অবসান হবে দীর্ঘ ভোগান্তির, বিয়ানীবাজারে সড়ক উন্নয়ন শুরু

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

দীর্ঘদিনের ভোগান্তি, খানাখন্দ আর জরাজীর্ণ সড়কের দুর্ভোগ থেকে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা বিয়ানীবাজারবাসীর জন্য এলো স্বস্তির খবর। সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বিয়ানীবাজার-সারপার বাজার-গজুকাটা সীমান্ত সড়কের উন্নয়নকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। প্রায় ৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সড়ক উন্নয়নের যাত্রা শুরু হলো।

সোমবার বাদ জোহর সারপার বাজার এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকার মানুষের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল এই সড়কের উন্নয়ন। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সড়কটির বিভিন্ন অংশে প্রশস্তকরণ, শক্তিশালীকরণ ও পুনর্বাসনের কাজ করা হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের কষ্ট কমবে এবং সীমান্ত এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা আরও উন্নত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রায় ২১ দশমিক ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি বিয়ানীবাজার উপজেলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যোগাযোগপথ। সড়কটি উপজেলার মুড়িয়া ও দুবাগ ইউনিয়নের ওপর দিয়ে সারপার বাজার ও গজুকাটা সীমান্ত এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন চলাচলের পাশাপাশি এই সড়ক দিয়ে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক, রোগী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন।

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কটির বিভিন্ন অংশের অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছিল। কোথাও তৈরি হয়েছিল বড় বড় গর্ত, কোথাও পিচ উঠে গিয়ে মাটির স্তর বেরিয়ে পড়েছিল। বর্ষা মৌসুমে এসব গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করত। যানবাহন চলাচলের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা যেমন বাড়ত, তেমনি যাত্রী ও চালকদেরও পোহাতে হতো চরম দুর্ভোগ।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়কটি শুধু একটি সাধারণ আঞ্চলিক সড়ক নয়; সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের জীবন ও অর্থনীতির সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। সড়কের দুরবস্থার কারণে কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া, ব্যবসায়িক পণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এবং জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও নানা সমস্যা দেখা দিত।

বিশেষ করে বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠত। দীর্ঘ সময় ধরে সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয়রা। নানা সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও দাবি জানানো হলেও স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছিল। এবার প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হওয়ায় সেই অপেক্ষার অবসানের আশা করছেন তারা।

প্রকল্পের আওতায় সড়কটি প্রশস্তকরণ, পুনর্নির্মাণ, শক্তিশালীকরণ ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী যোগাযোগব্যবস্থায় রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো প্রকল্পটি একসঙ্গে বাস্তবায়ন না করে তিনটি ধাপে পর্যায়ক্রমে কাজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে, অন্যদিকে পুরো সড়ক একসঙ্গে বন্ধ করে দিয়ে জনসাধারণের চলাচলে বড় ধরনের সংকট তৈরির ঝুঁকিও কমবে।

এই সীমান্ত সড়কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর কৌশলগত গুরুত্ব। সড়কটি সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় বিজিবির ক্যাম্প ও সীমান্ত নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যাতায়াতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে উন্নত সড়ক যোগাযোগ শুধু সাধারণ মানুষের চলাচল সহজ করবে না, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনাতেও সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সড়ক যোগাযোগ উন্নত হলে সীমান্তবর্তী এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি আসতে পারে। স্থানীয় কৃষকরা উৎপাদিত পণ্য দ্রুত বাজারে নিতে পারবেন। ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহন সহজ হবে। শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের যাতায়াতের সময় কমবে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে ছোট ব্যবসা ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিয়ানীবাজারের মানুষের কাছে এই সড়ক তাই কেবল ইট-পাথর ও পিচের একটি অবকাঠামো নয়। এটি তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। সড়কটির উন্নয়ন হলে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জেলা ও উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী জনপদের মানুষের নাগরিক সেবাপ্রাপ্তির সুযোগও বাড়তে পারে।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সিলেট জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন খান, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শেখ আজিমুর রশীদ, উপজেলা প্রকৌশলী দিপক কুমার দাস, উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম ও আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, সমাজসেবক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয়দের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা এবং নির্মাণকাজে গুণগত মান নিশ্চিত করা। অতীতে বিভিন্ন সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে কাজের মান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়া এবং সংস্কারের পর দ্রুত সড়ক নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ থাকায় এবারও স্থানীয়দের নজর থাকবে প্রকল্পের বাস্তবায়নের দিকে।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তদারকি করবে এবং নির্মাণকাজে নির্ধারিত মান বজায় রাখা হবে। একই সঙ্গে নির্মাণকাজ চলাকালে স্থানীয় মানুষের চলাচল যাতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বহু বছর ধরে সড়কটির দুরবস্থা তাদের দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তুলেছিল। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া কিংবা জরুরি সময়ে যানবাহন চলাচলে সড়কের অবস্থা বড় সমস্যা তৈরি করত। এখন উন্নয়নকাজ শুরু হওয়ায় তাদের মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে।

সারপার বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছেও সড়ক উন্নয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভালো সড়ক হলে পণ্য পরিবহনের সময় ও খরচ কমতে পারে। এতে ব্যবসার পরিধি বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাজারগুলোর ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষিপ্রধান এলাকার উৎপাদকরাও তাদের পণ্য তুলনামূলক সহজে বাজারজাত করার সুযোগ পাবেন।

শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও উন্নত সড়ক যোগাযোগ বড় পরিবর্তন আনতে পারে। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে উপজেলা বা শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বর্তমানে যে সময় ও ঝুঁকি রয়েছে, সড়ক উন্নত হলে তা অনেকটাই কমে আসতে পারে। একইভাবে চাকরিজীবী ও সাধারণ যাত্রীদের দৈনন্দিন যাতায়াতও সহজ হবে।

সব মিলিয়ে প্রায় ৪৭ কোটি টাকার এই সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পকে বিয়ানীবাজারের সীমান্তবর্তী এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর অবশেষে সড়কের উন্নয়নকাজ শুরু হওয়ায় তাদের প্রত্যাশা, এবার একটি টেকসই ও আধুনিক সড়ক নির্মাণ হবে।

তবে প্রকল্পের সফলতা নির্ভর করবে শুধু কাজ শুরু হওয়ার ওপর নয়, বরং তা কতটা মানসম্মতভাবে এবং নির্ধারিত সময়ে শেষ করা যায় তার ওপর। স্থানীয়দের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর তদারকি ও নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। উন্নত সড়ক যোগাযোগের মাধ্যমে বিয়ানীবাজারের সীমান্তবর্তী মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে, বাড়বে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি—এমন প্রত্যাশাই এখন এলাকাবাসীর।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবকের লাশ ৩৬ ঘণ্টা পর হস্তান্তর

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

এমপির সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগে ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিসিটিভিতে ধরা পড়ার পর প্রত্যাহার সেই এসআই

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

আফগানিস্তানের জয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত বাংলাদেশেরও

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

হামে সিলেট বিভাগে সর্বোচ্চ মৃত্যু সুনামগঞ্জে

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবকের লাশ ৩৬ ঘণ্টা পর হস্তান্তর

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

এমপির সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগে ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিসিটিভিতে ধরা পড়ার পর প্রত্যাহার সেই এসআই

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

আফগানিস্তানের জয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত বাংলাদেশেরও

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

হামে সিলেট বিভাগে সর্বোচ্চ মৃত্যু সুনামগঞ্জে

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

প্রশিক্ষক সংকটে সিলেটের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

হামে বিপর্যস্ত সিলেট বিভাগ, এক বছরে ১২৮ মৃত্যু

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

এশিয়া থেকে সরছে না যুক্তরাষ্ট্র, আরও শক্ত অবস্থানে পেন্টাগন

প্রকাশ:১০ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ