বিশ্বনাথে নারী ধর্ষণ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় এক নারীকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও একজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পরপরই পুলিশ প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। তবে মামলার অন্য আসামিরা এখনও পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী নারী সিলেটের এয়ারপোর্ট থানার কালাগুল (সাহেববাজার) এলাকার বাসিন্দা। প্রয়োজনীয় কাজে ছাতক যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি দক্ষিণ সুরমার চণ্ডীপুল এলাকা থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশার চালক পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে নির্ধারিত গন্তব্যে না নিয়ে বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারি ইউনিয়নের আলমনগর গ্রামের একটি বসতবাড়িতে নিয়ে যান।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই বাড়িতে নেওয়ার পর সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি ভুক্তভোগী নারীকে জোরপূর্বক আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। ঘটনাটি ঘটে আলমনগর গ্রামের জনৈক মন্তাজ আলীর বসতঘরে। ভুক্তভোগী কোনোভাবে ঘটনাটি থেকে রক্ষা পেয়ে পরদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেন এবং বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে বিশ্বনাথ থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে হায়াতেরগাঁও গ্রামের মৃত ছিদ্দেক আলীর ছেলে গয়াছ মিয়া গেদাকে (৪৪)। এছাড়া অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন একই এলাকার হাসিব আলীর ছেলে সাইদুর রহমান (৩০), আলমনগর গ্রামের মৃত আয়না মিয়ার ছেলে আশিক মিয়া (৩০) এবং বটতলা গ্রামের ছাদ মিয়ার ছেলে আমির আলী (২৮)। মামলায় আরও একজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সাইদুর রহমানই সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ছিলেন। তিনি কৌশলে যাত্রীকে নির্ধারিত গন্তব্যের পরিবর্তে নির্জন এলাকায় নিয়ে যান। এরপর সেখানে আগে থেকে অবস্থানরত অন্যদের সহযোগিতায় সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের ঘটনা সংঘটিত হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলা দায়েরের পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে পুলিশ প্রধান আসামি গয়াছ মিয়া গেদাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়। অপরদিকে, ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার চিকিৎসা এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে একাধিক স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, মামলাটির তদন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের ঘটনায় আলামত সংগ্রহ, সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই এবং ভুক্তভোগীর মেডিকেল প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তদন্তে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে সেই অনুযায়ী মামলার পরিধিও বিস্তৃত হতে পারে।

নারীর প্রতি সহিংসতার এমন ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সচেতন মহল বলছেন, গণপরিবহন বা ভাড়ায় চলাচলের সময় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে রাতে চলাচলের ক্ষেত্রে যানবাহনের নিবন্ধন, চালকের পরিচয় এবং যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।

নারী অধিকারকর্মীরা মনে করছেন, ধর্ষণের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিচয় ও ব্যক্তিগত মর্যাদা রক্ষা, মানসিক সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তারা বলেন, এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও চিকিৎসার বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার ঘটনায় বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ভুক্তভোগীর পরিচয় প্রকাশ না করার বিধান রয়েছে। তাই নৈতিক ও আইনি দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এই সপ্তাহের খবরাখবর

বাহুবল থানার ওসি প্রত্যাহার, দায়িত্বে তদন্ত ওসি

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

দেশে ফেরা হলো না, আকাশেই থেমে গেল প্রবাসীর জীবন

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেট মহানগরীতে রথযাত্রা ঘিরে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের আহ্বান

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ জাতি স্মরণ রাখবে: সিসিক প্রশাসক

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে হামে আরও এক শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৯২

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

বিষয়বস্তু

বাহুবল থানার ওসি প্রত্যাহার, দায়িত্বে তদন্ত ওসি

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

দেশে ফেরা হলো না, আকাশেই থেমে গেল প্রবাসীর জীবন

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেট মহানগরীতে রথযাত্রা ঘিরে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের আহ্বান

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ জাতি স্মরণ রাখবে: সিসিক প্রশাসক

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সিলেটে হামে আরও এক শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৯২

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সংস্কারে ফিরবে খোজারখলা পুকুরের হারানো প্রাণ

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

প্রজন্মজুড়ে অন্ধত্ব, সংগ্রামে মৌলভীবাজারের এক পরিবার

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সুনামগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলনে কঠোর নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক ।...

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জনপ্র্যিয় পেজ