প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা পাঁচ দিন বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এমন তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার থেকে আগামী বুধবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন বিভাগে কমবেশি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির প্রবণতা তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। এর পাশাপাশি দেশের অন্যান্য বিভাগেও বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায়ও একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। বৃষ্টির কারণে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমে আসতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
রোববারও বৃষ্টির এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে। এদিন সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
সোমবারও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকবে। এদিন রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। রাজশাহী, খুলনা ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে। তবে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও বৃষ্টির প্রবণতা থাকবে। রংপুর, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে। এদিনও সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
বুধবারের পূর্বাভাসেও একই ধরনের আবহাওয়ার কথা বলা হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এদিনও সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
টানা কয়েক দিন বৃষ্টির এই পূর্বাভাসের কারণে দেশের জনজীবনে এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে নগরাঞ্চলে ভারি বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। নিম্নাঞ্চল ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা দুর্বল এমন এলাকাগুলোতে বৃষ্টির পানি জমে সাময়িক দুর্ভোগ সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে গ্রামীণ এলাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাটে কাদা ও পানি জমার পাশাপাশি কৃষিকাজেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় বাইরে চলাচলের ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন। বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, নদী বা জলাশয়ের কাছাকাছি অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রেও আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে হঠাৎ দমকা হাওয়া শুরু হলে ছোট নৌযান ও স্থানীয় নৌযানগুলোকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।
বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা থাকলেও আর্দ্রতার কারণে অনেক এলাকায় ভ্যাপসা অনুভূতি থাকতে পারে। দিনের বিভিন্ন সময়ে বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়া এবং বজ্রপাতের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফলে আবহাওয়ার পরিবর্তন সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ রাখা জরুরি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু মোটামুটি সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি বায়ু মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে একই সময়ে দেশের একেক অঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণে পার্থক্য দেখা দিতে পারে। কোথাও হালকা বৃষ্টি হলেও অন্য কোনো এলাকায় ভারি বর্ষণ হতে পারে। আবার অল্প সময়ের মধ্যে বৃষ্টির তীব্রতা বেড়ে দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
আবহাওয়ার এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, পথচারী ও দূরপাল্লার যাত্রীদের বৃষ্টির সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে চলাচলের প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে কৃষক ও মাঠপর্যায়ে কাজ করা মানুষের জন্যও স্থানীয় আবহাওয়ার পূর্বাভাস গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি থাকায় পাহাড়ি ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের স্থানীয় পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা জরুরি। টানা বৃষ্টির ফলে কোথাও কোথাও পাহাড়ি ঢল, জলাবদ্ধতা কিংবা সাময়িক পানি বৃদ্ধির মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত সতর্কতা নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক দিন ধরে বৃষ্টির প্রবণতা থাকলেও সব এলাকায় একই মাত্রায় বৃষ্টি হবে না। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী পাঁচ দিনে বিভিন্ন বিভাগে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকার পাশাপাশি কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণ হতে পারে। ফলে পরিস্থিতি অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটতে পারে।
সব মিলিয়ে শনিবার থেকে আগামী বুধবার পর্যন্ত দেশের আকাশে বৃষ্টির প্রবণতা বজায় থাকার আভাস মিলেছে। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় এই সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি বিচ্ছিন্নভাবে ভারি বর্ষণও হতে পারে। আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

