প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ । সময়ের সন্ধান ডেস্ক । সময়ের সন্ধান অনলাইন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব রথযাত্রা উপলক্ষে সিলেট মহানগরীতে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করেছে পুলিশ। শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে নগরীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানবাহন চলাচলে সাময়িক চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)। এ কারণে নগরবাসীর সাময়িক দুর্ভোগ কমাতে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে মহানগর ট্রাফিক বিভাগ।
বুধবার (১৫ জুলাই) সিলেট মহানগর ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেল ৩টা থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা উপলক্ষে নগরীতে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। ধর্মীয় এ আয়োজনে বিপুলসংখ্যক ভক্ত, দর্শনার্থী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেবেন। ফলে শোভাযাত্রার নির্ধারিত রুটে সাময়িকভাবে যান চলাচলে ধীরগতি বা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শোভাযাত্রাটি রিকাবীবাজার এলাকা থেকে শুরু হয়ে চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার, মধুবন পয়েন্ট, সিটি পয়েন্ট, ক্বীন ব্রিজ, তালতলা, মির্জাজাঙ্গাল, লামাবাজার হয়ে পুনরায় রিকাবীবাজারে পৌঁছাবে। এরপর শোভাযাত্রা ইসকন মন্দিরে গিয়ে শেষ হবে। এই পুরো রুটে ট্রাফিক পুলিশ প্রয়োজন অনুযায়ী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে, যাতে ধর্মীয় অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি জননিরাপত্তাও নিশ্চিত করা যায়।
মহানগর ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, শোভাযাত্রা চলাকালে রুটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। যানজট নিয়ন্ত্রণ, পথচারীদের নিরাপদ চলাচল এবং জরুরি যানবাহনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া ট্রাফিক পুলিশ পরিস্থিতি অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে বিকল্প রুটে যানবাহন পরিচালনার নির্দেশনা দেবে।
পুলিশ নগরবাসীকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে শোভাযাত্রার রুটে ব্যক্তিগত যানবাহন নিয়ে প্রবেশ না করার অনুরোধ জানিয়েছে। যাদের ওই সময় জরুরি কাজে নগরীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াতের প্রয়োজন হবে, তাদের আগে থেকেই বিকল্প সড়ক ব্যবহার এবং অতিরিক্ত সময় হাতে রেখে যাত্রা শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে যেমন ব্যক্তিগত দুর্ভোগ কমবে, অন্যদিকে ধর্মীয় অনুষ্ঠানও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সহজ হবে।
প্রতি বছর রথযাত্রা উপলক্ষে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হাজারো ভক্তের সমাগম ঘটে। ধর্মীয় এই শোভাযাত্রায় রথ টানা, ভক্তিমূলক সংগীত, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা আয়োজনের মাধ্যমে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এ কারণে শোভাযাত্রার সময় সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোতে সাধারণ সময়ের তুলনায় মানুষের উপস্থিতি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, বড় ধরনের ধর্মীয়, সামাজিক বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আগাম ট্রাফিক পরিকল্পনা গ্রহণ জনদুর্ভোগ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আগেভাগে নাগরিকদের অবহিত করা হলে তারা প্রয়োজন অনুযায়ী যাতায়াতের পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে পারেন, ফলে যানজট ও বিশৃঙ্খলা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।
সিলেট মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাই নয়, শোভাযাত্রার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও জনসমাগমস্থলে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকের নিরাপত্তাকর্মীরাও দায়িত্বে থাকবেন। প্রয়োজনে মোবাইল টহল দল এবং জরুরি সহায়তা টিমও প্রস্তুত থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আয়োজক, অংশগ্রহণকারী এবং সাধারণ নাগরিকদের প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করার অনুরোধও করা হয়েছে।
ট্রাফিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নগরীর রিকাবীবাজার, চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার ও ক্বীন ব্রিজ এলাকা সিলেটের সবচেয়ে ব্যস্ত বাণিজ্যিক ও যোগাযোগ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম। এসব এলাকায় অল্প সময়ের জন্যও যান চলাচল সীমিত হলে আশপাশের সড়কেও চাপ তৈরি হতে পারে। তাই বিকল্প সড়ক ব্যবহার এবং ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশনা অনুসরণ করলে নগরজুড়ে যানবাহন চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।
সিলেট মহানগর ট্রাফিক পুলিশ আশা প্রকাশ করেছে, নগরবাসীর সচেতনতা, ধৈর্য এবং সহযোগিতার মাধ্যমে রথযাত্রার শোভাযাত্রা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হবে। একই সঙ্গে জনদুর্ভোগ কমিয়ে ধর্মীয় উৎসবের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে নাগরিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখারও আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।


