ। ওই অভিযানে নগরের তালতলা এলাকার রহমানিয়া বোডিং ও ছাদী গেস্ট হাউজকে সিলগালা করা হয়। এসব অভিযানের ধারাবাহিকতায় এবার হোটেল নির্জন ও হোটেল তিতাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করেন, আবাসিক হোটেল পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হয়। হোটেলে অবস্থানরত অতিথিদের পরিচয় যাচাই, প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ এবং সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা থাকলে হোটেল কর্তৃপক্ষও আইনগত জটিলতার মুখে পড়তে পারে।
সিলেট বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও বাণিজ্যিক নগরী। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ব্যবসা, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পর্যটনের প্রয়োজনে সিলেটে আসেন। তাদের একটি অংশ বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অবস্থান করেন। ফলে নগরের হোটেলগুলোতে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, বরং নগরের সামগ্রিক ভাবমূর্তি ও পর্যটন পরিবেশের সঙ্গেও সম্পর্কিত।
এ অবস্থায় হোটেল ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা এবং অতিথিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পুলিশের অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রেও অভিযোগের প্রকৃতি, প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনি অধিকার যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
সাম্প্রতিক অভিযানে আটক ১০ ব্যক্তির বিষয়ে পুলিশের আইনগত প্রক্রিয়া এখনো চলমান। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারণ করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
সিলেট মহানগর পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে কি না, তা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে নগরের আবাসিক হোটেলগুলোতে অনৈতিক বা বেআইনি কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি যে অব্যাহত রয়েছে, সাম্প্রতিক দুটি হোটেল সিলগালার ঘটনা তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।


