প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ | সময়ের সন্ধান ডেস্ক | সময়ের সন্ধান অনলাইন
সিলেট মহানগর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৩৩ বোতল কেরু কান্ট্রি লিকারসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে নগরের এয়ারপোর্ট থানার আওতাধীন তারাপুর চা-বাগান এলাকার জাহাঙ্গীর নগরের পেছনের টিলা বাগানে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে মহানগর এলাকায় মাদক সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল বৃহস্পতিবার বিকেলে তারাপুর চা-বাগান এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তাদের হেফাজত থেকে মোট ৩৩ বোতল কেরু কান্ট্রি লিকার উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন সিলেট মহানগরীর এয়ারপোর্ট থানাধীন লাক্কাতুরা চা-বাগান এলাকার বাসিন্দা রুবেন দাসের ছেলে দুলাল দাস (৩৫) এবং একই এলাকার মানিক গোয়ালার ছেলে মিঠুন গোয়ালা (২৭)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মদের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া কেরু কান্ট্রি লিকার আইনানুগ অনুমতি ছাড়া সংরক্ষণ, বহন কিংবা বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের মাদকদ্রব্য সমাজে অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি, পারিবারিক অশান্তি এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে। ফলে মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এয়ারপোর্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার টেবিল ২৪(খ)/৪১ অনুযায়ী একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলা নম্বর ২৯, তারিখ ২৩ জুলাই ২০২৬। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গ্রেফতার দুই আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।
পুলিশের দাবি, সিলেট মহানগরীতে মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান, তথ্য সংগ্রহ এবং সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারির মাধ্যমে মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। স্থানীয় জনগণকেও মাদকবিরোধী অভিযানে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো এলাকায় মাদক বিক্রি, সংরক্ষণ বা পরিবহনের তথ্য জানা থাকলে তা দ্রুত পুলিশের কাছে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং বিভিন্ন যোগাযোগপথ ব্যবহার করে অবৈধ মাদক পরিবহনের চেষ্টা প্রায়ই লক্ষ্য করা যায়। তাই গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত অভিযান এবং জনসচেতনতা—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে কার্যকর হলে মাদক নিয়ন্ত্রণে আরও ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন এবং তরুণদের সচেতন করে তোলার উদ্যোগও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, চা-বাগান ও টিলা অধ্যুষিত কিছু নির্জন এলাকায় মাঝে মধ্যে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার অভিযোগ শোনা যায়। এসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়ানো হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করেন।
উল্লেখ্য, দেশে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী অবৈধ মাদক সংরক্ষণ, পরিবহন, বিক্রি বা সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, মাদকের বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযান চলমান থাকবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া আলামত জব্দ করে আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা চক্র জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।


