সিসিক নির্বাচনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী ড. বাবুল

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচন সামনে রেখে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ড. নূরুল ইসলাম বাবুলকে দলটির একক মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) নগরীর মদিনা মার্কেট এলাকার একটি মিলনায়তনে আয়োজিত দলের শিক্ষা শিবিরের সমাপনী অধিবেশনে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম ঘোষণা করা হয়।

দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. নূরুল ইসলাম বাবুলের নাম ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে সিলেট মহানগরীর প্রতিটি ওয়ার্ড, পাড়া ও মহল্লায় দলীয় নেতাকর্মীদের দ্রুত নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করার নির্দেশনা দেন তিনি। প্রার্থী ঘোষণার মধ্য দিয়ে সিলেটের নগর রাজনীতিতে জামায়াতের নির্বাচনী তৎপরতার আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিলেট মহানগর জামায়াতের থানা মজলিসে শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী শিক্ষা শিবিরের সমাপনী অধিবেশনে দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। পরিচালনায় ছিলেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, নগরবাসীর নাগরিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সিলেটকে একটি ইনসাফভিত্তিক, আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য মডেল নগর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই কেন্দ্র থেকে ড. নূরুল ইসলাম বাবুলকে মনোনীত করা হয়েছে। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যায়। নির্বাচনী মাঠে সংগঠনের সাংগঠনিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক গণসংযোগ জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকা ও পাড়া-মহল্লায় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে দলের প্রার্থী ও তার পরিকল্পনা তুলে ধরার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

জামায়াতের পক্ষ থেকে ড. বাবুলকে মনোনয়নের পেছনে নাগরিক অধিকার, সুশাসন, পরিচ্ছন্নতা এবং আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। দলটির নেতাদের বক্তব্যে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, নগরবাসীর দৈনন্দিন নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা, জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।

সিলেট শহরের নাগরিক জীবনে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সমস্যা আলোচনায় রয়েছে। জলাবদ্ধতা, যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কের অবস্থা, ফুটপাত দখল, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নাগরিক সেবা এবং বিভিন্ন এলাকায় অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা নগরবাসীর আলোচনার বিষয়। একটি সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচনের ক্ষেত্রে এসব সমস্যা সমাধানের বাস্তব পরিকল্পনা, আর্থিক সক্ষমতা এবং প্রশাসনিক সমন্বয় কতটা কার্যকর হবে, সেটিও ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এ কারণে ড. বাবুলের প্রার্থিতা ঘোষণার পর সামনে আসছে তার সম্ভাব্য নির্বাচনী অগ্রাধিকার নিয়েও আলোচনা। জামায়াতের নেতারা এরই মধ্যে সিলেটকে আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য তুলে ধরেছেন। তবে নির্বাচনী প্রচার আনুষ্ঠানিকভাবে আরও বিস্তৃত হলে প্রার্থী নিজে নগর উন্নয়ন, নাগরিক সেবা ও জনকল্যাণের বিষয়ে কী ধরনের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন, সেটিই ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

প্রার্থী ঘোষণার অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলেট অঞ্চল টিমের সদস্য হাফিজ আব্দুল হাই হারুন এবং মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির হাফিজ মিফতাহুদ্দীনসহ স্থানীয় নেতারা। তারা সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং নির্বাচনী প্রস্তুতিতে নেতাকর্মীদের সক্রিয় হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

জামায়াতের এই সিদ্ধান্তকে সিলেট নগর রাজনীতিতে দলটির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় নির্বাচনে দলটির প্রার্থীরা অংশ নিলেও এবার মেয়র পদে একক প্রার্থী ঘোষণা করে শুরু থেকেই নির্বাচনী মাঠে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে সংগঠনটি। ফলে অন্য রাজনৈতিক দল ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতার সঙ্গে সিলেটের নির্বাচনী পরিবেশও ধীরে ধীরে আরও সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তবে একটি মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করাই নির্বাচনের চূড়ান্ত চিত্র নির্ধারণ করে না। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অবস্থান, ভোটারদের মনোভাব, জোট বা সমঝোতার সম্ভাবনা এবং শেষ পর্যন্ত মাঠের প্রচারণা—সবকিছু মিলিয়েই প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রকৃতি নির্ধারিত হবে। তাই জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে ড. বাবুলের নাম ঘোষণাকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে নগরবাসীর আগ্রহের একটি বড় কারণ হলো স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সঙ্গে তাদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রার সরাসরি সম্পর্ক। একজন মেয়র নগরের সড়ক, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ, আলোকসজ্জা, পরিচ্ছন্নতা, নাগরিক সনদ, নগর পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন সেবা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকেন। ফলে রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি একজন প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা, প্রশাসনিক দক্ষতা, সততা এবং নাগরিক সমস্যার বাস্তব সমাধান দেওয়ার সক্ষমতাও ভোটারদের বিবেচনায় আসতে পারে।

ড. নূরুল ইসলাম বাবুল সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় কর্মকাণ্ডে তার ভূমিকার পাশাপাশি এখন তাকে নগরবাসীর কাছে সম্ভাব্য মেয়র হিসেবে নিজের রাজনৈতিক ও নাগরিক ভাবনা তুলে ধরতে হবে। নির্বাচনী প্রচারণা যত এগোবে, ততই তার ব্যক্তিগত পরিচিতি, কর্মপরিকল্পনা এবং নগর উন্নয়ন নিয়ে অবস্থান আলোচনায় আসবে।

অন্যদিকে, প্রার্থী ঘোষণার পর জামায়াতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দলীয় সাংগঠনিক শক্তিকে ভোটার পর্যায়ে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো। সিলেট নগরীতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বসবাস। এখানে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী, পেশাজীবী, তরুণ ভোটার এবং প্রবাসী পরিবারের সদস্যদের বড় একটি অংশ রয়েছে। প্রত্যেক শ্রেণির মানুষের নাগরিক প্রত্যাশাও আলাদা। ফলে নির্বাচনী প্রচারণায় বিস্তৃত নগরবাসীর কাছে গ্রহণযোগ্য বার্তা পৌঁছানো প্রার্থীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এ টি এম আজহারুল ইসলামের ঘোষণার পর দলটির স্থানীয় পর্যায়ে যে নির্বাচনী তৎপরতার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়ন হলে শিগগিরই ওয়ার্ডভিত্তিক প্রচারণা দৃশ্যমান হতে পারে। তবে নির্বাচনী আচরণবিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনেই রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

সিলেটের নগর রাজনীতিতে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী হিসেবে ড. নূরুল ইসলাম বাবুলের নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে আসন্ন সিটি নির্বাচন ঘিরে নতুন সমীকরণের সূচনা হলো। এখন তার সামনে রয়েছে দলীয় সমর্থনকে নগরবাসীর ভোটে রূপ দেওয়ার চ্যালেঞ্জ। আর ভোটারদের সামনে থাকবে প্রার্থীদের মধ্যে তুলনা করে নগরের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার সুযোগ।

সব মিলিয়ে ড. বাবুলের প্রার্থিতা ঘোষণা সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আগামী দিনগুলোতে অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান স্পষ্ট হলে নির্বাচনী মাঠের চিত্র আরও পরিষ্কার হবে। শেষ পর্যন্ত কে নগরবাসীর আস্থা অর্জন করতে পারবেন, তা নির্ধারণ করবে ভোটারদের সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সামগ্রিক পরিবেশ।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

লংমার্চে কোটি টাকার লোকসানের দাবি রাশেদ খানের

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্বে খলিলুর রহমান

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

চাইনিজ তাইপেকে উড়িয়ে বাংলাদেশের দারুণ জয়

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ছয় দফা দাবিতে চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১ দলের লংমার্চ

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ছয় মাসে সিলেটের ক্যান্সার ইনস্টিটিউট চালুর ঘোষণা

প্রকাশ: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

লংমার্চে কোটি টাকার লোকসানের দাবি রাশেদ খানের

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্বে খলিলুর রহমান

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

চাইনিজ তাইপেকে উড়িয়ে বাংলাদেশের দারুণ জয়

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ছয় দফা দাবিতে চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১ দলের লংমার্চ

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

ছয় মাসে সিলেটের ক্যান্সার ইনস্টিটিউট চালুর ঘোষণা

প্রকাশ: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটের ট্রিপল মার্ডার: পিবিআইতে যাচ্ছে তদন্ত

প্রকাশ: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

জাতিসংঘের আগে ভারত সফর নয় প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ