প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফয়সল আমিনকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। তিনি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই এবং ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি। শুক্রবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটি ও পার্লামেন্টারি বোর্ডের বৈঠকে তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে সিদ্ধান্ত হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার আগে আরও কিছু সাংগঠনিক ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
বৈঠকে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্ব করেন। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী তিন নেতার সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয়। তাঁরা হলেন মির্জা ফয়সল আমিন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী এবং জেলা বিএনপির সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ। তিনজনই এর আগে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিয়েছিলেন।
দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মির্জা ফয়সল আমিনকে মূল প্রার্থী হিসেবে রাখার পাশাপাশি আরও একজনের মনোনয়নপত্র দাখিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে এটিকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার একটি ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ বা আরপিও অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় দলীয় মনোনয়নসংক্রান্ত নথিও দাখিল করতে হয়। পরবর্তী যাচাই-বাছাইয়ে দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হলে নতুন করে বিকল্প প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে। এ কারণেই একাধিক মনোনয়নপত্র দাখিলের কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী শুক্রবারের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের জন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৭ সেপ্টেম্বর। প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়ে পরে জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ বা ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হতে পারে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এই উপনির্বাচনের পেছনে রয়েছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর সংসদীয় আসনটি শূন্য হয়। নির্বাচন কমিশন গত ১০ সেপ্টেম্বর এই আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৭ সেপ্টেম্বর। ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। কোনো প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে চাইলে ৭ অক্টোবরের মধ্যে তা করতে হবে। এরপর ৮ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। সব প্রক্রিয়া শেষে ২৯ অক্টোবর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে কয়েক দিন ধরেই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছিল। ১৫ সেপ্টেম্বর দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পর তিনজন নেতা প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরদিন তাঁরা দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দেন। এরপর শুক্রবার রাতে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বৈঠকে তাঁদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
মির্জা ফয়সল আমিন দীর্ঘদিন ধরে ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন এবং এর আগে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র ছিলেন। দলের স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর সাংগঠনিক ভূমিকার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে তাঁর মনোনয়ন স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, একই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী ও ওবায়দুল্লাহ মাসুদও দলীয় পর্যায়ে সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত। মনোনয়ন বোর্ডের সামনে তাঁদেরও সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত একজনকে মূল প্রার্থী হিসেবে সামনে রেখে অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের অবস্থান কী হবে, তা আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর স্পষ্ট হবে।
এদিকে নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক তৎপরতাও বাড়ছে। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই এবং প্রত্যাহারের পর নির্বাচনের চূড়ান্ত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে। বর্তমানে বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা ফয়সল আমিনের নাম সামনে এলেও আনুষ্ঠানিক দলীয় ঘোষণা ও নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।
উপনির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির এই সিদ্ধান্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো একই সঙ্গে বিকল্প প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিলের পরিকল্পনা। দলের সূত্রের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নির্বাচনী আইনের বর্তমান কাঠামোতে প্রার্থিতা বাতিল হলে পরবর্তী সময়ে নতুন করে দলীয় প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ না থাকার সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কারা মনোনয়নপত্র জমা দেবেন এবং যাচাই-বাছাইয়ের পর কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন, তা নির্ধারিত হবে নির্বাচন কমিশনের প্রক্রিয়া অনুযায়ী।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন তাই এখন বিএনপির অভ্যন্তরীণ মনোনয়ন প্রক্রিয়ার পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া আসনে তাঁর পরিবারের সদস্য মির্জা ফয়সল আমিনকে সামনে আনার সিদ্ধান্ত স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণেরও জন্ম দিতে পারে। তবে ভোটের মাঠে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেমন হবে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত।
অন্যদিকে, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাদের বৈঠকের বিষয়টিও একই দিনে দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের আলোচনায় এসেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে শুক্রবার বিকেলে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বৈঠকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কয়েকজন শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন।
সব মিলিয়ে শুক্রবারের দুই বৈঠকে বিএনপির সাংগঠনিক ও নির্বাচনী তৎপরতার দুটি দিক সামনে এসেছে। একদিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া এগিয়েছে, অন্যদিকে ছাত্রদলের সাংগঠনিক বিষয় নিয়েও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আলোচনা করেছে। এখন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ক্ষেত্রে ২৫ বা ২৬ সেপ্টেম্বরের সম্ভাব্য আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, ২৭ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র জমা এবং পরবর্তী যাচাই-বাছাইয়ের দিকে রাজনৈতিক মহলের নজর থাকবে।

