প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সুনামগঞ্জের দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম সিলেট রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। অধিকহারে মামলা নিষ্পত্তি, নিয়মিত মামলার আসামি গ্রেপ্তার এবং চোরাচালান পণ্য উদ্ধারে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমান তাঁর হাতে সম্মাননাপত্র তুলে দেন।
সিলেট রেঞ্জ পুলিশের মাসিক কর্মমূল্যায়নের অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মামলার তদন্ত ও নিষ্পত্তি, পলাতক আসামি গ্রেপ্তার, মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান এবং সার্বিক প্রশাসনিক দক্ষতার ভিত্তিতে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় জুলাই-২০২৬ মাসের কার্যক্রম পর্যালোচনা শেষে দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আমিনুল ইসলামকে সিলেট রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে মনোনীত করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসে দিরাই থানা এলাকায় বিচারাধীন ও নিয়মিত মামলার নিষ্পত্তিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারেও সফলতা দেখিয়েছে থানা পুলিশ। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ পণ্য উদ্ধারে পরিচালিত অভিযানে দিরাই থানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এসব কার্যক্রমের সামগ্রিক মূল্যায়নের ভিত্তিতেই এই স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে।
সিলেট রেঞ্জ পুলিশের কর্মকর্তারা মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমন এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থানাভিত্তিক কার্যকর নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন অফিসার ইনচার্জের দক্ষতা শুধু থানার প্রশাসনিক কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তদন্তের গতি বৃদ্ধি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ, জনসাধারণের সঙ্গে সমন্বয় এবং সেবার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের সম্মাননা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল ও কর্মমুখী হতে উৎসাহিত করে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমান পেশাগত দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে আইনানুগ ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধ দমনের পাশাপাশি জনবান্ধব পুলিশিংকে আরও কার্যকর করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা ভালো কাজ করছেন, তাদের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হলে অন্যরাও উৎসাহিত হবেন এবং কর্মদক্ষতা বাড়াতে আগ্রহী হবেন।
সম্মাননা গ্রহণের পর দিরাই থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম এ অর্জনের কৃতিত্ব থানার সব কর্মকর্তা ও সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পুলিশের দায়িত্ব এককভাবে পালন করা সম্ভব নয়। সহকর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা এবং সর্বোপরি সাধারণ মানুষের সহযোগিতার কারণেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ফল অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধ দমনে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা হাওরবেষ্টিত একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হওয়ায় এখানে বিভিন্ন ধরনের আইনশৃঙ্খলাজনিত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে মৌসুমি সময়কে কেন্দ্র করে চোরাচালান, মাদক পরিবহন, বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হয়। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দিরাই থানা ধারাবাহিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞদের মতে, মামলা নিষ্পত্তির হার বৃদ্ধি এবং তদন্তের গতি ত্বরান্বিত হলে বিচারপ্রার্থী মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে নিয়মিত আসামি গ্রেপ্তার এবং অপরাধ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার হলে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা কমে আসে। এ ধরনের কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরে ইতিবাচক প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করে এবং জনগণকেও উন্নত সেবা প্রদানে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
সিলেট রেঞ্জ পুলিশের মাসিক মূল্যায়ন কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো মাঠপর্যায়ে দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি, কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি প্রদান এবং জনসেবার মান উন্নয়ন। প্রতি মাসে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা নির্বাচন করা হয় এবং তাদের সম্মাননা দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে দায়িত্ব পালনে উৎসাহ সৃষ্টির পাশাপাশি অপরাধ দমন ও সেবার মান আরও উন্নত করার উদ্যোগ অব্যাহত রাখা হচ্ছে।
দিরাই থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলামের এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত স্বীকৃতিই নয়, বরং দিরাই থানা পুলিশের সার্বিক কর্মদক্ষতা এবং দলগত প্রচেষ্টারও একটি স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও আশা প্রকাশ করেছেন, এই সম্মাননা ভবিষ্যতে আরও জনবান্ধব পুলিশিং, দ্রুত সেবা প্রদান এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন, অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ এবং জনগণের আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে পুলিশের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ ধরনের স্বীকৃতি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিষ্ঠা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে পুলিশি সেবার মান আরও উন্নত হবে—এমন প্রত্যাশাই করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।


