প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে আফগানিস্তানের ৩ উইকেটের জয় শুধু সিরিজের সমীকরণই বদলে দেয়নি, এই জয়ের সঙ্গে নিশ্চিত হয়েছে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সরাসরি অংশগ্রহণও। আফগানিস্তানের জয়ে বিশ্বকাপের সরাসরি টিকিট নিশ্চিত হয়েছে তাদের নিজেদের, পাশাপাশি র্যাংকিংয়ের সমীকরণে বাংলাদেশের অবস্থানও নিরাপদ হয়েছে।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে জয় তুলে নিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে আফগানিস্তান। একই সঙ্গে নির্ধারিত কাট-অফ তারিখের র্যাংকিং সমীকরণে তারা এমন অবস্থানে পৌঁছেছে, যেখান থেকে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা নিশ্চিত হয়েছে।
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায়। এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেবে ১৪টি দল। এর মধ্যে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের জায়গা আগে থেকেই নিশ্চিত। বাকি দলগুলোর মধ্যে নির্ধারিত সময়ের র্যাংকিং অনুযায়ী শীর্ষ দলগুলো সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা পাবে।
বিশ্বকাপের সরাসরি যোগ্যতা অর্জনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কাট-অফ তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর। ওই সময়ের র্যাংকিং অনুযায়ী শীর্ষ আট দলের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা থাকায় নবম অবস্থানে থাকা দলও সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। আর সেই নবম স্থানের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটিই ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।
আফগানিস্তানের জয়ের ফলে এই হিসাব আরও পরিষ্কার হয়েছে। তাদের জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে থাকা সম্ভাবনাকেও কার্যত শেষ করে দিয়েছে। ফলে বাংলাদেশকে আর র্যাংকিংয়ের নিচের দিকের দলগুলোর ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে না।
বাংলাদেশের জন্য এটি স্বস্তির খবর। কারণ দীর্ঘ সময় ধরেই ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা করে নেওয়ার জন্য র্যাংকিংয়ের হিসাব-নিকাশ নিয়ে আলোচনা চলছিল। ওয়ানডে ক্রিকেটে সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার জন্য প্রতিটি ম্যাচ ও প্রতিটি র্যাংকিং পয়েন্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তানের একটি জয় বাংলাদেশের সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাল।
২০২৭ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যোগ দেবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, আফগানিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের সঙ্গে। অর্থাৎ বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার জন্য বাংলাদেশকে এবার আর বাছাইপর্বের কঠিন পরীক্ষায় নামতে হবে না।
আফগানিস্তানের জন্যও এই অর্জন কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। একসময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তুলনামূলক নতুন দল হিসেবে পরিচিত আফগানিস্তান এখন নিয়মিতভাবে বড় দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। বিশেষ করে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তাদের পারফরম্যান্স ধারাবাহিকভাবে উন্নত হয়েছে। বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা নিশ্চিত করা সেই উন্নতিরই আরেকটি বড় প্রমাণ।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে আফগানিস্তানকে অবশ্য সহজ জয় পেতে হয়নি। আগে ব্যাট করে আয়ারল্যান্ড ২০৬ রান সংগ্রহ করে। জবাবে আফগানিস্তান ৭ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য অতিক্রম করে। ৩ উইকেটের এই জয় আফগানিস্তানের জন্য সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করার পথও তৈরি করে দেয়।
অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। র্যাংকিংয়ে দশম অবস্থানে থাকা দলটির হাতে কাট-অফ তারিখের আগে ভারতের বিপক্ষে আরও দুটি ওয়ানডে রয়েছে। কিন্তু ওই দুই ম্যাচ জিতলেও নবম অবস্থানে উঠে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ নেই তাদের। ফলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো নয়, বরং ধারাবাহিকভাবে বাছাইপর্বের কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ক্যারিবীয় দলটি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে হতাশার। একসময় বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি ছিল তারা। কিন্তু ২০২৩ সালের বিশ্বকাপেও সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি দলটি। বাছাইপর্বে অংশ নিয়ে সুপার সিক্স পর্বে প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় প্রথমবারের মতো কোনো ওয়ানডে বিশ্বকাপে দর্শক হয়ে থাকতে হয়েছিল তাদের।
এবারও সেই বাছাইপর্বের পথেই হাঁটতে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। তবে বিশ্বকাপে যাওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়নি। বাছাইপর্বের কাঠামো অনুযায়ী চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা পাবে। এরপর দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে থাকা দলগুলো ‘সুপার সিরিজ’ পর্যায়ে খেলবে। সেখানে সেরা দলটিরও বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
বাংলাদেশের জন্য সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত হওয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বাছাইপর্ব এড়িয়ে সরাসরি মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাওয়ায় এখন দলটির সামনে প্রস্তুতির জন্য আরও বেশি সময় থাকবে। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে ভালো করতে হলে শুধু যোগ্যতা অর্জন করাই যথেষ্ট নয়; দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, খেলোয়াড়দের ফর্ম, দলীয় ভারসাম্য এবং কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ।
দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার কন্ডিশনও বাংলাদেশের জন্য আলাদা চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তাই সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার আনন্দের পাশাপাশি এখন থেকেই পরিকল্পিত প্রস্তুতির দিকে মনোযোগ দিতে হবে বাংলাদেশকে।
আফগানিস্তানের জয় বাংলাদেশের জন্য যেন পরোক্ষ এক বিজয়ও বয়ে এনেছে। মাঠে বাংলাদেশ খেলেনি, কিন্তু আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আফগানিস্তানের প্রতিটি রান ও উইকেটের সঙ্গে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভাগ্যের সমীকরণও বদলেছে। শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তানের জয় নিশ্চিত করেছে এমন একটি খবর, যার অপেক্ষায় ছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা।
২০২৭ সালের বিশ্বকাপ এখন বাংলাদেশের জন্য আর কোনো অনিশ্চিত সম্ভাবনা নয়; এটি নিশ্চিত বাস্তবতা। সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার পর এখন বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় কাজ হবে এই সুযোগকে কাজে লাগানো। বিশ্বকাপের মঞ্চে শুধু অংশগ্রহণ নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট উপহার দেওয়াই হবে পরবর্তী লক্ষ্য।


