প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেটের বেকার ও কর্মপ্রত্যাশী তরুণদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে দক্ষতা অর্জনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত কর্মবাজারের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেও এসেছে প্রযুক্তিনির্ভরতার ছোঁয়া। যুবসমাজের আগ্রহকে গুরুত্ব দিয়ে যুক্ত হয়েছে ফ্রিল্যান্সিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক প্রশিক্ষণ। প্রশিক্ষণ নিয়ে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা হওয়া কিংবা চাকরির বাজারে প্রবেশের আগ্রহও বাড়ছে সিলেটের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে।
কিন্তু যে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করে আসছে, সেই প্রতিষ্ঠানেই এখন বড় সংকট দেখা দিয়েছে। প্রশিক্ষণের চাহিদা বাড়লেও কমছে প্রশিক্ষণের সুযোগ। জনবল সংকট, প্রশিক্ষকের অভাব এবং বিভিন্ন কারণে ৩১টি ট্রেড বা প্রশিক্ষণ ক্যাটাগরির মধ্যে ২৩টিই বর্তমানে বন্ধ অথবা অনিয়মিত অবস্থায় রয়েছে। চালু থাকা কয়েকটি ট্রেডও চলছে প্রয়োজনের তুলনায় কম জনবল নিয়ে। ফলে একদিকে প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী যুবকের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে সংকুচিত হচ্ছে তাদের জন্য দক্ষতা অর্জনের সুযোগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮১ সালে সিলেটসহ দেশের ছয়টি জেলায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে ৩১টি ট্রেড বা ক্যাটাগরিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তিন থেকে ছয় মাস মেয়াদি আবাসিক ও অনাবাসিক এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বহু যুবক-যুবতী নিজেদের কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করেছেন। কেউ প্রশিক্ষণ নিয়ে উদ্যোক্তা হয়েছেন, কেউ চাকরি পেয়েছেন, আবার কেউ বিদেশে গিয়ে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে কাজের সুযোগ পেয়েছেন।
সিলেটের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রায় সাড়ে ৩০ হাজার যুবক-যুবতী প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বিপুলসংখ্যক তরুণের জন্য এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুধু একটি সরকারি প্রকল্প নয়, বরং কর্মজীবনে প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে কাজ করেছে। বিশেষ করে কারিগরি ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অনেকে স্বল্প পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করার সুযোগ পেয়েছেন।
তবে সময়ের সঙ্গে প্রশিক্ষণের চাহিদা পরিবর্তিত হলেও সব ট্রেডকে সমানভাবে সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে সিলেট বিভাগীয় অফিসের আওতায় কয়েকটি ট্রেডে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে তিন মাস মেয়াদি আবাসিক প্রশিক্ষণের আওতায় গবাদিপশু পালন, হাঁস-মুরগি পালন, প্রাথমিক চিকিৎসা, মৎস্য চাষ ও কৃষি প্রশিক্ষণ রয়েছে। পাশাপাশি ছয় মাস মেয়াদি কম্পিউটার বেসিক ও আইসিটি অ্যাপ্লিকেশন, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড হাউস ওয়্যারিং, ইলেকট্রনিক্স, রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং এবং মোবাইল ভ্যানের মাধ্যমে কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং প্রশিক্ষণও পরিচালিত হচ্ছে। এর বাইরে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং ও এআই প্রশিক্ষণও চালু রয়েছে।
পিপিপি ভিত্তিক ফ্রিল্যান্সিং ও এআই প্রশিক্ষণ সিলেট নগরীর চৌহাট্টায় সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন ভোলানন্দ নৈশ বিদ্যালয় ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। অন্য প্রশিক্ষণগুলোর কার্যক্রম চলছে নগরীর টিলাগড়-আলুরতল এলাকায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কমপ্লেক্সে।
তবে চালু থাকা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেও রয়েছে জনবল সংকট। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ছয়টি ট্রেডের প্রতিটিতে দুইজন করে প্রশিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে একজন করে প্রশিক্ষক দিয়ে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। ফলে কোনো প্রশিক্ষক ছুটিতে গেলে, অসুস্থ হলে কিংবা অন্য কোনো কারণে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্ট ট্রেডের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। দীর্ঘমেয়াদে এই সংকট প্রশিক্ষণের মান ও ধারাবাহিকতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রশিক্ষকের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেড বন্ধ রয়েছে। এসব ট্রেডের মধ্যে রয়েছে পোশাক তৈরি, মৎস্য চাষ, মডার্ন অফিস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন, টুরিস্ট গাইড, সেলসম্যানশিপ, ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ, হাউসকিপিং, বিউটিফিকেশন, মোবাইল সার্ভিসিং অ্যান্ড রিপেয়ারিং, আত্মকর্মী থেকে উদ্যোক্তা উন্নয়ন, হস্তশিল্প ও পাটজাতপণ্য, ওয়েলডিং, নেটওয়ার্কিং, ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট, ইয়ুথ কিচেন, ইলেকট্রিক অ্যান্ড হাউস ওয়্যারিং অ্যান্ড সোলার সিস্টেম, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ফ্রন্ট ডেস্ক ম্যানেজমেন্ট, মাশরুম চাষ, ক্যাটারিং, কৃষি ও হার্টিকালচার এবং ওয়েব ডিজাইন।
এই তালিকায় এমন অনেক প্রশিক্ষণ রয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে সরাসরি কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ জড়িত। বিশেষ করে মোবাইল সার্ভিসিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, নেটওয়ার্কিং, ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট, হাউসকিপিং ও ইলেকট্রিক্যাল কাজের মতো দক্ষতার চাহিদা দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও রয়েছে। ফলে এসব প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকায় আগ্রহী তরুণদের বিকল্প প্রতিষ্ঠান বা বেসরকারি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের দিকে যেতে হচ্ছে।
বন্ধ হয়ে যাওয়া ট্রেডগুলোর মধ্যে পোশাক তৈরির প্রশিক্ষণ ছিল অন্যতম জনপ্রিয়। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এই ট্রেডে ৪ হাজার ৪৫ জন প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি বন্ধ হয়ে যায়। পোশাক তৈরির মতো প্রশিক্ষণ একজন তরুণ বা তরুণীকে শুধু চাকরির জন্য প্রস্তুত করে না, বরং অল্প পুঁজি দিয়ে নিজস্ব উদ্যোগে কাজ শুরু করার সুযোগও তৈরি করে। বিশেষ করে নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রশিক্ষণের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বন্ধ থাকা সব ট্রেডকে স্থায়ীভাবে বন্ধ বলা ঠিক হবে না। কিছু ট্রেডকে বিশেষ প্রশিক্ষণ ট্রেড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এসব ট্রেডে সারা বছর নিয়মিত প্রশিক্ষণ না থাকলেও বছরে এক বা দুইটি ব্যাচ পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। অর্থাৎ কিছু প্রশিক্ষণ প্রকল্পের কার্যক্রম চাহিদা, প্রকল্প কাঠামো ও জনবল পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে পর্যায়ক্রমে পরিচালিত হয়।
সিলেটের ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মতে, বর্তমান সময়ে বেকারত্ব কমাতে দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। বিশেষ করে তরুণ জনগোষ্ঠীকে জনশক্তিতে পরিণত করতে সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আবদুল জব্বার জলিল বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে বেকারত্ব দূর করতে হবে এবং জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে।
তার মতে, সিলেটের যুবসমাজকে আত্মনির্ভরশীল করতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। অফিস ম্যানেজমেন্ট, হাউসকিপিং, মোবাইল সার্ভিসিং অ্যান্ড রিপেয়ারিং, নেটওয়ার্কিং, ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট, ইলেকট্রিক অ্যান্ড হাউস ওয়্যারিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ফ্রন্ট ডেস্ক ম্যানেজমেন্ট ও ওয়েব ডিজাইনের মতো প্রশিক্ষণ পুনরায় চালু করা গেলে তরুণরা দেশে উদ্যোক্তা হওয়ার পাশাপাশি বিদেশে গিয়েও দক্ষ জনশক্তি হিসেবে মূল্যায়িত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সিলেটের উপপরিচালক মো. আবদুর রউফ শাহ্ স্বীকার করেছেন, প্রশিক্ষণের প্রতি সিলেটের যুবসমাজের আগ্রহ আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে প্রশিক্ষক সংকট রয়েছে। প্রতিটি ট্রেডে দুইজন করে প্রশিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে একজন করে প্রশিক্ষক দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, শুধু প্রশিক্ষক নয়, মাঠপর্যায়ের জনবল সংকটও রয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় একজন করে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এবং তিনজন সহকারী কর্মকর্তার পদ থাকার কথা থাকলেও অনেক পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। ফলে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে যুবকদের সঙ্গে যোগাযোগ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনাতেও জনবল সংকটের প্রভাব পড়ছে।
তবে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক যুবক-যুবতী আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন বলে জানান তিনি। অনেকে নিজের কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছেন। আবার প্রশিক্ষণের সার্টিফিকেট ব্যবহার করে অনেকে সরকারি-বেসরকারি চাকরিতেও প্রবেশ করেছেন।
বর্তমান বিশ্বে কর্মসংস্থানের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল মার্কেটিং, ফ্রিল্যান্সিং, তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতার গুরুত্ব প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সেই বাস্তবতায় সিলেটের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে এআই ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের মতো আধুনিক প্রশিক্ষণ যুক্ত হওয়া ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু নতুন প্রশিক্ষণ যুক্ত করার পাশাপাশি পুরোনো কার্যকর ও কর্মমুখী ট্রেডগুলোকে জনবল সংকটের কারণে হারিয়ে যেতে দেওয়া হলে সামগ্রিক দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমে ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
সিলেটের তরুণদের জন্য যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর দীর্ঘদিন ধরে অনেকটা ‘কর্মসংস্থান ফ্যাক্টরি’র মতো কাজ করে আসছে। এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বহু তরুণ নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন, কেউ উদ্যোক্তা হয়েছেন, কেউ চাকরি পেয়েছেন, কেউবা বিদেশে দক্ষ কর্মী হিসেবে পাড়ি জমিয়েছেন। কিন্তু সেই ‘ফ্যাক্টরি’র উৎপাদন সক্ষমতা যদি প্রশিক্ষক ও জনবল সংকটে ক্রমেই কমতে থাকে, তাহলে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়বে কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় থাকা তরুণ প্রজন্ম।
তাই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রশিক্ষণের ধরন আধুনিক করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষক নিয়োগ, শূন্য পদ পূরণ, বন্ধ থাকা চাহিদাসম্পন্ন ট্রেড পুনরায় চালু এবং প্রশিক্ষণের মান নিশ্চিত করার দিকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে কোন ট্রেডে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বেশি চাহিদা রয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের নিয়মিত মূল্যায়নও প্রয়োজন।
বেকারত্ব কমিয়ে তরুণদের আত্মনির্ভরশীল করার লক্ষ্য বাস্তবায়নে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। সিলেটের যুবসমাজ সেই সুযোগ নিতে আগ্রহী—প্রয়োজন শুধু পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরি করা। জনবল সংকট কাটিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত ও যুগোপযোগী করা গেলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর আবারও সিলেটের হাজারো তরুণের জন্য কর্মসংস্থানের কার্যকর দরজা খুলে দিতে পারে।


