প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সিলেট নগরীর যানজট নিরসন এবং সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে এক যুগান্তকারী ও জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক রাজধানী খ্যাত সিলেটবাসীর যাতায়াত আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে আম্বরখানা থেকে লাক্কাতুরা পর্যন্ত একটি নতুন আধুনিক সড়ক নির্মাণের মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো দ্রুত ক্রমবর্ধমান এই নগরীর ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপ সামলানো এবং নগরবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের একটি উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা উপহার দেওয়া। সম্প্রতি সিলেট সার্কিট হাউসে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের যৌথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাষায় জানান যে, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে সরকার সর্বদা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং এই নতুন সড়ক নির্মাণ প্রকল্প সিলেটবাসীর জন্য একটি পরম আশীর্বাদস্বরূপ হয়ে দেখা দেবে।
বৈঠকে মন্ত্রী মহোদয় দেশের অন্যতম প্রধান এই বাণিজ্যিক ও পর্যটন নগরীর সামগ্রিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং চলমান প্রকল্পগুলোর বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দিয়ে বলেন যে, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে প্রধান সড়কগুলোর নির্মাণকাজ এবং চলমান প্রকল্পসমূহ নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে। কোনো ধরনের শৈথিল্য বা কালক্ষেপণ সাধারণ মানুষ বরদাশত করবে না, তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মত কাজ বুঝিয়ে দিতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এলাকায় মোট বিয়াল্লিশটি ওয়ার্ড রয়েছে এবং এই বিস্তৃত ওয়ার্ডগুলোর সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্যই বর্তমান সরকার একাধিক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এসব বহুমুখী প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সিলেট শহর কেবল দেখতেই সুন্দর হবে না, বরং এটি একটি অধিকতর আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও সুশৃঙ্খল নগরীতে রূপান্তরিত হবে। একই সঙ্গে এই নানামুখী উদ্যোগের মাধ্যমে শহরের দীর্ঘদিনের জটিল জলাবদ্ধতা নিরসন এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবকাঠামোসংক্রান্ত প্রধান প্রধান সমস্যার স্থায়ী সমাধান ত্বরান্বিত হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে নগরীর অন্যতম প্রধান অভিশাপ হিসেবে চিহ্নিত জলাবদ্ধতা সমস্যা নিয়েও বিশেষ আলোচনা হয় এবং এর স্থায়ী ও বিজ্ঞানসম্মত সমাধানের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বলেন যে, নগরীর জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসন করতে হলে শহরের বুক চিরে বয়ে চলা ঐতিহ্যবাহী ছড়াগুলো অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে এবং অবৈধ দখলমুক্ত করতে হবে। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে এবং আকস্মিক বন্যা ও জলাবদ্ধতা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত খাল খনন ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। পানির উৎস থেকে শুরু করে প্রধান নদী পর্যন্ত প্রাকৃতিক প্রবাহের সুষ্ঠু ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই কেবল জলাবদ্ধতার স্থায়ী ও টেকসই সমাধান সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং জলাশয়গুলোর স্বাভাবিক রূপ ফিরিয়ে এনে নগরবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
উক্ত গুরুত্বপূর্ণ যৌথ সভায় সিলেটের প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সুযোগ্য জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. নুরের জামান চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার। এছাড়াও সড়ক ও জনপথ বিভাগের বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিশিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীরা সভায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের এই সম্মিলিত উপস্থিতি ও ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস সিলেটের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে এক নতুন গতির সঞ্চার করবে বলে পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন।
সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী সমসাময়িক বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের খতিয়ান তুলে ধরেন এবং একটি বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন যে, বৃহত্তর সিলেটের সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প বর্তমানে সাফল্যের সাথে চলমান রয়েছে। এর অংশ হিসেবে সিলেট থেকে ফেঞ্চুগঞ্জ হয়ে মৌলভীবাজারগামী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি আরও প্রশস্ত ও আধুনিকায়ন করা হবে, যাতে দূরপাল্লার যাত্রীদের যাতায়াত আরও নিরাপদ ও দ্রুত হয়। এছাড়া সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি লাক্কাতুরা এবং সেখান থেকে টিবি গেট পর্যন্ত একটি নতুন বিকল্প সড়ক নির্মাণের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনাও ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। এই বিকল্প সড়কটি নির্মিত হলে বিমানবন্দরগামী যাত্রী এবং পর্যটকদের পাশাপাশি সাধারণ পথচারীদেরও দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ার দুর্ভোগ চিরতরে লাঘব হবে। সরকারের এই বহুমুখী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে সিলেটের যোগাযোগ খাবে এক অভূতপূর্ব বিপ্লব সাধিত হবে এবং পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও জনবান্ধব এক উন্নত সিলেট নগরী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।


