সিসিকের আলী আকবরের বদলি ঘিরে নানা প্রশ্ন

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আকবরের বদলি ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের বদলি আদেশের পর তাঁর বগুড়া সিটি করপোরেশনে যাওয়ার খবর প্রকাশিত হলেও, পরবর্তী সময়ে তাঁকে ঘিরে সিলেটে আসা-যাওয়া এবং ভবিষ্যতে আবার সিলেট সিটি করপোরেশনে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে।

তবে এসব অভিযোগের বেশির ভাগই স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সূত্রের বক্তব্যনির্ভর। অভিযোগগুলোর স্বাধীন ও চূড়ান্ত সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। একই সঙ্গে আলী আকবরের বক্তব্যও এসব অভিযোগের বিষয়ে পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক তদন্ত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যই চূড়ান্তভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

স্থানীয় একাধিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আলী আকবরকে সিলেট সিটি করপোরেশন থেকে নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনে বদলি করা হয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর বরাত দিয়ে বলা হয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে তাঁর বদলির চিঠি এসেছে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, সিসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রাজি উদ্দিন খানকে তাঁর স্থলে চলতি দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

২৩ সেপ্টেম্বরের আরেক প্রতিবেদনে স্থানীয় সরকার বিভাগের বদলি আদেশের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, আলী আকবরকে বগুড়া পৌরসভার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে বদলি করা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে সিসিক প্রশাসক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে বদলির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার কথা জানানো হয়।

তবে এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগত অসঙ্গতি রয়েছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কর্মকর্তাদের তালিকায় মো. আলী আকবরকে এখনো ‘প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত)’ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। সরকারি সাইটের সাম্প্রতিক তথ্যেও তাঁর নাম ও পদবি একইভাবে রয়েছে। ফলে বদলি আদেশের পর দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে তাঁর পদবি হালনাগাদ হয়েছে কি না, কিংবা পরবর্তী কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না—এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

আলী আকবরকে ঘিরে আলোচনার আরেকটি কারণ তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন সিলেট সিটি করপোরেশনকেন্দ্রিক হওয়া। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় দুই দশক ধরে তিনি সিসিকের প্রকৌশল বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২১ সালের সরকারি গেজেটেও তাঁকে সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে একটি উন্নয়ন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই প্রকল্পের মধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও অবকাঠামো নির্মাণের কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

দীর্ঘ সময় একই প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করায় নগরীর উন্নয়ন প্রকল্প, প্রকৌশল বিভাগ এবং ঠিকাদারি কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে—এমন তথ্য বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। তবে একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, উন্নয়নকাজের অর্থ ছাড়ে প্রভাব বিস্তার এবং বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগও প্রকাশিত হয়েছে। এসব অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্য কোনো তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের রায় পাওয়া যায়নি। ফলে এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।

শ্যামল সিলেটের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বদলির পরও আলী আকবর ২৭ সেপ্টেম্বর সিলেটে এসে দিনভর অবস্থান করেন এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, তিনি সিলেট সিটি করপোরেশনে আবার ফেরার চেষ্টা করছেন। এমনকি ২০২৭ সালে অবসরের পর চুক্তিভিত্তিকভাবে সিসিকের প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব দাবি অবশ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য বা কোনো সরকারি নথি দিয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে একই ধরনের অভিযোগ উঠে এসেছিল। সেখানে দাবি করা হয়, বদলির পরও সিলেট সিটি করপোরেশনে প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা চলছে এবং তাঁর স্থলে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও নানা তৎপরতা রয়েছে। তবে ওই প্রতিবেদনেও এসব দাবির ভিত্তি হিসেবে ‘সংশ্লিষ্ট সূত্র’-এর কথা বলা হয়েছে; সরকারি কোনো তদন্তের ফলাফল সেখানে উল্লেখ করা হয়নি।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের কার্যক্রমের গুরুত্ব বিবেচনায় বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছতা জরুরি। নগরীর সড়ক, ড্রেনেজ, পানি সরবরাহ, অবকাঠামো নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজের সঙ্গে প্রকৌশল বিভাগের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন দায়িত্বে থাকা একজন শীর্ষ প্রকৌশলী বদলি হওয়ার পর তাঁর দায়িত্ব হস্তান্তর, চলমান প্রকল্পের নথিপত্র, অর্থ ছাড় এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা নিয়ে স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন।

স্থানীয় কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিসিকের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বড় অঙ্কের উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে এবং এসব প্রকল্পের অর্থ ছাড় নিয়ে কিছু ঠিকাদারের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। আবার অন্যদিকে আলী আকবরের বদলি নিয়ে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে তাঁর পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং বদলির পেছনে ষড়যন্ত্রের অভিযোগও উঠে এসেছে। অর্থাৎ একই ঘটনা নিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে পরস্পরবিরোধী ব্যাখ্যাও প্রকাশিত হয়েছে।

এ অবস্থায় ব্যক্তিকেন্দ্রিক অভিযোগ বা পাল্টা অভিযোগের বাইরে গিয়ে নথিভিত্তিক তথ্য প্রকাশ করা গুরুত্বপূর্ণ। আলী আকবরের বদলির আদেশের পূর্ণাঙ্গ কপি, বগুড়ায় তাঁর নির্ধারিত পদ ও যোগদানের তথ্য, সিসিকে তাঁর দায়িত্ব হস্তান্তরের নথি এবং চলমান প্রকল্পগুলোর অর্থ ছাড়ের অবস্থান প্রকাশ করা হলে বিষয়টি অনেকটাই পরিষ্কার হতে পারে।

সিসিকের সরকারি ওয়েবসাইটে আলী আকবরের নাম এখনো ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে থাকায় প্রশাসনের কাছ থেকেও বিষয়টি দ্রুত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। বদলি কার্যকর হয়ে থাকলে সরকারি ওয়েবসাইট ও সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক নথিতে তা হালনাগাদ করা স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। আর যদি বদলি আদেশের পর কোনো পরিবর্তন বা স্থগিতাদেশ হয়ে থাকে, সেটিও জনসম্মুখে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

একজন প্রকৌশলী কত বছর কোথায় দায়িত্ব পালন করেছেন, তিনি কোন পদে ছিলেন কিংবা ভবিষ্যতে কোথায় দায়িত্ব পালন করবেন—এসব প্রশাসনিক বিষয় হলেও এর সঙ্গে যখন নগর উন্নয়ন প্রকল্প, সরকারি অর্থ এবং ঠিকাদারি কার্যক্রমের প্রশ্ন জড়িয়ে পড়ে, তখন জনস্বার্থে স্বচ্ছতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একইভাবে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে অনিয়মে জড়িত ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করাও সমীচীন নয়।

আলী আকবরকে ঘিরে বর্তমান বিতর্ক তাই শুধু তাঁর বদলি বা সিলেটে আসা-যাওয়ার বিষয় নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘদিনের কর্মস্থল, চলমান নগর উন্নয়ন প্রকল্প, দায়িত্ব হস্তান্তর এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার প্রশ্ন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সিলেট সিটি করপোরেশন এবং বগুড়া সিটি করপোরেশনের আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ পেলে এ নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তিও কমবে।

সবশেষে, তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশিত অনিয়ম, অর্থ ছাড়ে প্রভাব, ঠিকাদারদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা কিংবা ভবিষ্যতে সিসিকে ফেরার তৎপরতার অভিযোগ সত্য কি না—তা নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। প্রয়োজন হলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই হবে সবচেয়ে স্বচ্ছ পথ। একই সঙ্গে অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও স্পষ্টভাবে জানানো প্রয়োজন। এতে একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ঘিরে ব্যক্তিগত বিতর্কের পরিবর্তে প্রকৃত প্রশাসনিক তথ্যই সামনে আসবে এবং সিলেট নগরীর চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমও আরও জবাবদিহির মধ্যে পরিচালিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

রিমান্ড শেষে কারাগারে গাজী নজরুল, সামনে তদন্তের প্রশ্ন

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

আশ্বাসেও কাটেনি অচলাবস্থা, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে আন্দোলন

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

তীব্র গরমের সঙ্গে লোডশেডিং, ভোগান্তিতে সিলেট

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে তাড়াহুড়ো নয়: দীনেশ ত্রিবেদী

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বালু-পাথর উত্তোলন ও চোরাচালান বন্ধে স্মারকলিপি

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

রিমান্ড শেষে কারাগারে গাজী নজরুল, সামনে তদন্তের প্রশ্ন

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

আশ্বাসেও কাটেনি অচলাবস্থা, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে আন্দোলন

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

তীব্র গরমের সঙ্গে লোডশেডিং, ভোগান্তিতে সিলেট

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে তাড়াহুড়ো নয়: দীনেশ ত্রিবেদী

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বালু-পাথর উত্তোলন ও চোরাচালান বন্ধে স্মারকলিপি

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

চাঁদাবাজির প্রতিবাদে হাসনাত-পাটওয়ারীর ‘দানবাক্স’

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

জৈন্তাপুরে ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা, আটক ৪

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সব বয়সেই বাড়ছে হৃদরোগের ঝুঁকি

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ