লংমার্চে কোটি টাকার লোকসানের দাবি রাশেদ খানের

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চের কারণে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার লোকসান হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন এই কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মীদের বাইরে সাধারণ মানুষের উল্লেখযোগ্য আগ্রহ বা অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে না।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন রাশেদ খান। দীর্ঘ ওই পোস্টে তিনি লংমার্চের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, এতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এবং কর্মসূচির কারণে সৃষ্ট সম্ভাব্য জনভোগান্তি ও অর্থনৈতিক ক্ষতি নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

রাশেদ খান তার পোস্টে দাবি করেন, লংমার্চ ঘিরে বিরোধী দলের নেতাদের মধ্যে হতাশার ছাপ দেখা যাচ্ছে। তার ভাষ্য, জামায়াত ঘোষিত এই কর্মসূচিতে দলটির নেতাকর্মীদের বাইরে সাধারণ মানুষের তেমন আগ্রহ নেই। তিনি বলেন, আয়োজকরা রাস্তার দুই পাশে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি প্রত্যাশা করলেও বাস্তবে সেই ধরনের সাড়া পাওয়া যায়নি।

পোস্টে তিনি আরও মন্তব্য করেন, জামায়াতে ইসলামীর আমিরের গাড়ি জনতার উপচেপড়া ভিড়ের কারণে এগিয়ে যেতে পারবে—এমন প্রত্যাশা করা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। রাশেদ খানের দাবি, লংমার্চে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ করা হলেও সাধারণ মানুষকে কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট সক্ষম হয়নি।

লংমার্চের দাবিগুলোর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রাশেদ খান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও গ্যাসের বর্তমান সংকট এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত। তিনি অভিযোগ করেন, মাত্র ছয় মাসের সরকারের ওপর দীর্ঘ ১৮ থেকে ২০ বছরের সমস্যা, সংকট ও অব্যবস্থাপনার দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

রাশেদ খান তার পোস্টে আরও দাবি করেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তার মতে, এ পরিস্থিতিতে বিরোধী দলের ঘোষিত ছয় দফা দাবির প্রতি জনগণের তেমন আগ্রহ নেই। তিনি বলেন, রাস্তাঘাট বন্ধ রেখে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন এবং বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহারের কারণে জনভোগান্তির পাশাপাশি জ্বালানি সংকটও আরও তীব্র হতে পারে।

লংমার্চের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকার বিষয়টিও তার পোস্টে গুরুত্ব পেয়েছে। রাশেদ খান উল্লেখ করেন, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যান চলাচল করে। তার দাবি, লংমার্চের কারণে এসব যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হওয়ায় সেখানে দীর্ঘ সময় যান চলাচল ব্যাহত হলে এর প্রভাব বহুমুখী হতে পারে। পণ্য পরিবহন, সরবরাহব্যবস্থা, কর্মস্থলে যাতায়াত এবং আন্তঃনগর যোগাযোগে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। রাশেদ খান তার বক্তব্যে মূলত এই জনদুর্ভোগ ও অর্থনৈতিক ক্ষতির দিকটিই তুলে ধরেছেন।

তিনি আরও দাবি করেন, লংমার্চে প্রায় এক লাখ লিটার তেল অপচয় হচ্ছে। তার মতে, এমন পরিস্থিতিতে একদিকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে জ্বালানি ব্যবহারের অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। তবে তার পোস্টে উল্লেখ করা এই জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

লংমার্চের অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে রাশেদ খান বলেন, বিরোধী দলের এই কর্মসূচির কারণে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার লোকসান হবে। তার অভিযোগ, সম্পূর্ণ দলীয় স্বার্থে এবং মিথ্যাচার ও প্রতারণাকে পুঁজি করে জামায়াত জনগণের ওপর ‘লংমার্চ’ নামের একটি আন্দোলন চাপিয়ে দিয়েছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন বক্তব্য নতুন করে বিতর্ক তৈরি করতে পারে। কারণ, একদিকে বিরোধী রাজনৈতিক জোটগুলো তাদের দাবিকে জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বলে তুলে ধরছে, অন্যদিকে সরকারপক্ষের প্রতিনিধিরা কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা ও জনসম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। ফলে লংমার্চ শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং সরকারের সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মতপার্থক্যেরও প্রকাশ ঘটাচ্ছে।

১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে লংমার্চের যে দাবিগুলো সামনে আনা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। পাশাপাশি সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিও জানিয়েছে জোটটি।

এই দাবিগুলোকে কেন্দ্র করে শনিবার সকালে রাজধানীর শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশ করে ১১ দলীয় ঐক্য। সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে চট্টগ্রামের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু হয়।

কর্মসূচির নির্ধারিত রুটে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভা আয়োজনের কথা রয়েছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত যাত্রাপথে কাচপুর, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল ও মীরসরাই এলাকায় পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে। কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে জনসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে আয়োজকদের।

এদিকে লংমার্চের কারণে মহাসড়কে যান চলাচলে সম্ভাব্য বিঘ্ন এবং জনদুর্ভোগ নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি বাস্তব পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘপথের এই কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন যুক্ত হলে মহাসড়কের স্বাভাবিক চলাচলে চাপ সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রাশেদ খানের বক্তব্যের বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে বর্তমান সরকারের মেয়াদ এবং অতীতের সংকটের দায় নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক। তিনি মনে করেন, দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও গ্যাস খাতের সমস্যা স্বল্প সময়ের সরকারের ওপর এককভাবে চাপিয়ে দেওয়া সঠিক নয়। অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো এসব সংকটকে বর্তমান সরকারের নীতিগত ও প্রশাসনিক সক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে তুলে ধরছে।

ফলে লংমার্চের দাবির পাশাপাশি এর রাজনৈতিক দায়-দায়িত্ব নিয়েও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামনে এসেছে। একদিকে ১১ দলীয় ঐক্য তাদের কর্মসূচিকে জনগণের দাবি আদায়ের আন্দোলন হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে রাশেদ খান এটিকে দলীয় স্বার্থকেন্দ্রিক কর্মসূচি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

লংমার্চের বাস্তব প্রভাব কতটা পড়বে, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ কেমন হবে এবং কর্মসূচির কারণে যান চলাচল ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কী ধরনের প্রভাব তৈরি হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর আরও স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে এই কর্মসূচি বিরোধী জোটের অবস্থান কতটা শক্তিশালী করতে পারে, সেটিও নজরে থাকবে।

রাশেদ খানের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে লংমার্চকে ঘিরে সরকারের পক্ষের রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট হয়েছে। এখন কর্মসূচির আয়োজকদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের কী জবাব আসে এবং তারা তাদের দাবির পক্ষে কী ধরনের যুক্তি তুলে ধরেন, সেদিকেও নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের। সব মিলিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চকে কেন্দ্র করে রাজপথের কর্মসূচির পাশাপাশি রাজনৈতিক বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্যে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবেশ আরও সরব হয়ে উঠেছে।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্বে খলিলুর রহমান

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিসিক নির্বাচনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী ড. বাবুল

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

চাইনিজ তাইপেকে উড়িয়ে বাংলাদেশের দারুণ জয়

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ছয় দফা দাবিতে চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১ দলের লংমার্চ

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ছয় মাসে সিলেটের ক্যান্সার ইনস্টিটিউট চালুর ঘোষণা

প্রকাশ: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্বে খলিলুর রহমান

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিসিক নির্বাচনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী ড. বাবুল

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

চাইনিজ তাইপেকে উড়িয়ে বাংলাদেশের দারুণ জয়

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ছয় দফা দাবিতে চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১ দলের লংমার্চ

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ছয় মাসে সিলেটের ক্যান্সার ইনস্টিটিউট চালুর ঘোষণা

প্রকাশ: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটের ট্রিপল মার্ডার: পিবিআইতে যাচ্ছে তদন্ত

প্রকাশ: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

জাতিসংঘের আগে ভারত সফর নয় প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ